Dhaka ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ওষুধের ৩ কোটি টাকা গায়েব? বান্দরবানে স্বাস্থ্য খাতে অর্থ লোপাটের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট পাঠাগারের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত সংসদে নতুন বাজেট পাস, বুধবার থেকে কার্যকর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: মির্জা ফখরুল ব্রাহ্মণপাড়ায় সাঁকো থেকে খালে পড়ে ৭ বছরের শিশু সজিবের মর্মান্তিক মৃত্যু মাধবপুরে ১৭১ তম মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস-২০২৬ উদযাপন চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ, নাগরপুরে তীব্র লোডশেডিং পাঁচ জেলায় ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি ঢাকাকে বাঁচাতে এখনই বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই: ডিসি ফরিদা খানম ফরিদপুরে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ ও গাছের চারা বিতরণ

ব্রাহ্মণপাড়ায় সাঁকো থেকে খালে পড়ে ৭ বছরের শিশু সজিবের মর্মান্তিক মৃত্যু

জিএম মাকছুদুর রহমান, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় একটি বাঁশের সাঁকো পার হওয়ার সময় অসাবধানতাবশত খালে পড়ে মো. সজিব নামের ৭ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ১ ঘণ্টার বিশেষ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের বেজুড়া পশ্চিমপাড়া শ্মশানখলা খাল থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সজিব দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের পূর্ব উত্তরপাড়া এলাকার ওজাকাজী বাড়ির মো. শরীফ মিয়ার ছেলে। ​স্থানীয়, পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে সজিবের বাবা একটি মামলার কাজে কুমিল্লা আদালতে যান এবং তার অসুস্থ মা রোজিনা বেগম ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সজিবকে তার ফুপুর বাড়িতে রেখে দাদী হাসপাতালে যান। সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সজিব ফুফুর বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে পা পিছলে সে খালে পড়ে স্রোতের তোড়ে তলিয়ে যায়। ​পরবর্তীতে তার দাদী হাসপাতাল থেকে ফিরে সজিবকে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে খালের পানিতে সজিবের একটি জুতো ভাসতে দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুনঃ  কুলাউড়ায় ৪ হাজার ৩ শত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও রাসয়নিক সার বিতরন কর্মসূচীর উদ্বোধন

 

গ্রামবাসীরা মিলে খালে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েও সজিবের কোনো সন্ধান না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে সাহায্য চান। ​খবর পেয়ে বুড়িচং ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা আতাউর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তাদের দল ঘটনাস্থলে নেমে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস চেষ্টার পর সাঁকো থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে খালের পানির নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিনের উপস্থিতিতে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ​এদিকে সজিবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন মা রোজিনা বেগম ছুটে এসে সন্তানের মরদেহ দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাঁশের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  পত্নীতলায় প্রতিবাদী ঐক্য মঞ্চের উদ্যোগে বিক্ষোভ ও সমাবেশ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ওষুধের ৩ কোটি টাকা গায়েব? বান্দরবানে স্বাস্থ্য খাতে অর্থ লোপাটের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে

ব্রাহ্মণপাড়ায় সাঁকো থেকে খালে পড়ে ৭ বছরের শিশু সজিবের মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেটের সময়: ০৬:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

জিএম মাকছুদুর রহমান, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় একটি বাঁশের সাঁকো পার হওয়ার সময় অসাবধানতাবশত খালে পড়ে মো. সজিব নামের ৭ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ১ ঘণ্টার বিশেষ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের বেজুড়া পশ্চিমপাড়া শ্মশানখলা খাল থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সজিব দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের পূর্ব উত্তরপাড়া এলাকার ওজাকাজী বাড়ির মো. শরীফ মিয়ার ছেলে। ​স্থানীয়, পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে সজিবের বাবা একটি মামলার কাজে কুমিল্লা আদালতে যান এবং তার অসুস্থ মা রোজিনা বেগম ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সজিবকে তার ফুপুর বাড়িতে রেখে দাদী হাসপাতালে যান। সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সজিব ফুফুর বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে পা পিছলে সে খালে পড়ে স্রোতের তোড়ে তলিয়ে যায়। ​পরবর্তীতে তার দাদী হাসপাতাল থেকে ফিরে সজিবকে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে খালের পানিতে সজিবের একটি জুতো ভাসতে দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুনঃ  পুষ্টি সেবার মানোন্নয়নে পত্নীতলায় এসএমসির উদ্যোগে প্রশিক্ষণ

 

গ্রামবাসীরা মিলে খালে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েও সজিবের কোনো সন্ধান না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে সাহায্য চান। ​খবর পেয়ে বুড়িচং ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা আতাউর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তাদের দল ঘটনাস্থলে নেমে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস চেষ্টার পর সাঁকো থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে খালের পানির নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিনের উপস্থিতিতে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ​এদিকে সজিবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন মা রোজিনা বেগম ছুটে এসে সন্তানের মরদেহ দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাঁশের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বৈশ্বিক মহামারী প্রভাব মোকাবেলায় সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মাঝে ১৫৬টি গরু বিতরণ করছে নারী উন্নয়ন কোরাম