Dhaka ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লামা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি:

মোঃরাসেল বিষেশ প্রতিনিধি: বান্দরবানের অত্যন্ত জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমান ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসক সংকট নিরসন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং স্টাফদের আবাসিক কোয়ার্টার সংস্কার করা না হলে এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সবচেয়ে জনবহুল ও জনগুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লামা। একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলার প্রত্যন্ত ও দুর্গমাঞ্চলে প্রায় দুই থেকে তিন লাখ মানুষের বসবাস। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার একমাত্র সরকারি আশ্রয়স্থল এই ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। ভৌগোলিক কারণে পার্শ্ববর্তী চকরিয়া ও আলীকদম উপজেলার আংশিক এলাকার দরিদ্র রোগীরাও এই হাসপাতালের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।সরেজমিনে ও স্থানীয় সচেতন মহলের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। শয্যা সংকটের কারণে অন্তর্বিভাগে ভর্তি হওয়া অনেক রোগীকে নিরুপায় হয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও প্রসূতি মায়েরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  দুই মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে: আরএমপি কমিশনার

 

হাসপাতালের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ বলেন, “লামা উপজেলা ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তীর্ণ এলাকা। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে হলে বর্তমান ৫০ শয্যার হাসপাতাল দিয়ে কোনোভাবেই চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে হবে।”

এদিকে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকেরাও স্থানীয়দের এই দাবির সাথে একমত পোষণ করেছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটিকে দ্রুত ১০০ শয্যায় উন্নীত করা অত্যন্ত জরুরি। একইসাথে প্রয়োজন নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ।

আরও পড়ুনঃ  ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার নিশ্চিতে বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হবে - অর্থমন্ত্রী

নথিপত্র ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকট চলছে। এছাড়া এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি না থাকায় সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের পক্ষে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে চড়া মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসা করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় তা জরাজীর্ণ ও বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যা কর্মরত চিকিৎসক ও স্টাফদের আবাসন সমস্যাকে আরও তীব্র করেছেন সার্বিক বিষয়ে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) বলেন, “রোগীর তুলনায় শয্যা ও চিকিৎসক সংকট থাকার বিষয়টি সত্য। প্রতিদিন ধারণক্ষমতার বাইরে গিয়ে আমাদের বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কথা বিবেচনা করে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা ঊর্ধ্বতন authority-কে হাসপাতালের সামগ্রিক সমস্যা এবং শয্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে নিয়মিত অবহিত করে আসছি। সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত বা বরাদ্দ পেলে দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ  মোংলায় মাদকের বিরুদ্ধে সাহসী লড়াইয়ে সাংবাদিক মাসুদ রানা

 

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প নেই। তাই মানবিক বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

লামা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি:

আপডেটের সময়: ১১:০১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

মোঃরাসেল বিষেশ প্রতিনিধি: বান্দরবানের অত্যন্ত জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমান ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসক সংকট নিরসন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং স্টাফদের আবাসিক কোয়ার্টার সংস্কার করা না হলে এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সবচেয়ে জনবহুল ও জনগুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লামা। একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলার প্রত্যন্ত ও দুর্গমাঞ্চলে প্রায় দুই থেকে তিন লাখ মানুষের বসবাস। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার একমাত্র সরকারি আশ্রয়স্থল এই ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। ভৌগোলিক কারণে পার্শ্ববর্তী চকরিয়া ও আলীকদম উপজেলার আংশিক এলাকার দরিদ্র রোগীরাও এই হাসপাতালের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।সরেজমিনে ও স্থানীয় সচেতন মহলের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। শয্যা সংকটের কারণে অন্তর্বিভাগে ভর্তি হওয়া অনেক রোগীকে নিরুপায় হয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও প্রসূতি মায়েরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ঠাকুরগাঁওয়ের শান্ত বণিকের লাশ উদ্ধার সিলেটের গোয়াইনঘাটে

 

হাসপাতালের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ বলেন, “লামা উপজেলা ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তীর্ণ এলাকা। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে হলে বর্তমান ৫০ শয্যার হাসপাতাল দিয়ে কোনোভাবেই চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে হবে।”

এদিকে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকেরাও স্থানীয়দের এই দাবির সাথে একমত পোষণ করেছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটিকে দ্রুত ১০০ শয্যায় উন্নীত করা অত্যন্ত জরুরি। একইসাথে প্রয়োজন নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ।

আরও পড়ুনঃ  ঠাকুরগাঁও এ প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন

নথিপত্র ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকট চলছে। এছাড়া এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি না থাকায় সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের পক্ষে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে চড়া মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসা করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় তা জরাজীর্ণ ও বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যা কর্মরত চিকিৎসক ও স্টাফদের আবাসন সমস্যাকে আরও তীব্র করেছেন সার্বিক বিষয়ে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) বলেন, “রোগীর তুলনায় শয্যা ও চিকিৎসক সংকট থাকার বিষয়টি সত্য। প্রতিদিন ধারণক্ষমতার বাইরে গিয়ে আমাদের বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কথা বিবেচনা করে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা ঊর্ধ্বতন authority-কে হাসপাতালের সামগ্রিক সমস্যা এবং শয্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে নিয়মিত অবহিত করে আসছি। সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত বা বরাদ্দ পেলে দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ  সবুজায়নের অঙ্গীকার: কেরানীগঞ্জে ইউএনও’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

 

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প নেই। তাই মানবিক বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।