Dhaka ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কোম্পানীগঞ্জে বালুর নিচে ৬২ লাখ টাকার বিদেশি মদ, সহ আটক ২ লালপুরে অবৈধ আখ মাড়াই বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান মেহেন্দিগঞ্জ পৌর ইসলামী আন্দোলনের নতুন কমিটির শপথ ও পরিচিতি সভা। ধামইরহাটে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় সেনা কর্মকর্তা সেজে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন, প্রতারক চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার নাচোলে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ৫ গুণী শিক্ষকদের সংবর্ধনা হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন: লামায় পাহাড় কেটে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা, ২৯ লাখ টাকা জরিমানা পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়ার সুরেশ্বরে নতুন করে আতঙ্ক সরকারি হাসপাতালে বিকল অবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধিকাংশ যন্ত্রপাতি মাটির চুলা থেকে কাঁসার থালা- কোথায় হারালো সেই রান্নাঘরের স্মৃতি

মাটির চুলা থেকে কাঁসার থালা- কোথায় হারালো সেই রান্নাঘরের স্মৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একসময় রান্নাঘর মানেই ছিল অন্য রকম এক জগৎ। সকালের আলো ফোটার আগেই উঠোনের এক কোণে জ্বলে উঠতো মাটির চুলা। শুকনো কাঠ, খড়কুটো কিংবা পাটকাঠিতে আগুন ধরিয়ে শুরু হতো দিনের রান্না। চুলার ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তো চারপাশে। সেই ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে থাকতো ভাতের গন্ধ, ডালের ফোড়ন আর মাটির হাঁড়িতে রান্না হওয়া তরকারির ঘ্রাণ। আজকের আধুনিক রান্নাঘরে সেই দৃশ্য প্রায় অচেনা। গ্যাসের চুলা, বৈদ্যুতিক চুলা, আধুনিক হাঁড়ি-পাতিল আর নানা ধরনের যন্ত্রপাতি রান্নার কাজকে করেছে সহজ ও দ্রুত। কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে রান্নাঘর ঘিরে থাকা অনেক স্মৃতি, ঐতিহ্য আর ঘরোয়া সংস্কৃতিও। মাটির চুলার আগুন: আগেকার দিনের রান্নাঘরের অন্যতম পরিচিত অনুষঙ্গ ছিল মাটির চুলা। মাটি দিয়ে তৈরি এই চুলায় কাঠ কিংবা খড়কুটো জ্বালিয়ে রান্না করা হতো। রান্না হতে সময় লাগতো বেশি, ধোঁয়াও হতো, কিন্তু সেই আগুনে রান্না করা খাবারের স্বাদ ও গন্ধ নিয়ে এখনও অনেকের মনে রয়ে গেছে আলাদা টান। বর্ষার দিনে ভেজা কাঠে আগুন ধরানোর চেষ্টা, চুলার পাশে বসে হাঁড়ির ঢাকনা তুলে রান্না দেখার দৃশ্য কিংবা শীতের সকালে চুলার উষ্ণতার পাশে বসে থাকা এসবই ছিল একসময়কার পারিবারিক জীবনের অংশ। মাটির হাঁড়ি-পাতিল: মাটির হাঁড়ি ছিল গ্রামীণ রান্নাঘরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ভাত, ডাল, তরকারি থেকে শুরু করে নানা ধরনের রান্না হতো মাটির পাত্রে।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজারে প্রাচীন কয়েন ও সীমানা পিলার বিক্রির নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ

 

 

 

মাটির হাঁড়িতে ধীরে ধীরে রান্না হওয়া খাবারের স্বাদ অনেকের কাছেই আজও অতুলনীয়। শুধু রান্না নয়, খাবার সংরক্ষণেও ব্যবহার করা হতো মাটির বিভিন্ন পাত্র। পানি রাখার জন্যও ছিল মাটির কলসি ও অন্যান্য পাত্র। আধুনিক ধাতব ও প্লাস্টিকের পাত্রের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সামগ্রীর ব্যবহারও কমে গেছে। পাথরের থালা-বাটি: একসময় অনেক বাড়িতে পাথরের তৈরি থালা ও বাটির ব্যবহার দেখা যেত। ভারী হওয়ায় এগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া সহজ ছিল না, কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যেত। পাথরের পাত্রে খাবার পরিবেশনের সেই দৃশ্য এখন মূলত পুরোনো দিনের স্মৃতিতেই দেখা যায়। কাঁসা-পিতলের বাসন: বাঙালি ঘরের রান্নাঘর ও খাবার টেবিলের সঙ্গে কাঁসা ও পিতলের বাসনের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। কাঁসার থালা, বাটি, গ্লাস কিংবা পিতলের নানা পাত্র ছিল বহু পরিবারের নিত্যদিনের ব্যবহার্য সামগ্রী। উৎসব, বিয়ে কিংবা বিশেষ কোনও আয়োজনে কাঁসার থালায় খাবার পরিবেশনের আলাদা মর্যাদা ছিল। নিয়মিত মেজে পরিষ্কার করে চকচকে করে রাখা হতো এসব বাসন। এখন অনেক বাড়িতে এগুলো ব্যবহার না হলেও পুরোনো আলমারি কিংবা সিন্দুকে স্মৃতি হয়ে পড়ে আছে দাদু-ঠাকুমার সময়ের সেই বাসনপত্র। কাঠের ডাল ঘুটনি: ডাল রান্নার পর সেটিকে ভালো করে ঘুটে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হতো কাঠের ডাল ঘুটনি। কাঠের তৈরি এই সাধারণ সরঞ্জামটি ছিল রান্নাঘরের খুব পরিচিত জিনিস।

আরও পড়ুনঃ  ইলিশের দামে লাফ কেজিতে বেড়েছে ৩০০ টাকা

 

 

 

 

হাতে ঘুরিয়ে ডাল ঘুটতে ঘুটতে রান্নাঘরের গল্প চলতো, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তাও হতো। আজ রান্নার আধুনিক সরঞ্জাম সেই কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে। ফলে কাঠের ডাল ঘুটনির মতো ছোট ছোট জিনিসও ধীরে ধীরে রান্নাঘর থেকে বিদায় নিয়েছে। কেন হারিয়ে গেলো সেই রান্নাঘর? সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে। পরিবারের সদস্যদের ব্যস্ততা বেড়েছে, রান্নার জন্য সময় কমেছে। মাটির চুলায় রান্না করতে যেমন সময় ও শ্রম বেশি লাগে, তেমনই ধোঁয়া ও ছাই সামলানোর ঝামেলাও রয়েছে। তার জায়গা নিয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের দ্রুত রান্নার ব্যবস্থা। একই সঙ্গে বদলেছে বাসনপত্রের ব্যবহারও। হালকা, সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং তুলনামূলক ভাবে সুবিধাজনক নানা ধরনের আধুনিক পাত্র মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে। ফলে মাটি, পাথর, কাঁসা, পিতল ও কাঠের তৈরি পুরোনো সামগ্রী অনেকটাই দৈনন্দিন জীবন থেকে সরে গেছে। তবে এসব জিনিস শুধু রান্নার সরঞ্জাম ছিল না। এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল পরিবার, উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন, শৈশব এবং গ্রামের জীবনযাপনের অসংখ্য গল্প। আজ হয়তো সেই রান্নাঘর নেই। নেই ধোঁয়ায় কালো হয়ে যাওয়া চুলার দেয়াল ও মাটির হাঁড়িতে ধীরে ধীরে রান্না হওয়ার অপেক্ষা। তবু পুরোনো দিনের মানুষের স্মৃতিতে সেই রান্নাঘর এখনও জীবন্ত। আধুনিকতার প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া এই সামগ্রীগুলো আমাদের শেকড়, সংস্কৃতি ও পারিবারিক ইতিহাসেরও অংশ। তাই এগুলোকে পুরোনো জিনিস হিসাবে না দেখে সংরক্ষণ করা মানে একটি সময়কে, একটি জীবনধারাকে এবং আমাদের নিজস্ব রান্নাঘরের ইতিহাসকে ধরে রাখা।

আরও পড়ুনঃ  বিলাসিতায় ব্যয় বাড়াচ্ছে সৌদিরা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কোম্পানীগঞ্জে বালুর নিচে ৬২ লাখ টাকার বিদেশি মদ, সহ আটক ২

মাটির চুলা থেকে কাঁসার থালা- কোথায় হারালো সেই রান্নাঘরের স্মৃতি

আপডেটের সময়: ০৬:২৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একসময় রান্নাঘর মানেই ছিল অন্য রকম এক জগৎ। সকালের আলো ফোটার আগেই উঠোনের এক কোণে জ্বলে উঠতো মাটির চুলা। শুকনো কাঠ, খড়কুটো কিংবা পাটকাঠিতে আগুন ধরিয়ে শুরু হতো দিনের রান্না। চুলার ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তো চারপাশে। সেই ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে থাকতো ভাতের গন্ধ, ডালের ফোড়ন আর মাটির হাঁড়িতে রান্না হওয়া তরকারির ঘ্রাণ। আজকের আধুনিক রান্নাঘরে সেই দৃশ্য প্রায় অচেনা। গ্যাসের চুলা, বৈদ্যুতিক চুলা, আধুনিক হাঁড়ি-পাতিল আর নানা ধরনের যন্ত্রপাতি রান্নার কাজকে করেছে সহজ ও দ্রুত। কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে রান্নাঘর ঘিরে থাকা অনেক স্মৃতি, ঐতিহ্য আর ঘরোয়া সংস্কৃতিও। মাটির চুলার আগুন: আগেকার দিনের রান্নাঘরের অন্যতম পরিচিত অনুষঙ্গ ছিল মাটির চুলা। মাটি দিয়ে তৈরি এই চুলায় কাঠ কিংবা খড়কুটো জ্বালিয়ে রান্না করা হতো। রান্না হতে সময় লাগতো বেশি, ধোঁয়াও হতো, কিন্তু সেই আগুনে রান্না করা খাবারের স্বাদ ও গন্ধ নিয়ে এখনও অনেকের মনে রয়ে গেছে আলাদা টান। বর্ষার দিনে ভেজা কাঠে আগুন ধরানোর চেষ্টা, চুলার পাশে বসে হাঁড়ির ঢাকনা তুলে রান্না দেখার দৃশ্য কিংবা শীতের সকালে চুলার উষ্ণতার পাশে বসে থাকা এসবই ছিল একসময়কার পারিবারিক জীবনের অংশ। মাটির হাঁড়ি-পাতিল: মাটির হাঁড়ি ছিল গ্রামীণ রান্নাঘরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ভাত, ডাল, তরকারি থেকে শুরু করে নানা ধরনের রান্না হতো মাটির পাত্রে।

আরও পড়ুনঃ  শিমের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’, স্বস্তি নেই মাছ-মাংসে

 

 

 

মাটির হাঁড়িতে ধীরে ধীরে রান্না হওয়া খাবারের স্বাদ অনেকের কাছেই আজও অতুলনীয়। শুধু রান্না নয়, খাবার সংরক্ষণেও ব্যবহার করা হতো মাটির বিভিন্ন পাত্র। পানি রাখার জন্যও ছিল মাটির কলসি ও অন্যান্য পাত্র। আধুনিক ধাতব ও প্লাস্টিকের পাত্রের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সামগ্রীর ব্যবহারও কমে গেছে। পাথরের থালা-বাটি: একসময় অনেক বাড়িতে পাথরের তৈরি থালা ও বাটির ব্যবহার দেখা যেত। ভারী হওয়ায় এগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া সহজ ছিল না, কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যেত। পাথরের পাত্রে খাবার পরিবেশনের সেই দৃশ্য এখন মূলত পুরোনো দিনের স্মৃতিতেই দেখা যায়। কাঁসা-পিতলের বাসন: বাঙালি ঘরের রান্নাঘর ও খাবার টেবিলের সঙ্গে কাঁসা ও পিতলের বাসনের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। কাঁসার থালা, বাটি, গ্লাস কিংবা পিতলের নানা পাত্র ছিল বহু পরিবারের নিত্যদিনের ব্যবহার্য সামগ্রী। উৎসব, বিয়ে কিংবা বিশেষ কোনও আয়োজনে কাঁসার থালায় খাবার পরিবেশনের আলাদা মর্যাদা ছিল। নিয়মিত মেজে পরিষ্কার করে চকচকে করে রাখা হতো এসব বাসন। এখন অনেক বাড়িতে এগুলো ব্যবহার না হলেও পুরোনো আলমারি কিংবা সিন্দুকে স্মৃতি হয়ে পড়ে আছে দাদু-ঠাকুমার সময়ের সেই বাসনপত্র। কাঠের ডাল ঘুটনি: ডাল রান্নার পর সেটিকে ভালো করে ঘুটে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হতো কাঠের ডাল ঘুটনি। কাঠের তৈরি এই সাধারণ সরঞ্জামটি ছিল রান্নাঘরের খুব পরিচিত জিনিস।

আরও পড়ুনঃ  লোকসান ও সঙ্কটে বেসরকারি ব্যবস্থায় দেয়া হচ্ছে আরো অর্ধডজন ট্রেন

 

 

 

 

হাতে ঘুরিয়ে ডাল ঘুটতে ঘুটতে রান্নাঘরের গল্প চলতো, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তাও হতো। আজ রান্নার আধুনিক সরঞ্জাম সেই কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে। ফলে কাঠের ডাল ঘুটনির মতো ছোট ছোট জিনিসও ধীরে ধীরে রান্নাঘর থেকে বিদায় নিয়েছে। কেন হারিয়ে গেলো সেই রান্নাঘর? সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে। পরিবারের সদস্যদের ব্যস্ততা বেড়েছে, রান্নার জন্য সময় কমেছে। মাটির চুলায় রান্না করতে যেমন সময় ও শ্রম বেশি লাগে, তেমনই ধোঁয়া ও ছাই সামলানোর ঝামেলাও রয়েছে। তার জায়গা নিয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের দ্রুত রান্নার ব্যবস্থা। একই সঙ্গে বদলেছে বাসনপত্রের ব্যবহারও। হালকা, সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং তুলনামূলক ভাবে সুবিধাজনক নানা ধরনের আধুনিক পাত্র মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে। ফলে মাটি, পাথর, কাঁসা, পিতল ও কাঠের তৈরি পুরোনো সামগ্রী অনেকটাই দৈনন্দিন জীবন থেকে সরে গেছে। তবে এসব জিনিস শুধু রান্নার সরঞ্জাম ছিল না। এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল পরিবার, উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন, শৈশব এবং গ্রামের জীবনযাপনের অসংখ্য গল্প। আজ হয়তো সেই রান্নাঘর নেই। নেই ধোঁয়ায় কালো হয়ে যাওয়া চুলার দেয়াল ও মাটির হাঁড়িতে ধীরে ধীরে রান্না হওয়ার অপেক্ষা। তবু পুরোনো দিনের মানুষের স্মৃতিতে সেই রান্নাঘর এখনও জীবন্ত। আধুনিকতার প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া এই সামগ্রীগুলো আমাদের শেকড়, সংস্কৃতি ও পারিবারিক ইতিহাসেরও অংশ। তাই এগুলোকে পুরোনো জিনিস হিসাবে না দেখে সংরক্ষণ করা মানে একটি সময়কে, একটি জীবনধারাকে এবং আমাদের নিজস্ব রান্নাঘরের ইতিহাসকে ধরে রাখা।

আরও পড়ুনঃ  লামায় রিসোর্ট দখল ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি