Dhaka ০৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
লামায় বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের বিদায় সংবর্ধনা গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস কুলাউড়ায় বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে করাতকল, নীরব কেন প্রশাসন? কুমিল্লা থেকে সরাসরি কক্সবাজার, ২৬ অক্টোবর থেকে চালু মহানগর এক্সপ্রেস শারদীয় দুর্গোৎসবে কদমতলীতে ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা, স্বস্তিতে পুণ্যার্থী ও সাধারণ মানুষ ভেদরগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা, ২ হাজার ২৬৬ জেলের মাঝে ২৫ কেজি চাল বিতরণ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় শীলকূপে রাশেদ নূরীর ব্যতিক্রম উদ্যোগ আকমল আলী ঘাটে ইলিশ পাচারে বাধা দেওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, জিম্মির চেষ্টা লালপুরে ৫২৫ গ্রাম হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী

ভেদরগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা, ২ হাজার ২৬৬ জেলের মাঝে ২৫ কেজি চাল বিতরণ করে

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ সময় দেখুন

সোহেল হাওলাদার, শরীয়তপুর: বৃহস্পতিবার (১৫ই অক্টোবর ২০২৬) ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের খাদ্যসহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে মোট ২ হাজার ২৬৬ জন জেলের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হয়।

সবুজ-শ্যামল বাংলার বুক চিরে বয়ে চলেছে পদ্মা নদী। এই নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা। পদ্মার বুকে জেগে ওঠে স্বপ্ন, আবার নদীভাঙনে মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে যায় বহু পরিবার। নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে আছে জেলেদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ আর বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রাম। কারও কাছে পদ্মা জীবিকার উৎস, আবার কারও কাছে সর্বস্ব হারানোর নির্মম বাস্তবতা।

আরও পড়ুনঃ  ধুনটে আইন-শৃঙ্খলা সভায় দুর্গাপূজায় কড়া নিরাপত্তার নির্দেশ ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা নদীকেন্দ্রিক। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ড পদ্মা নদীর মাঝে অবস্থিত হওয়ায় এ এলাকার বহু পরিবার মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। পদ্মার বুকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন অসংখ্য জেলে। কিন্তু মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব জেলে পরিবারকে জীবিকা নির্বাহে নানা সংকটের মুখোমুখি হতে হয়।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ সময় নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুত নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে লক্ষ্যে সরকার খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কাচিকাটা ইউনিয়নের ২ হাজার ২৬৬ জন জেলের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে মহড়া ও আলোচনা সভা

চাল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কাচিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দেওয়ান, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেহেদী হাসান শিপন, টেক অফিসার মজিবুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাদশা, প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদা সিদ্দিকসহ মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুনঃ  ধামরাইয়ে ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বাবা, প্রশাসনকে খবর; যুবকের ২ মাসের কারাদণ্ড

স্থানীয় জেলেদের কাছে পদ্মা শুধু একটি নদী নয়, এটি তাঁদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। বছরের পর বছর এই নদীতে মাছ ধরেই চলে তাঁদের সংসার। কিন্তু মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁদের সেই জীবিকা বন্ধ রাখতে হয়। এ অবস্থায় সরকারি চাল তাঁদের পরিবারগুলোর খাদ্যসংকট মোকাবিলায় কিছুটা সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চললে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত হবে। এতে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জেলেদের জীবন-জীবিকাও আরও সুরক্ষিত হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

লামায় বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের বিদায় সংবর্ধনা

ভেদরগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা, ২ হাজার ২৬৬ জেলের মাঝে ২৫ কেজি চাল বিতরণ করে

আপডেটের সময়: ০৩:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

সোহেল হাওলাদার, শরীয়তপুর: বৃহস্পতিবার (১৫ই অক্টোবর ২০২৬) ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের খাদ্যসহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে মোট ২ হাজার ২৬৬ জন জেলের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হয়।

সবুজ-শ্যামল বাংলার বুক চিরে বয়ে চলেছে পদ্মা নদী। এই নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা। পদ্মার বুকে জেগে ওঠে স্বপ্ন, আবার নদীভাঙনে মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে যায় বহু পরিবার। নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে আছে জেলেদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ আর বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রাম। কারও কাছে পদ্মা জীবিকার উৎস, আবার কারও কাছে সর্বস্ব হারানোর নির্মম বাস্তবতা।

আরও পড়ুনঃ  ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে হানিট্র্যাপের শিকার বৃদ্ধ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা নদীকেন্দ্রিক। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ড পদ্মা নদীর মাঝে অবস্থিত হওয়ায় এ এলাকার বহু পরিবার মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। পদ্মার বুকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন অসংখ্য জেলে। কিন্তু মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব জেলে পরিবারকে জীবিকা নির্বাহে নানা সংকটের মুখোমুখি হতে হয়।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ সময় নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুত নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে লক্ষ্যে সরকার খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কাচিকাটা ইউনিয়নের ২ হাজার ২৬৬ জন জেলের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কুলাউড়ায় বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে করাতকল, নীরব কেন প্রশাসন?

চাল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কাচিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দেওয়ান, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেহেদী হাসান শিপন, টেক অফিসার মজিবুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাদশা, প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদা সিদ্দিকসহ মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুনঃ  দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে: আসলাম চৌধুরী

স্থানীয় জেলেদের কাছে পদ্মা শুধু একটি নদী নয়, এটি তাঁদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। বছরের পর বছর এই নদীতে মাছ ধরেই চলে তাঁদের সংসার। কিন্তু মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁদের সেই জীবিকা বন্ধ রাখতে হয়। এ অবস্থায় সরকারি চাল তাঁদের পরিবারগুলোর খাদ্যসংকট মোকাবিলায় কিছুটা সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চললে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত হবে। এতে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জেলেদের জীবন-জীবিকাও আরও সুরক্ষিত হবে।