
মোঃ মিজানুর রহমান, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একাধিক আবেগপূর্ণ পোস্ট প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক কষ্ট ও হতাশার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও করেন। তবে ওই অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মালিরহাট সংলগ্ন সামতালুকদার বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা নিজ কক্ষে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীরব ইমন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরিবারের দাবি, তিনি ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় তার অস্বাভাবিক মৃত্যু পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই এক স্কুলছাত্রীর অভিভাবক নীরব ইমনের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে বিরক্ত করা, কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে ২৪ জুলাই উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা হয়। সে সময় নীরব ইমন ভবিষ্যতে ওই ছাত্রী বা তার পরিবারের প্রতি কোনো ধরনের হয়রানি, কটূক্তি, পিছু নেওয়া, ছবি প্রচার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানসিক হয়রানি করবেন না—মর্মে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, কিছুদিন আগে নীরব ইমনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ উঠেছিল, যা পরে সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং মৃত্যুর আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবরও নীরব ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় তার বাবা, যিনি স্থানীয় বিএনপির একজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিয়ে আপত্তি জানালে অভিমান করে তিনি বিষপান করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
একজন তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দেয়, মানসিক সংকট অনেক সময় চোখে পড়ে না। তাই পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও স্বজনদের উচিত একে অপরের খোঁজখবর নেওয়া, মানসিক পরিবর্তনের লক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা এবং প্রয়োজনে যথাসময়ে মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করা।
প্রতিবেদকের নাম 



















