Dhaka ০৪:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডে গণপিটুনিতে মাদক ব্যবসায়ী নিহত দক্ষতা-সততার ভিত্তিতে সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুন্দরগঞ্জের চরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভা ঈশ্বরদীতে সিএনজিতে অভিযান: ৭ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগরে রিকশার গ্যারেজে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই অনেকগুলো অটো রিকশা ও টিনশেড ঘর ফরিদপুরে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঘুকসির বিলের অপরূপ নীল জলাভূমিতে প্রকৃতির টানে দর্শনার্থীদের ঢল কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির, মাগুরায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণের উদ্বোধন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সিএমপি কমিশনারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা

মোঃ মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ, রংপুর বিভাগ: তিস্তা কেবল একটি নদী নয়; উত্তরের জনপদে এটি এক জীবন্ত হাহাকার আর কোটি মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম। বছরের পর বছর খরা, ভাঙন আর অকাল বন্যায় নিঃস্ব হওয়া তিস্তাপারের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান কি এবার হতে যাচ্ছে? বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’বাস্তবায়নের বিষয়টি আবারও নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। আগামী জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফরকে ঘিরে এখন নতুন স্বপ্নে বিভোর উত্তরাঞ্চল।ভূ-রাজনীতি ও মহাপরিকল্পনার প্রেক্ষাপট ২০১৬ সাল থেকে চীনের ‘পাওয়ার চায়না কনস্ট্রাকশন’ তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করলেও ভারতের আপত্তির মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রকল্পটি থমকে দেয়। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা সরকার এটি ভারতের মাধ্যমে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলে স্থবিরতা আরও বাড়ে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দৃশ্যপট বদলে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চীনের সাথে যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করে এবং নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার গঠনের পর সেই ধারাবাহিকতা আরও গতিশীল হয়েছে। সম্প্রতি চীনা রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছেন, বেইজিং এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুরোপুরি প্রস্তুত।

আরও পড়ুনঃ  শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে মোদি সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

 

বিশেষজ্ঞদের মত
পরনির্ভরশীলতা না কি নিজস্ব উদ্যোগ? নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশি অর্থায়নের জন্য অনন্তকাল অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে লক্ষ কোটি টাকার প্রয়োজন নেই। সরকার চাইলে বার্ষিক বাজেটে সামান্য বরাদ্দ রেখে নিজস্ব অর্থায়নেই কয়েক বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে পারে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিনের ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতির কারণে তিস্তা চুক্তি ঝুলে আছে। ভারত যদি মহাপরিকল্পনাতেও বাধা দেয়, তবে বাংলাদেশের উচিত হবে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হওয়া।

আরও পড়ুনঃ  প্রতিবন্ধী যুবককে মারধরের অভিযোগ, ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ

 

আশার আলো ও জনগণের দাবি
তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের নেতারা মনে করছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর এবং আসন্ন প্রধানমন্ত্রীর সফর হতে পারে এই প্রকল্পের টার্নিং পয়েন্ট। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, “নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আমরা এখন দৃশ্যমান কাজ দেখতে চাই।তিস্তাপারের মানুষ আর আশ্বাস নয়, খননযন্ত্রের শব্দ শুনতে চায়।” বাস্তবতা ও সংকট শুকনো মৌসুমে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার আর বর্ষায় হঠাৎ পানি ছেড়ে দেওয়ার ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
এখন দেখার বিষয়, জুনের উচ্চপর্যায়ের চীন সফর থেকে কোটি মানুষের এই আজন্ম লালিত স্বপ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কি না। উত্তরের কোটি চোখ এখন বেইজিং আর ঢাকার কূটনৈতিক টেবিলের দিকে।

আরও পড়ুনঃ  মোকামতলায় চুরির প্রস্তুতিকালে চোর চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডে গণপিটুনিতে মাদক ব্যবসায়ী নিহত

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা

আপডেটের সময়: ০৫:৩৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

মোঃ মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ, রংপুর বিভাগ: তিস্তা কেবল একটি নদী নয়; উত্তরের জনপদে এটি এক জীবন্ত হাহাকার আর কোটি মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম। বছরের পর বছর খরা, ভাঙন আর অকাল বন্যায় নিঃস্ব হওয়া তিস্তাপারের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান কি এবার হতে যাচ্ছে? বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’বাস্তবায়নের বিষয়টি আবারও নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। আগামী জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফরকে ঘিরে এখন নতুন স্বপ্নে বিভোর উত্তরাঞ্চল।ভূ-রাজনীতি ও মহাপরিকল্পনার প্রেক্ষাপট ২০১৬ সাল থেকে চীনের ‘পাওয়ার চায়না কনস্ট্রাকশন’ তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করলেও ভারতের আপত্তির মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রকল্পটি থমকে দেয়। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা সরকার এটি ভারতের মাধ্যমে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলে স্থবিরতা আরও বাড়ে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দৃশ্যপট বদলে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চীনের সাথে যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করে এবং নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার গঠনের পর সেই ধারাবাহিকতা আরও গতিশীল হয়েছে। সম্প্রতি চীনা রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছেন, বেইজিং এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুরোপুরি প্রস্তুত।

আরও পড়ুনঃ  বান্দরবানের লামায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ইয়াবাসহ কথিত মাদক ব্যবসায়ী সামশু আলম গ্রেপ্তার

 

বিশেষজ্ঞদের মত
পরনির্ভরশীলতা না কি নিজস্ব উদ্যোগ? নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশি অর্থায়নের জন্য অনন্তকাল অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে লক্ষ কোটি টাকার প্রয়োজন নেই। সরকার চাইলে বার্ষিক বাজেটে সামান্য বরাদ্দ রেখে নিজস্ব অর্থায়নেই কয়েক বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে পারে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিনের ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতির কারণে তিস্তা চুক্তি ঝুলে আছে। ভারত যদি মহাপরিকল্পনাতেও বাধা দেয়, তবে বাংলাদেশের উচিত হবে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হওয়া।

আরও পড়ুনঃ  মোকামতলায় চুরির প্রস্তুতিকালে চোর চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার

 

আশার আলো ও জনগণের দাবি
তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের নেতারা মনে করছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর এবং আসন্ন প্রধানমন্ত্রীর সফর হতে পারে এই প্রকল্পের টার্নিং পয়েন্ট। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, “নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আমরা এখন দৃশ্যমান কাজ দেখতে চাই।তিস্তাপারের মানুষ আর আশ্বাস নয়, খননযন্ত্রের শব্দ শুনতে চায়।” বাস্তবতা ও সংকট শুকনো মৌসুমে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার আর বর্ষায় হঠাৎ পানি ছেড়ে দেওয়ার ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
এখন দেখার বিষয়, জুনের উচ্চপর্যায়ের চীন সফর থেকে কোটি মানুষের এই আজন্ম লালিত স্বপ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কি না। উত্তরের কোটি চোখ এখন বেইজিং আর ঢাকার কূটনৈতিক টেবিলের দিকে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে ইউসুফ ফকির হত্যাকাণ্ডে দোষীদের শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসকের ও পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি