
সেলিম হোসেন রুবেল,জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুর এম ইউ ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রত্যয়নপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতী সাহেব আলীর কাছে শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তি, চাকরির আবেদন বা অন্যান্য প্রয়োজনে প্রত্যয়নপত্র নিতে গেলে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে নানা অজুহাতে প্রত্যয়নপত্র দিতে বিলম্ব করা হয়। এতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী কয়েকজন অভিভাবক জানান, অধ্যক্ষের নির্দেশে অফিস সহকারী জহুরুল ইসলাম অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই বাধ্য হয়ে অর্থ দিয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিবের অভিভাবক আমজাদ হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে ছেলের প্রত্যয়নপত্র নিতে গেলে জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে নামের অমিল দেখিয়ে ২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। অথচ একই কাগজ দিয়ে ভর্তি নেওয়া হয়েছিল।” সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহাগের অভিভাবক সাহিদা বেগম বলেন,
“প্রত্যয়নপত্র নিতে গিয়ে আমার কাছেও ১ হাজার টাকা চাওয়া হয়। টাকা দিতে না পারায় ফিরে আসতে হয়েছে।” ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিকের অভিভাবক নূরনবী অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমাকে হুমকি ও মারধর করা হয়। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য কেনা একটি লেগুনা ও একটি মাইক্রোবাসের মধ্যে মাইক্রোবাসটি নিয়মিত অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসার জমি লিজ, উন্নয়ন খাত ও অন্যান্য তহবিলের অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও শিক্ষক বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন নূরীর সময়ের ফান্ডসহ বর্তমান জমি লিজের অর্থের সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ এবং নিজস্ব পরিবহন থাকা সত্ত্বেও ইজিবাইক ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের আরও অভিযোগ, পরপর দুইবার এডহক কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হচ্ছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মুফতী সাহেব আলী বলেন, আপনারা আসেন, বসে কথা বলি। আমি দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।” মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন নূরী বলেন,
“অবসরের সময় আমি মাদ্রাসা ফান্ডে ১১ লাখ টাকা রেখে যাই। এছাড়া ৪২ বিঘা জমি থেকে বছরে ৯-১০ লাখ টাকা আয় হতো, যা ব্যাংকে জমা রেখে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যয় করা হতো।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুনছুর রহমান বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আগে জানা ছিল না। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আমি নিজেও তদন্ত করব অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও এডহক কমিটির সভাপতি বিপুল কুমার বলেন,
“আমি এখনও দায়িত্বে আছি কিনা তা যাচাই করতে হবে। অভিযোগের বিষয়টি জানা নেই। এদিকে অভিযোগের পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















