
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমন ধান রোপণ ও পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারের দোকানে চাহিদা মতো সরকারি মূল্যে সার মিলছে না। খুচরা দোকানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, সারের ৫০ কেজির বস্তা কিনতে স্থানভেদে কৃষককে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহাডাঙ্গা এলাকার কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি ২১ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। ডিএপি সার ডিলারের কাছে গিয়ে পাওয়া যায় না। পৌরসভায় বলেও সার দিচ্ছে না, লোকজন ধরে দু-তিন বস্তা সার নিয়েছেন। কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, তার ২১ বিঘা জমির জন্য এক দফাতেই অন্তত ৮ থেকে ১০ বস্তা সার প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে মাত্র ৫ বস্তা সার পেয়েছেন। ৮ বস্তা সার যেখানে ন্যূনতম দরকার, সেখানে ৫ বস্তা দিয়ে কীভাবে ধান আবাদ করবেন?
পাশের গ্রাম বিদিরপুরের আরেক কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, এ বছর ১২ বিঘায় ধান চাষ করেছেন। প্রয়োজনের সময় সরকারি মূল্যে সার না পাওয়ায় তাদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। খুচরা দোকানে ডিএপি সার ১৬০০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকায় কিনছেন। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে আমন মৌসুমে কৃষকদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। সরকার নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্যে সার বিক্রয় ও সার মজুত রাখার অপরাধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, নাচোল, গোমস্তাপুরে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে গত ২৪ আগস্ট সদরে এক খুচরা সার বিক্রেতাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও ১৭ আগস্ট গোমস্তাপুরে ৩০ হাজার ও ১৮ আগস্ট নাচোলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় বিভিন্ন সার জব্দ করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে বিক্রয় করা হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৩ হাজার ৮০০ হেক্টর। ইতোমধ্যে ৯৭ শতাংশ জমিতে রোপণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে কৃষকেরা ধানখেত পরিচর্যা, নিড়ানি ও সার প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ওই সূত্র আরও জানান, চলতি মাসে ১০ হাজার ৫৯০ মেট্টিক টন সার বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ৪ হাজার ৩৯০ মেট্রিক টন, টিএসপি সার ১ হাজার ২৯৫ মেট্রিক টন, ডিএপি সার ২ হাজার ৯৩৫ মেট্রিক টন ও এমওপি সার ১ হাজার ৯৭০ মেট্রিক টন। যা বিতরণ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিআইসি ও বিএডিসি’র একাধিক সার ডিলার জানান, আগস্ট মাসে ডিএপিসহ সার বরাদ্দ হয়। ডিলারেরা সার গোডাউনে নিয়ে আসলে তা দু-একদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এদিকে সেপ্টেম্বর মাসের সার বরাদ্দ হয়েছে বলেও জানান তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও জেলা সার মনিটরিয় কমিটির সদস্য সচিব মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, সারের ঘাটতি নেই। তবে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা বেশি। কারণ চাষিরা এক বিঘা জমিতে ১০-১৫ কেজি ডিএপি সার দেওয়ার পরিবর্তে ২-৩ গুণ সার ব্যবহার করছে। জমিতে অতিরিক্ত ডিএপি সারের পরিবর্তে চাষিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জৈব সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষক জমিতে অতিরিক্ত সার দিচ্ছেন বলে চাহিদা শেষ হচ্ছে না। এছাড়াও অনেক কৃষক অন্য ফসলের জন্য আগাম সার কিনে রাখছেন। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, সারের বরাদ্দ যা দেওয়া হয়েছে, তার সবই উত্তোলন করা হয়েছে। সারের ঘাটতি নেই। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আম চাষসহ বা লেট ভ্যারাইটি ফসলের চাষের কারণে সারের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে। সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সারের সংকট নেই। তিনি আরো বলেন, যারা সার নিয়ে অসাধু পন্থা অবলম্বনের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানা করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















