Dhaka ০৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভোলায় নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ছে না, ৩০–৪০ মিনিট অপেক্ষায় যাত্রীরা লামায় বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের বিদায় সংবর্ধনা গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস কুলাউড়ায় বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে করাতকল, নীরব কেন প্রশাসন? কুমিল্লা থেকে সরাসরি কক্সবাজার, ২৬ অক্টোবর থেকে চালু মহানগর এক্সপ্রেস শারদীয় দুর্গোৎসবে কদমতলীতে ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা, স্বস্তিতে পুণ্যার্থী ও সাধারণ মানুষ ভেদরগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা, ২ হাজার ২৬৬ জেলের মাঝে ২৫ কেজি চাল বিতরণ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় শীলকূপে রাশেদ নূরীর ব্যতিক্রম উদ্যোগ আকমল আলী ঘাটে ইলিশ পাচারে বাধা দেওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, জিম্মির চেষ্টা লালপুরে ৫২৫ গ্রাম হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

কুলাউড়ায় বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে করাতকল, নীরব কেন প্রশাসন?

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ সময় দেখুন

আহমেদ আক্তার রানা, কুলাউড়া প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন করাতকলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে একাধিক করাতকলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বৈধ ও হালনাগাদ পরিচালন লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। কেউ দেখিয়েছেন চলমান মামলার কাগজপত্র, আবার কেউ দেখিয়েছেন ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালের পরিবেশগত ছাড়পত্র। এদিকে আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও করাতকল চলার অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভাটেরা এলাকার একটি করাতকলের মালিক পরিবেশগত ছাড়পত্র দেখাতে না পারলেও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের লাইসেন্স দেখান। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক তপন বিকাশ চঞ্চঙ্গ্যা জানান, তাঁদের অধিদপ্তর শ্রম আইন-সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদান করে, করাতকল পরিচালনার বিশেষ লাইসেন্স নয়।

আরও পড়ুনঃ  আমদানিকৃত গমের মান ও সরবরাহে কোনো অনিয়ম নয়: খাদ্যমন্ত্রী

মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকিতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন কর্মকর্তা চাইলে করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, কুলাউড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ জানিয়েছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অধিকাংশ করাতকলে তিনি সরেজমিনে যেতে পারছেন না। ফলে করাতকলগুলোর কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শনে তাঁর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত 

করাতকলগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে কুলাউড়া পিডিবি জোনের প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বন কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অবৈধ করাতকলের তালিকা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুসন্ধানের সময় কয়েকটি করাতকলের অফিসে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পোস্টার ও ব্যানার দেখা গেছে। ভাটেরার একটি করাতকলে কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ। তবে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আইন মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিই মূল বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে পাট লুটের অভিযোগ, ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম

কুলাউড়ায় কতটি করাতকল রয়েছে, কতটির বৈধ লাইসেন্স ও কার্যকর পরিবেশগত অনুমোদন আছে—তা প্রকাশের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

করাতকলগুলোর বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিষ্পত্তিতে এখন উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভোলায় নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ছে না, ৩০–৪০ মিনিট অপেক্ষায় যাত্রীরা

কুলাউড়ায় বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে করাতকল, নীরব কেন প্রশাসন?

আপডেটের সময়: ০৩:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আহমেদ আক্তার রানা, কুলাউড়া প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন করাতকলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে একাধিক করাতকলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বৈধ ও হালনাগাদ পরিচালন লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। কেউ দেখিয়েছেন চলমান মামলার কাগজপত্র, আবার কেউ দেখিয়েছেন ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালের পরিবেশগত ছাড়পত্র। এদিকে আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও করাতকল চলার অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভাটেরা এলাকার একটি করাতকলের মালিক পরিবেশগত ছাড়পত্র দেখাতে না পারলেও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের লাইসেন্স দেখান। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক তপন বিকাশ চঞ্চঙ্গ্যা জানান, তাঁদের অধিদপ্তর শ্রম আইন-সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদান করে, করাতকল পরিচালনার বিশেষ লাইসেন্স নয়।

আরও পড়ুনঃ  নীলফামারীতে চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদ, দ্রুত বিচারের দাবি

মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকিতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন কর্মকর্তা চাইলে করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, কুলাউড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ জানিয়েছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অধিকাংশ করাতকলে তিনি সরেজমিনে যেতে পারছেন না। ফলে করাতকলগুলোর কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শনে তাঁর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কেন্দুয়ায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ উপলক্ষে প্রেস কনফারেন্স

করাতকলগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে কুলাউড়া পিডিবি জোনের প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বন কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অবৈধ করাতকলের তালিকা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুসন্ধানের সময় কয়েকটি করাতকলের অফিসে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পোস্টার ও ব্যানার দেখা গেছে। ভাটেরার একটি করাতকলে কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ। তবে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আইন মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিই মূল বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  তাহিরপুরে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ‎

কুলাউড়ায় কতটি করাতকল রয়েছে, কতটির বৈধ লাইসেন্স ও কার্যকর পরিবেশগত অনুমোদন আছে—তা প্রকাশের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

করাতকলগুলোর বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিষ্পত্তিতে এখন উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।