Dhaka ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড পরিদর্শন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মধুপুরে শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে কৃষি অফিসার সহায়তার আশ্বাস ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, নারীর মৃত্যু কেরানীগঞ্জে কালিগঞ্জ জোড়া ব্রিজ সংলগ্ন মার্কেটে আগুন মান্দায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড শরণখোলায় জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত দীঘিনালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক ক্লাস মান্দায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ধুনটে শারদীয় দুর্গা উৎসবকে ঘিরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জ গৃদকালিন্দিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৪ দোকান পুড়ে ছাঁই

আশুলিয়ায় অপহৃত শিশু সাইম ময়মনসিংহে উদ্ধার-গ্রেপ্তার ২

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:১০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৬ সময় দেখুন

মোহাম্মদ ইয়াসিন, সাভার:

সাভারের আশুলিয়ায় স্কুল ছুটির পর স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে থেকে ৮ বছরের শিশু সাইমকে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। শিশুটিকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হলেও টাকা দেওয়ার আগেই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কথিত অপহরণকারী চক্রের মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার(৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম।

পুলিশ জানায়, গত ৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী পশ্চিমপাড়া গোচারটেক এলাকায় আলহাজ আব্দুর রশিদ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেটের সামনে থেকে স্কুল ছুটির পর প্লে-শ্রেণির ছাত্র সাইমকে অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা মো. নাছির উদ্দিন আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সরকারি অনুদানের দুই কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ

অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সার্বিক তত্বাবধানে এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এসআই মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

আরও পড়ুনঃ  উলিপুরে নজরুল বর্ষ ২০২৬ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান

একপর্যায়ে তদন্তে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে অপহরণকারীদের অবস্থান ময়মনসিংহে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানাধীন মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার নেওকা এলাকার মৃত গফুর মৃধার ছেলে মো. নাদিম ওরফে হৃদয় (৩৩) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা আক্তার (৩১)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু সাইমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ময়মনসিংহে তাদের অবস্থান শনাক্ত হলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  শরণখোলায় জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপহরণের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, শিশুটিকে কোথায় এবং কীভাবে রাখা হয়েছিল, পাশাপাশি মুক্তিপণ দাবির পেছনে তাদের পরিকল্পনা কী ছিল- এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশের এই অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে শিশুটির পরিবারে। তবে স্কুলগেট থেকে একটি শিশুকে অপহরণ করে অন্য জেলায় আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড পরিদর্শন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

আশুলিয়ায় অপহৃত শিশু সাইম ময়মনসিংহে উদ্ধার-গ্রেপ্তার ২

আপডেটের সময়: ০৩:১০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মোহাম্মদ ইয়াসিন, সাভার:

সাভারের আশুলিয়ায় স্কুল ছুটির পর স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে থেকে ৮ বছরের শিশু সাইমকে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। শিশুটিকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হলেও টাকা দেওয়ার আগেই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কথিত অপহরণকারী চক্রের মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার(৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম।

পুলিশ জানায়, গত ৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী পশ্চিমপাড়া গোচারটেক এলাকায় আলহাজ আব্দুর রশিদ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেটের সামনে থেকে স্কুল ছুটির পর প্লে-শ্রেণির ছাত্র সাইমকে অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা মো. নাছির উদ্দিন আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জের ঐতিহাসিক জিনজিরা প্রাসাদ পরিদর্শনে অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, দ্রুত সংরক্ষণের তাগিদ

অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সার্বিক তত্বাবধানে এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এসআই মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

আরও পড়ুনঃ  ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মধুপুরে শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে কৃষি অফিসার সহায়তার আশ্বাস

একপর্যায়ে তদন্তে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে অপহরণকারীদের অবস্থান ময়মনসিংহে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানাধীন মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার নেওকা এলাকার মৃত গফুর মৃধার ছেলে মো. নাদিম ওরফে হৃদয় (৩৩) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা আক্তার (৩১)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু সাইমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ময়মনসিংহে তাদের অবস্থান শনাক্ত হলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সরকারি অনুদানের দুই কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপহরণের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, শিশুটিকে কোথায় এবং কীভাবে রাখা হয়েছিল, পাশাপাশি মুক্তিপণ দাবির পেছনে তাদের পরিকল্পনা কী ছিল- এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশের এই অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে শিশুটির পরিবারে। তবে স্কুলগেট থেকে একটি শিশুকে অপহরণ করে অন্য জেলায় আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।