Dhaka ০৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আমাদের অনেক শ্রম, ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে : এ্যানি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সড়কে ত্রিপল টানিয়ে চলছে টিকাদান জাসদ কার্যালয় থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক অর্ধশতাধিক জনবল চাহিদা পূরণে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে বাংলাদেশ : মঈন খান সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শাহ ইমরান সাজু ভারাপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েছেন বগুড়া কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’: কারা কর্তৃপক্ষ তদারকির অভাবে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারি বরাদ্দ? আটোয়ারীতে ভবন নির্মাণে অনিয়মের ছড়াছড়ি ঈশ্বরদীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান পিস্তল-ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ আদালতে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের টার্গেট করে প্রতারণা গ্রীন এন্ড ক্লিন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে হাকিমপুর উপজেলায়

শুভ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ তিথি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৬ সময় দেখুন

দীঘিনালা প্রতিনিধিঃ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি অত্যন্ত পবিত্র ও আনন্দময় পূণ্যময় তিথি । ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এটি উদযাপিত হয়।এই পূর্ণিমার মূল তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো:

 

​১. দান ও ঐক্যের শিক্ষা
​মধু পূর্ণিমার প্রধান শিক্ষা হলো দান, অহিংসা, ভালোবাসা এবং সকল জীবের প্রতি মৈত্রী ভাব। মধু যেমন বিভিন্ন ফুল থেকে সংগৃহীত হয়ে মিষ্টতা তৈরি করে, তেমনি জীবনের নানা বৈচিত্র্যের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই এই উৎসবের মূল বার্তা।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় আমনের বাম্পার ফলনের আশা

 

 

​২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (বানর ও হাতির দান)
​বৌদ্ধ ধর্মীয় ইতিহাস অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ যখন কোশাম্বির ঘোষিতারামে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর শিষ্যদের (ভিক্ষু সংঘের) মধ্যে কিছুটা মতভেদের সৃষ্টি হয়। ভগবান বুদ্ধ তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এককভাবে নির্জনতা পালনের জন্য পারিলেয়্য বনে চলে যান।
​হাতির সেবা: সেই বনে ‘পারিলেয়্য’ নামের একটি বুনো হাতি বুদ্ধের নিঃস্বার্থ সেবা করা শুরু করে। হাতিটি প্রতিদিন বুদ্ধের থাকার স্থান পরিষ্কার করত এবং বনের ফলমূল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত।বানরের মধু দান: হাতির সেবা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বনের একটি বানর একটি গাছের কোটর থেকে মৌচাক সংগ্রহ করে তা বুদ্ধকে দান করে। চাকটিতে মৌমাছির ডিম ছিল বলে বুদ্ধ তা প্রথমে গ্রহণ করেননি। তা বুঝতে পেরে বানরটি সাবধানে ডিমগুলো সরিয়ে আবার বুদ্ধের কাছে মধু নিবেদন করে। বুদ্ধ প্রসন্ন মনে সেই মধু গ্রহণ করেন।
​বানরটি বুদ্ধের মধু গ্রহণের আনন্দ সহ্য করতে না পেরে গাছের ডাল ধরে লাফাতে গিয়ে পড়ে মারা যায় এবং তাঁর এই পরম দানের পুণ্যফলে দেবলোকে জন্মগ্রহণ করে।

আরও পড়ুনঃ  কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের গুপ্ত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে, মাদারগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

 

 

​৩. সংঘবদ্ধতা ও শান্তির বার্তা
​কোশাম্বির বিরোধে জড়িয়ে পড়া শিষ্যরা যখন জানতে পারেন যে একজন বনের পশুও বুদ্ধের প্রতি অনুগত থেকে তাঁর সেবা করছে, তখন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। তারা বুদ্ধের কাছে ক্ষমা চান এবং নিজেদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে আবার ঐক্যবদ্ধ হন।
পূণ্যার্থীরা সকালে বিহারে এসে বুদ্ধকে বন্দনা পরে ভিক্ষুদের বন্দনা ও পঞ্চশীল গ্রহণ করে দান কার্য সম্পাদন করে থাকেন৷

আরও পড়ুনঃ  ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, আহত ১৫
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

আমাদের অনেক শ্রম, ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে : এ্যানি

শুভ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ তিথি

আপডেটের সময়: ১২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীঘিনালা প্রতিনিধিঃ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি অত্যন্ত পবিত্র ও আনন্দময় পূণ্যময় তিথি । ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এটি উদযাপিত হয়।এই পূর্ণিমার মূল তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো:

 

​১. দান ও ঐক্যের শিক্ষা
​মধু পূর্ণিমার প্রধান শিক্ষা হলো দান, অহিংসা, ভালোবাসা এবং সকল জীবের প্রতি মৈত্রী ভাব। মধু যেমন বিভিন্ন ফুল থেকে সংগৃহীত হয়ে মিষ্টতা তৈরি করে, তেমনি জীবনের নানা বৈচিত্র্যের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই এই উৎসবের মূল বার্তা।

আরও পড়ুনঃ  কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের গুপ্ত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে, মাদারগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

 

 

​২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (বানর ও হাতির দান)
​বৌদ্ধ ধর্মীয় ইতিহাস অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ যখন কোশাম্বির ঘোষিতারামে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর শিষ্যদের (ভিক্ষু সংঘের) মধ্যে কিছুটা মতভেদের সৃষ্টি হয়। ভগবান বুদ্ধ তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এককভাবে নির্জনতা পালনের জন্য পারিলেয়্য বনে চলে যান।
​হাতির সেবা: সেই বনে ‘পারিলেয়্য’ নামের একটি বুনো হাতি বুদ্ধের নিঃস্বার্থ সেবা করা শুরু করে। হাতিটি প্রতিদিন বুদ্ধের থাকার স্থান পরিষ্কার করত এবং বনের ফলমূল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত।বানরের মধু দান: হাতির সেবা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বনের একটি বানর একটি গাছের কোটর থেকে মৌচাক সংগ্রহ করে তা বুদ্ধকে দান করে। চাকটিতে মৌমাছির ডিম ছিল বলে বুদ্ধ তা প্রথমে গ্রহণ করেননি। তা বুঝতে পেরে বানরটি সাবধানে ডিমগুলো সরিয়ে আবার বুদ্ধের কাছে মধু নিবেদন করে। বুদ্ধ প্রসন্ন মনে সেই মধু গ্রহণ করেন।
​বানরটি বুদ্ধের মধু গ্রহণের আনন্দ সহ্য করতে না পেরে গাছের ডাল ধরে লাফাতে গিয়ে পড়ে মারা যায় এবং তাঁর এই পরম দানের পুণ্যফলে দেবলোকে জন্মগ্রহণ করে।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল, কঠোর হুঁশিয়ারি

 

 

​৩. সংঘবদ্ধতা ও শান্তির বার্তা
​কোশাম্বির বিরোধে জড়িয়ে পড়া শিষ্যরা যখন জানতে পারেন যে একজন বনের পশুও বুদ্ধের প্রতি অনুগত থেকে তাঁর সেবা করছে, তখন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। তারা বুদ্ধের কাছে ক্ষমা চান এবং নিজেদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে আবার ঐক্যবদ্ধ হন।
পূণ্যার্থীরা সকালে বিহারে এসে বুদ্ধকে বন্দনা পরে ভিক্ষুদের বন্দনা ও পঞ্চশীল গ্রহণ করে দান কার্য সম্পাদন করে থাকেন৷

আরও পড়ুনঃ  ১ম কমিউনিটি পুলিশিং যুব কাবাডিতে কোতোয়ালীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন তারাগঞ্জ থানা