
এস কে সাগর মির্জা, জেলা প্রতিনিধি বগুড়া:
বগুড়ায় যমুনা নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে। ইতোমধ্যে নদী এগিয়ে এসেছে বন্যা নিয়ন্ত্রণের মূল বাঁধের খুব কাছাকাছি। এতে সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বগুড়ার অংশে যমুনার প্রায় ৬০ কিলোমিটার তীরের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর এলাকা। সেখানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ মূল বাঁধ থেকে যমুনার দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ মিটার। জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও স্থায়ী সমাধান না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যমুনার তীর রক্ষায় দুটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২ হাজার ২৭০ কোটি টাকা এবং বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সংশোধন ও প্রক্রিয়াগত কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে।
পাউবো কর্মকর্তারা জানান, সারিয়াকান্দির কামালপুর থেকে ধুনটের বানিয়াজান পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া সোনাতলার তেকানি-চুকাইনগর, সারিয়াকান্দির শিমুলতাইর ও পূর্ব সোজাইতপুর এলাকাতেও ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষায় সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলে নদী নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিবছরই নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যমুনার মতো প্রবল স্রোতের নদীতে শুধু জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা ও স্থায়ী তীর সংরক্ষণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।
প্রতিবেদকের নাম 



















