
জিহাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর দিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের প্রেক্ষিতে দেশের বাজারে আবারও এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই দর ঘোষণা করা হয়। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি ওজনের প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা থেকেই এই নতুন দর কার্যকর হবে।
বিইআরসি জানায়, প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা থেকে কমিয়ে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে শুধু ১২ কেজি নয়, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডারের দামও একই অনুপাতে সমন্বয় করা হবে।
অটোগ্যাসের দামেও সুখবর
শুধু গৃহস্থালি এলপিজি নয়, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।
দাম কমার কারণ
বিইআরসি’র ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম নিম্নমুখী। আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর ঘোষিত সৌদি কার্গো প্রাইস (সিপি) ও আমদানি মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে বিইআরসি নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করে আসছে।
সরকারি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত
এদিকে, সরকারি কোম্পানির সরবরাহকৃত সাড়ে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বাজার মনিটরিংয়ের দাবি
নতুন মূল্য নির্ধারিত হলেও মাঠ পর্যায়ে ভোক্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে যে, অনেক ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি অর্থ আদায় করেন। বিশেষ করে ১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এই অভিযোগ বেশি। নতুন ঘোষণার পর নির্ধারিত মূল্যে পণ্যটি পাওয়া নিশ্চিত করতে জোরালো বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
এর আগে গত ২ জুন বিইআরসি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসে এসে ভোক্তারা আরও বড় অংকের স্বস্তি পেলেন।
প্রতিবেদকের নাম 
























