Dhaka ১০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঢাকার সড়কে এআই ক্যামেরা প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে ফিরছে শৃঙ্খলা নগরীর কয়েরদাঁড়া খ্রিস্টানপাড়া ধর্মপল্লীর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজন ভোলায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে মাদকের গ্রাস রোধে মানববন্ধন লামা তথ্য ফিসে উপপরিচালক গাজী শরীফা ইয়াছমিন-কে ফুলেল অভ্যর্থনা রাজশাহীতে মোটর শ্রমিকদের মানববন্ধন: দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি একনায়কতন্ত্র ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ বিলুপ্তির মুখে রুমা উপজেলা প্রেসক্লাব রাজশাহীতে মোটর শ্রমিকদের মানববন্ধন এ্যাডঃ নেওয়াজ হালিমা আরলী এমপির আগমনকে ঘিরে মাগুরার শ্রীপুরে গণসংবর্ধনা। মেঘনায় কোস্ট গার্ডের অভিযান: ২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

একনায়কতন্ত্র ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ বিলুপ্তির মুখে রুমা উপজেলা প্রেসক্লাব

​লিটন ত্রিপুরার তথ্যে, মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: পাহাড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার প্রধান দুর্গে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা প্রেসক্লাবের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘একনায়কতন্ত্র’, ‘চরম স্বেচ্ছাচারিতা’ এবং ‘নোংরা রাজনীতিকীকরণের’ গুরুতর অভিযোগ তুলে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ৩ জন প্রভাবশালী সাংবাদিক ও কর্মকর্তা। একের পর এক সিনিয়র সাংবাদিকদের এই গণ-পদত্যাগের ঘটনায় পাহাড়ের গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা একে পাহাড়ের মুক্ত সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি ‘কালো অধ্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন। ​প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, রুমা প্রেসক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে একক আধিপত্য ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ তুলে ১৫ মে ২০২৬ তারিখে কার্যনির্বাহী কমিটি ও সাধারণ সদস্যপদ থেকে একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিন শীর্ষ সাংবাদিক। পদত্যাগকারী কর্মকর্তারা হলেন— প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মংহাইথুই মার্মা, কার্যনির্বাহী সদস্য অংবাসিং মার্মা এবং সাধারণ সদস্য উবাসিং মার্মা। ​যৌথ পদত্যাগপত্রে তারা সভাপতির বিরুদ্ধে তিনটি মারাত্মক ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছেন: ১. একক আধিপত্য: সভাপতি কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো আইন বা সিদ্ধান্ত না মেনে সম্পূর্ণ একক ক্ষমতাবলে একনায়কতান্ত্রিক উপায়ে ক্লাব পরিচালনা করছেন। ২. সদস্যদের অবমূল্যায়ন: নির্বাচিত কর্মকর্তা ও সাধারণ সদস্যদের মতামতকে পুরোপুরি উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করা হচ্ছে। ৩. সাংগঠনিক অনিয়ম: ক্লাবের গঠনতান্ত্রিক নিয়ম লঙ্ঘন করে ভেতরের প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আগামী কাল সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন

 

​পদত্যাগকারী কর্মকর্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের অধিকার ও ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু বর্তমান সভাপতির একক সিদ্ধান্ত ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণের কারণে ক্লাবে স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো পরিবেশ নেই। নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখতেই আমরা একযোগে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।”;​ভেঙে পড়েছে রুমা প্রেসক্লাবের চেইন অব কমান্ড: বিশেষ এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, রুমা উপজেলা প্রেসক্লাবে এই সংকট রাতারাতি তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল চেপে রাখার পর সম্প্রতি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চনুমং মার্মা পদত্যাগ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সাধারণ সম্পাদকের পর এবার একযোগে আরও তিন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করায় ক্লাবটি এখন কার্যত নেতৃত্বশূন্য ও ভাঙনের মুখে পড়েছে। ​রুমার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সদ্য পদত্যাগকারী সিনিয়র সাংবাদিক মংহাইথুই মার্মা বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “রুমা প্রেস ক্লাবে বর্তমানে চরম একনায়কতন্ত্র চলমান এবং সেখানে নোংরা রাজনীতি ঢুকে গেছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে। আমরা এই পকেট কমিটি মানি না।” তিনি অবিলম্বে বর্তমান রুমা প্রেসক্লাব ভেঙে দিয়ে ভেতরে ও বাইরে থাকা সব প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন এবং নিরপেক্ষভাবে প্রেসক্লাব পুনর্গঠনের ডাক দিয়েছেন। খুব শিগগিরই এর জন্য মাঠপর্যায়ে জোরদার কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রুমা প্রেসক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী কায়দায় সংগঠন চালানো এবং পকেট কমিটি গঠনের এত বড় ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলেও, অভিযুক্ত সভাপতি এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও পড়ুনঃ  দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার গৌরবের পথ চলা ৩৫ বছর পূর্তি উৎসব -২০২৬

 

এই চরম সংকটের মুহূর্তেও তার এই রহস্যজনক নীরবতা সাধারণ সাংবাদিকদের ক্ষোভকে আরও বেশি উস্কে দিচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা অনেকে মনে করছেন, উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই শীর্ষ সংগঠনটি যদি ব্যক্তিবিশেষের পকেট প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, তবে পাহাড়ে বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে পড়বে। অবিলম্বে এই একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে পেশাদারিত্ব ও ঐক্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন রুমার সর্বস্তরের সচেতন গণমাধ্যমকর্মীরা।

আরও পড়ুনঃ  মাগুরায় জেলা তথ্য অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, উন্নয়ন বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপেক্ষিত
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ঢাকার সড়কে এআই ক্যামেরা প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে ফিরছে শৃঙ্খলা

একনায়কতন্ত্র ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ বিলুপ্তির মুখে রুমা উপজেলা প্রেসক্লাব

আপডেটের সময়: ০৭:১৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

​লিটন ত্রিপুরার তথ্যে, মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: পাহাড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার প্রধান দুর্গে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা প্রেসক্লাবের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘একনায়কতন্ত্র’, ‘চরম স্বেচ্ছাচারিতা’ এবং ‘নোংরা রাজনীতিকীকরণের’ গুরুতর অভিযোগ তুলে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ৩ জন প্রভাবশালী সাংবাদিক ও কর্মকর্তা। একের পর এক সিনিয়র সাংবাদিকদের এই গণ-পদত্যাগের ঘটনায় পাহাড়ের গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা একে পাহাড়ের মুক্ত সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি ‘কালো অধ্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন। ​প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, রুমা প্রেসক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে একক আধিপত্য ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ তুলে ১৫ মে ২০২৬ তারিখে কার্যনির্বাহী কমিটি ও সাধারণ সদস্যপদ থেকে একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিন শীর্ষ সাংবাদিক। পদত্যাগকারী কর্মকর্তারা হলেন— প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মংহাইথুই মার্মা, কার্যনির্বাহী সদস্য অংবাসিং মার্মা এবং সাধারণ সদস্য উবাসিং মার্মা। ​যৌথ পদত্যাগপত্রে তারা সভাপতির বিরুদ্ধে তিনটি মারাত্মক ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছেন: ১. একক আধিপত্য: সভাপতি কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো আইন বা সিদ্ধান্ত না মেনে সম্পূর্ণ একক ক্ষমতাবলে একনায়কতান্ত্রিক উপায়ে ক্লাব পরিচালনা করছেন। ২. সদস্যদের অবমূল্যায়ন: নির্বাচিত কর্মকর্তা ও সাধারণ সদস্যদের মতামতকে পুরোপুরি উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করা হচ্ছে। ৩. সাংগঠনিক অনিয়ম: ক্লাবের গঠনতান্ত্রিক নিয়ম লঙ্ঘন করে ভেতরের প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বালিয়াডাঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি - হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক - মশিউর রহমান

 

​পদত্যাগকারী কর্মকর্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের অধিকার ও ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু বর্তমান সভাপতির একক সিদ্ধান্ত ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণের কারণে ক্লাবে স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো পরিবেশ নেই। নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখতেই আমরা একযোগে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।”;​ভেঙে পড়েছে রুমা প্রেসক্লাবের চেইন অব কমান্ড: বিশেষ এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, রুমা উপজেলা প্রেসক্লাবে এই সংকট রাতারাতি তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল চেপে রাখার পর সম্প্রতি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চনুমং মার্মা পদত্যাগ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সাধারণ সম্পাদকের পর এবার একযোগে আরও তিন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করায় ক্লাবটি এখন কার্যত নেতৃত্বশূন্য ও ভাঙনের মুখে পড়েছে। ​রুমার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সদ্য পদত্যাগকারী সিনিয়র সাংবাদিক মংহাইথুই মার্মা বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “রুমা প্রেস ক্লাবে বর্তমানে চরম একনায়কতন্ত্র চলমান এবং সেখানে নোংরা রাজনীতি ঢুকে গেছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে। আমরা এই পকেট কমিটি মানি না।” তিনি অবিলম্বে বর্তমান রুমা প্রেসক্লাব ভেঙে দিয়ে ভেতরে ও বাইরে থাকা সব প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন এবং নিরপেক্ষভাবে প্রেসক্লাব পুনর্গঠনের ডাক দিয়েছেন। খুব শিগগিরই এর জন্য মাঠপর্যায়ে জোরদার কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রুমা প্রেসক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী কায়দায় সংগঠন চালানো এবং পকেট কমিটি গঠনের এত বড় ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলেও, অভিযুক্ত সভাপতি এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও পড়ুনঃ  দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার গৌরবের পথ চলা ৩৫ বছর পূর্তি উৎসব -২০২৬

 

এই চরম সংকটের মুহূর্তেও তার এই রহস্যজনক নীরবতা সাধারণ সাংবাদিকদের ক্ষোভকে আরও বেশি উস্কে দিচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা অনেকে মনে করছেন, উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই শীর্ষ সংগঠনটি যদি ব্যক্তিবিশেষের পকেট প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, তবে পাহাড়ে বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে পড়বে। অবিলম্বে এই একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে পেশাদারিত্ব ও ঐক্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন রুমার সর্বস্তরের সচেতন গণমাধ্যমকর্মীরা।

আরও পড়ুনঃ  আগামী কাল সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন