
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: কোন কিছুতেই দমানো যাচ্ছে না জালিয়াত চক্রকে, গত দুই বছরে এই জালিয়াতি চক্র চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অন্তত ১০টি কন্টেইনার গায়েব হয়েছে বলে জানা যায় । সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের কাপড় ভর্তি একটি কন্টেইনার গায়েব করে দেয় এই চক্রটি। অথচ একটি কন্টেইনার খালাসে অন্তত ২৪টি ধাপে স্বাক্ষরসহ অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এই ধরনের জাল জালিয়াতির কারণে যেমন আর্থিক ক্ষতি র সম্মুখীন হচ্ছে আমদানিকারকেরা অন্য দিকে চট্টগ্রাম বন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কন্টেইনার ও পণ্য উধাও হওয়ার পেছনে বড় চক্র থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) আমিরুল ইসলাম বলেন, আমরা নিবিড়ভাবে তদন্ত করছি, এটার পেছনে কার কার দায় আছে। প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ ধরনের জালিয়াতির একটি মামলায়, গেল সোমবার দুটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. মোর্শেদ আলম (৩১) ও মো. সাইদুর রহমান (৫১)। মোর্শেদ আলম চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঝিরি ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর আসামি সাইদুর রহমান পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ জানায়, গত ১১ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তরের এফসিএল সেকশনে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ডকুমেন্ট ও স্বাক্ষর জাল করে ‘অন-ডেট, অন-চেসিস অ্যাসাইনমেন্ট’-এর একটি কপি আসল কাগজ হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি পুলিশের। পরে ওই জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে MRSU8692827 নম্বরের ৪০ ফুটের একটি পণ্যবাহী কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর গেট দিয়ে বের করে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে সিএমপির বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন)-এর তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রতিবেদকের নাম 



















