Dhaka ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ধুনটে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিল ইউনিয়ন বিএনপি বান্দরবানে সাড়ে ৩ একর জমি জবরদখলের চেষ্টা ও ঘুষ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন উলিপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাচ্চু মিয়া হত্যার অভিযোগ অভিযুক্ত গ্রেফতার লালপুরে বসতবাড়ি থেকে ১৬ ফুট উচ্চতার গাঁজাগাছ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ পদ্মা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি ছাত্র-জনতা: ডা. শফিকুর রহমান ভাঙ্গুড়ায় বনলতা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ১৩ বছরের সামিউলের ফরিদগঞ্জে কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মায়ের স্মৃতি আর শিকড়ের টানে কমলনগরে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ কুতুবদিয়ার উত্তর কৈয়ারবিলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ পরিবারকে জামায়াতের নগদ অর্থ সহায়তা

এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে দেশ কাদের হাতে যাবে: মির্জা ফখরুল

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৫৮ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে দেশ লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদার গণতন্ত্র) হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি-রাষ্ট্রবিরোধীদের দখলে যাবে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে যে এই দেশ কি উদার গণতান্ত্রিকদের হাতে থাকবে? নাকি-উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে নির্বাচনকে ঘিরে দেশে একটি অপপ্রচার চলছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। মির্জা ফখরুলের দাবি, নির্বাচন হলে বিএনপি ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি (ভূমিধস বিজয়) পাবে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক অবস্থায় পৌঁছাব। যেখানে গেলে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরি করব। কাজও হয়েছে অনেক। আমরাও কাজ করেছি। আমরা যখন আন্দোলন করছিলাম, তখনই আমরা এই রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। প্রথমে খালেদা জিয়া দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে ভিশন ২০৩০। এরপর বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করে ৩১ দফা দিয়েছেন।’

আরও পড়ুনঃ  মায়ের স্মৃতি আর শিকড়ের টানে কমলনগরে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ

মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার নিয়ে সরকারপক্ষের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সেটি বিএনপিই ২০২২ সালে প্রথম সামনে এনেছিল। আমরা যা যা বলেছি, সব কটি আজকে এখানে আছে। সুতরাং, এই সংস্কার নিয়ে আবার আমাদেরকে প্রশ্ন করে অনেকে—আপনারা কি সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে? এটা তো আমাদেরই সন্তান। আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি। কিছু রাজনৈতিক শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘তোমরা কিছুটা বেইমানি করেছ, আমার বলতে কোনো দ্বিধা নেই—যেগুলোতে আমরা একমত হই নাই, সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছ। তারপরও আমরা মেনে নিয়েছি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে।’

আরও পড়ুনঃ  মেহেন্দিগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষায় ভোর ৫টা থেকে যৌথ অভিযান, মাঠে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধ, ধর্ম ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, যারা অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করেনি, তারাই আজকে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়েছেন, আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার কথা বলেছেন। নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২৩ দিন বাকি আছে নির্বাচনের। এখন অনেকে বলে নির্বাচন হবে না, বাধা দেব। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন—তাদের তিনটা ভোটও নাই। বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেব না। তো ভাই, হোক নির্বাচন। দেখা যাক, কে কতটা ভোট পায়।’

আরও পড়ুনঃ  সব ধর্মের নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: রিজভী

তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি আমাদের গ্রহণ করে, আমরা আছি। জনগণ যদি বাদ দেয়, বাদ দিয়ে দেবে। আমরা বিরোধী দলে থাকব। আগে থেকে এত গলাবাজি কেন দেশের মানুষকে অবশ্যই উদারপন্থি রাস্তা, গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে, দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে? আমাদের অবশ্যই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে। গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে। মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান প্রমুখ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ধুনটে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিল ইউনিয়ন বিএনপি

এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে দেশ কাদের হাতে যাবে: মির্জা ফখরুল

আপডেটের সময়: ০৮:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে দেশ লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদার গণতন্ত্র) হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি-রাষ্ট্রবিরোধীদের দখলে যাবে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে যে এই দেশ কি উদার গণতান্ত্রিকদের হাতে থাকবে? নাকি-উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে নির্বাচনকে ঘিরে দেশে একটি অপপ্রচার চলছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। মির্জা ফখরুলের দাবি, নির্বাচন হলে বিএনপি ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি (ভূমিধস বিজয়) পাবে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক অবস্থায় পৌঁছাব। যেখানে গেলে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরি করব। কাজও হয়েছে অনেক। আমরাও কাজ করেছি। আমরা যখন আন্দোলন করছিলাম, তখনই আমরা এই রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। প্রথমে খালেদা জিয়া দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে ভিশন ২০৩০। এরপর বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করে ৩১ দফা দিয়েছেন।’

আরও পড়ুনঃ  এক লুটেরার হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে: ডা. শফিকুর রহমান

মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার নিয়ে সরকারপক্ষের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সেটি বিএনপিই ২০২২ সালে প্রথম সামনে এনেছিল। আমরা যা যা বলেছি, সব কটি আজকে এখানে আছে। সুতরাং, এই সংস্কার নিয়ে আবার আমাদেরকে প্রশ্ন করে অনেকে—আপনারা কি সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে? এটা তো আমাদেরই সন্তান। আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি। কিছু রাজনৈতিক শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘তোমরা কিছুটা বেইমানি করেছ, আমার বলতে কোনো দ্বিধা নেই—যেগুলোতে আমরা একমত হই নাই, সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছ। তারপরও আমরা মেনে নিয়েছি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে।’

আরও পড়ুনঃ  মায়ের স্মৃতি আর শিকড়ের টানে কমলনগরে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ

আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধ, ধর্ম ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, যারা অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করেনি, তারাই আজকে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়েছেন, আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার কথা বলেছেন। নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২৩ দিন বাকি আছে নির্বাচনের। এখন অনেকে বলে নির্বাচন হবে না, বাধা দেব। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন—তাদের তিনটা ভোটও নাই। বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেব না। তো ভাই, হোক নির্বাচন। দেখা যাক, কে কতটা ভোট পায়।’

আরও পড়ুনঃ  মেহেন্দিগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষায় ভোর ৫টা থেকে যৌথ অভিযান, মাঠে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি আমাদের গ্রহণ করে, আমরা আছি। জনগণ যদি বাদ দেয়, বাদ দিয়ে দেবে। আমরা বিরোধী দলে থাকব। আগে থেকে এত গলাবাজি কেন দেশের মানুষকে অবশ্যই উদারপন্থি রাস্তা, গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে, দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে? আমাদের অবশ্যই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে। গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে। মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান প্রমুখ।