Dhaka ১০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
হোসেনপুরে ব্র্যাকের বিনামূল্যে মুরগির বাচ্চা বিতরণ, স্বাবলম্বী হবেন প্রান্তিক নারীরা তারেক রহমান ও মোরশেদ মিল্টনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শাজাহানপুরে যুবদলের আনন্দ মিছিল দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন ​বিশ্বকাপ উন্মাদনায় ঢাবি: ভোরেই বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ উপভোগে হাজারো দর্শক কালিয়াকৈর গ্রামবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও এলাকা পরিদর্শনে গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার সোনাকানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে জসিম উদ্দিনের পুনর্বহাল নিয়ে বিতর্ক, এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ফ্যামিলি কার্ড অস্বচ্ছল পরিবারের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে: ডিসি ফরিদা নাচোলে কৃষকদের অংশগ্রহণে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত বান্দরবান মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে ছাতা মার্কার নুরুল ইসলাম বাচ্চুর বিজয় সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে নদী থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে তদন্ত

সোনাকানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে জসিম উদ্দিনের পুনর্বহাল নিয়ে বিতর্ক, এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মোঃ সৈয়দ মিয়া (ব্যুরো চিফ চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ১৭ নম্বর সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিনকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১৬ জুন) সরেজমিনে সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা ধরনের মতামত ও উদ্বেগের কথা জানা যায়।
স্থানীয় জনতা ও একাধিক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে জানান, জসিম উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে ফিরে আসা এলাকার জন্য ইতিবাচক হবে না। তাদের অভিযোগ, তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন এবং নির্বাচনের সময় ও পরবর্তী সময়ে অনেক সাধারণ মানুষ হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার স্মৃতি এখনো মানুষের মনে রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমানে এলাকায় তার জনসমর্থন নেই। ফলে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে গেলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। তারা মনে করেন, বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যেভাবে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা অব্যাহত রাখাই জনগণের জন্য অধিক কল্যাণকর হবে বলে তারা মত দেন।
জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল চেয়ারম্যান পদ পুনর্বহালের দাবিতে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন জসিম উদ্দিন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ মে আদালত স্থানীয় সরকার বিভাগকে ৩০ দিনের মধ্যে তার চেয়ারম্যান পদ পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের ওই আদেশ এবং জেলা প্রশাসকের পত্রের আলোকে গত ১১ জুন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জসিম উদ্দিনকে চেয়ারম্যান হিসেবে প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনের অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে এ প্রজ্ঞাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, “আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার সময় আনুষ্ঠানিক অফিস আদেশ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব প্রত্যাহার বা অব্যাহতি সংক্রান্ত কোনো অফিস আদেশ ছাড়াই সাবেক চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এটি কতটা আইনসঙ্গত, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবেন।”
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রজ্ঞাপন জারির পর চট্টগ্রামে অবস্থানকালে ইউনিয়ন পরিষদের কিছু নথিতে জসিম উদ্দিনের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কয়েকদিন ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ করেও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিউটন চক্রবর্তীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমি উপজেলায় একটি সভায় আছি।” নথিতে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সম্ভবত চেয়ারম্যান এসে স্বাক্ষর করে গেছেন।”
অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের এক উদ্যোক্তা জানান, “কে স্বাক্ষর করেছেন, তা আমি নিজে দেখিনি। প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এনে দিয়েছেন।”
এদিকে মঙ্গলবার স্থানীয় জনসাধারণ, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে জসিম উদ্দিনকে ‘স্বৈরাচারের সহযোগী’ এবং ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলার আসামি উল্লেখ করে তার চেয়ারম্যান পদ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ইউএনও কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “উচ্চ আদালত আমাদের কাছে কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিবেদন চাননি। আদালত সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন এবং প্রশাসন সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছে। আদালতের আদেশ অমান্য করার সুযোগ কারো নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আদালতের আদেশই সর্বোচ্চ। আদালত যখন কোনো সিদ্ধান্ত দেন, তখন পূর্ববর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারায়। ফলে আদালতের নির্দেশনার পর জসিম উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদ পুনর্বহাল হয়েছে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব স্থগিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আলাদা কোনো অব্যাহতিপত্রের প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুনঃ  আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু হাসপাতালে
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

হোসেনপুরে ব্র্যাকের বিনামূল্যে মুরগির বাচ্চা বিতরণ, স্বাবলম্বী হবেন প্রান্তিক নারীরা

সোনাকানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে জসিম উদ্দিনের পুনর্বহাল নিয়ে বিতর্ক, এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আপডেটের সময়: ০৬:১৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

মোঃ সৈয়দ মিয়া (ব্যুরো চিফ চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ১৭ নম্বর সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিনকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১৬ জুন) সরেজমিনে সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা ধরনের মতামত ও উদ্বেগের কথা জানা যায়।
স্থানীয় জনতা ও একাধিক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে জানান, জসিম উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে ফিরে আসা এলাকার জন্য ইতিবাচক হবে না। তাদের অভিযোগ, তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন এবং নির্বাচনের সময় ও পরবর্তী সময়ে অনেক সাধারণ মানুষ হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার স্মৃতি এখনো মানুষের মনে রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমানে এলাকায় তার জনসমর্থন নেই। ফলে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে গেলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। তারা মনে করেন, বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যেভাবে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা অব্যাহত রাখাই জনগণের জন্য অধিক কল্যাণকর হবে বলে তারা মত দেন।
জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল চেয়ারম্যান পদ পুনর্বহালের দাবিতে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন জসিম উদ্দিন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ মে আদালত স্থানীয় সরকার বিভাগকে ৩০ দিনের মধ্যে তার চেয়ারম্যান পদ পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের ওই আদেশ এবং জেলা প্রশাসকের পত্রের আলোকে গত ১১ জুন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জসিম উদ্দিনকে চেয়ারম্যান হিসেবে প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনের অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে এ প্রজ্ঞাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, “আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার সময় আনুষ্ঠানিক অফিস আদেশ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব প্রত্যাহার বা অব্যাহতি সংক্রান্ত কোনো অফিস আদেশ ছাড়াই সাবেক চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এটি কতটা আইনসঙ্গত, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবেন।”
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রজ্ঞাপন জারির পর চট্টগ্রামে অবস্থানকালে ইউনিয়ন পরিষদের কিছু নথিতে জসিম উদ্দিনের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কয়েকদিন ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ করেও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিউটন চক্রবর্তীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমি উপজেলায় একটি সভায় আছি।” নথিতে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সম্ভবত চেয়ারম্যান এসে স্বাক্ষর করে গেছেন।”
অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের এক উদ্যোক্তা জানান, “কে স্বাক্ষর করেছেন, তা আমি নিজে দেখিনি। প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এনে দিয়েছেন।”
এদিকে মঙ্গলবার স্থানীয় জনসাধারণ, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে জসিম উদ্দিনকে ‘স্বৈরাচারের সহযোগী’ এবং ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলার আসামি উল্লেখ করে তার চেয়ারম্যান পদ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ইউএনও কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “উচ্চ আদালত আমাদের কাছে কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিবেদন চাননি। আদালত সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন এবং প্রশাসন সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছে। আদালতের আদেশ অমান্য করার সুযোগ কারো নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আদালতের আদেশই সর্বোচ্চ। আদালত যখন কোনো সিদ্ধান্ত দেন, তখন পূর্ববর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারায়। ফলে আদালতের নির্দেশনার পর জসিম উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদ পুনর্বহাল হয়েছে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব স্থগিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আলাদা কোনো অব্যাহতিপত্রের প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুনঃ  ঈদগাঁও বাজারে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য: ডিসি সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে