Dhaka ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বান্দরবানে উন্নয়ন ও সমন্বয় জোরদারে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দ্রুতই প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী মার্কিন নৌ-অবরোধ না তুললে লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ বন্ধের হুমকি ইরানের উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী এসএসসি ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে হোসেনপুরে মতবিনিময় সভা ডলুপাড়ায় সাংগ্রাইয়ের জলকেলি: মন্ত্রী-এমপির উপস্থিতিতে সম্প্রীতির মহোৎসব লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে ৬৪৭৬ ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা বাদ ধামইরহাটে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এলজিইডি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: নীরব দপ্তর, ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫

সিলেটের তামাবিল স্থল বন্দর এখনো ডেভিলদের নিয়ন্ত্রণে চলছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ তামাবিল স্থল বন্দরকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক, বিভ্রান্তি এবং প্রশ্নের ঘূর্ণাবর্ত এক পোর্টালে দুর্নীতির অভিযোগ, অন্য পোর্টালে প্রশংসার ঢেউ—প্রশ্নের মুখে বন্দর ব্যবস্থাপনা ও গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা। একদিকে রাজস্ব ফাঁকি ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলে তদন্ত দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে একই বন্দরকে ‘নিয়ম মেনে পরিচালিত’ দাবি করে সাফাই গাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে। এতে জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়—আসল সত্য কোনটি?১৯ মার্চ ২০১৬ তারিখে একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তামাবিল স্থল বন্দরে ব্যাপক রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্দর ও কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দিলেন- এমপি এনামুল হক

সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে আসে, কয়েকটি সিএনএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্টের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই চক্র পণ্যের ঘোষণাপত্রে কারসাজি করে প্রকৃত পরিমাণের তুলনায় কম দেখিয়ে ছাড়পত্র নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ টনের ট্রাকে ১৪-১৫ টন এবং ১২ টনের ট্রাকে ২৩-২৫ টন পর্যন্ত পণ্য পরিবহন করা হলেও কাগজে তা কম দেখানো হচ্ছে।

এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অতিরিক্ত পণ্যের বিপরীতে অনিয়মিত অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট একটি মহল আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, “উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তামাবিল পোর্টের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই।”

আরও পড়ুনঃ  উজিরপুরে ৩ দিনব্যাপী জমজমাট বৈশাখী মেলা: রঙিন আয়োজনে মাতবে বি.এন. খাঁন কলেজ মাঠ

একইভাবে তামাবিল কাস্টমস সুপার শ্রাবানা বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা নেই, তবে যাচাই করে দেখা হচ্ছে।”এর ঠিক ১৩ দিন পর, পহেলা এপ্রিল ২০২৬-এ কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে দাবি করা হয়—“তামাবিল স্থল বন্দর দিয়ে ফের পাথর আমদানি শুরু, রাজস্ব আদায়ে কঠোর অবস্থানে পোর্ট ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।”

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রমজানের ঈদের ছুটি শেষে বন্দর পুনরায় চালু হলে পাথর আমদানি শুরু হয় এবং শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে। বন্দর কর্তৃপক্ষ নাকি নিয়ম মেনে গাড়ির ওজন ও পরিমাপ যাচাই করে পণ্য খালাস করছে। এমনকি সাম্প্রতিক অভিযোগের পর কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক হয়ে রাজস্ব আদায়ে কঠোরতা বৃদ্ধি করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ‘পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়ার আগ পর্যন্ত মৌলভীবাজর শহরে পূর্বের ভাড়াই বহাল’

এই পরস্পরবিরোধী সংবাদে জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রশ্ন- আসলেই কি তামাবিল স্থল বন্দরে অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকি চলছে?নাকি ‘মিডিয়াবাজি’র আড়ালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে?

এমনকি কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে কি কোনো মহল অর্থ লেনদেনের খেলায় মেতে উঠেছে?এ বিষয়ে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তামাবিল কাস্টমস সুপার শ্রাবানা ফোন রিসিভ করেননি।

এমন পরিস্থিতিতে সচেতন মহল বলছেন, বিভ্রান্তি দূর করতে এবং সত্য উদঘাটনে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বান্দরবানে উন্নয়ন ও সমন্বয় জোরদারে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সিলেটের তামাবিল স্থল বন্দর এখনো ডেভিলদের নিয়ন্ত্রণে চলছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি

আপডেটের সময়: ০৮:২২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ তামাবিল স্থল বন্দরকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক, বিভ্রান্তি এবং প্রশ্নের ঘূর্ণাবর্ত এক পোর্টালে দুর্নীতির অভিযোগ, অন্য পোর্টালে প্রশংসার ঢেউ—প্রশ্নের মুখে বন্দর ব্যবস্থাপনা ও গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা। একদিকে রাজস্ব ফাঁকি ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলে তদন্ত দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে একই বন্দরকে ‘নিয়ম মেনে পরিচালিত’ দাবি করে সাফাই গাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে। এতে জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়—আসল সত্য কোনটি?১৯ মার্চ ২০১৬ তারিখে একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তামাবিল স্থল বন্দরে ব্যাপক রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্দর ও কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  বর্ষবরণ উপলক্ষে নোয়াপাড়া রানার্স ইউনিটি সংগঠনের ফুটবল টুর্নামেন্ট।

সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে আসে, কয়েকটি সিএনএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্টের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই চক্র পণ্যের ঘোষণাপত্রে কারসাজি করে প্রকৃত পরিমাণের তুলনায় কম দেখিয়ে ছাড়পত্র নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ টনের ট্রাকে ১৪-১৫ টন এবং ১২ টনের ট্রাকে ২৩-২৫ টন পর্যন্ত পণ্য পরিবহন করা হলেও কাগজে তা কম দেখানো হচ্ছে।

এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অতিরিক্ত পণ্যের বিপরীতে অনিয়মিত অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট একটি মহল আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, “উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তামাবিল পোর্টের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই।”

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দিলেন- এমপি এনামুল হক

একইভাবে তামাবিল কাস্টমস সুপার শ্রাবানা বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা নেই, তবে যাচাই করে দেখা হচ্ছে।”এর ঠিক ১৩ দিন পর, পহেলা এপ্রিল ২০২৬-এ কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে দাবি করা হয়—“তামাবিল স্থল বন্দর দিয়ে ফের পাথর আমদানি শুরু, রাজস্ব আদায়ে কঠোর অবস্থানে পোর্ট ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।”

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রমজানের ঈদের ছুটি শেষে বন্দর পুনরায় চালু হলে পাথর আমদানি শুরু হয় এবং শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে। বন্দর কর্তৃপক্ষ নাকি নিয়ম মেনে গাড়ির ওজন ও পরিমাপ যাচাই করে পণ্য খালাস করছে। এমনকি সাম্প্রতিক অভিযোগের পর কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক হয়ে রাজস্ব আদায়ে কঠোরতা বৃদ্ধি করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  শামসুল হক সেতুর টোল বন্ধের দাবিতে সড়কে অবস্থান, পুনরায় ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষোভ

এই পরস্পরবিরোধী সংবাদে জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রশ্ন- আসলেই কি তামাবিল স্থল বন্দরে অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকি চলছে?নাকি ‘মিডিয়াবাজি’র আড়ালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে?

এমনকি কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে কি কোনো মহল অর্থ লেনদেনের খেলায় মেতে উঠেছে?এ বিষয়ে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তামাবিল কাস্টমস সুপার শ্রাবানা ফোন রিসিভ করেননি।

এমন পরিস্থিতিতে সচেতন মহল বলছেন, বিভ্রান্তি দূর করতে এবং সত্য উদঘাটনে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।