
এস কে শুভ গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরে জমির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, নির্মাণাধীন ইটের দেয়াল ভাঙচুর ও ৫০ বস্তা সিমেন্ট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ২১ শে অক্টোবর দুপুর ১২ টার সময় স্থানীয় তিন ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. নাছির উদ্দিন মন্ডল (৩৮) নামের এক ব্যক্তি কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জমি দখলচেষ্টার পাল্টা দাবি করেছেন অভিযুক্ত এক ব্যক্তির মেয়ে। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় তাঁর বাবা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে ফালু মন্ডল (৫৭), মো. লালু মন্ডল (৫৩) ও মো. ইয়াছিন মোল্লার (৬১) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন বারেন্ডা মোল্লা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগকারী নাছির উদ্দিন মন্ডলের ভাষ্য, বারেন্ডা মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর ১৯৫ ও আরএস খতিয়ান নম্বর ১৫০-এর অন্তর্ভুক্ত এসএ ১৪৪ ও ১৪৫ এবং আরএস ৩৮৫ নম্বর দাগের জমি নিয়ে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ চলছে। ওই জমির ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ তাঁদের পরিবারের মালিকানাধীন বলে দাবি করেন তিনি। এর মধ্যে তাঁর বাবা আর্থিক প্রয়োজনে আব্দুল বেপারীসহ কয়েকজনের কাছে ৭ শতাংশ জমি বিক্রি করেন অভিযোগে বলা হয়, বিক্রি করা জমি পরিমাপ করে ক্রেতাদের বুঝিয়ে দিতে গেলে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে বাধা দেন এবং ভয়ভীতি দেখান। এ ছাড়া জমির পূর্ব পাশে অভিযুক্তদের জমিতে থাকা বাঁশ ও বাঁশের গোড়া তাঁদের জমির ওপর হেলে পড়ায় ক্ষতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নাছির উদ্দিন।লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বারেন্ডা মোল্লা মার্কেট এলাকায় বিক্রি করা জমি পরিমাপ করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ সময় অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাছির উদ্দিনের অভিযোগ, অভিযুক্তরা জমিতে প্রবেশ করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে বাধা দেন এবং নির্মাণাধীন ইটের দেয়াল ভাঙচুর করেন। এ সময় তাঁর কাছে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ও তাঁর বাবাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পাশাপাশি মারমুখী আচরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ৫০ বস্তা সিমেন্ট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন নাছির উদ্দিন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান বলে জানান তিনি। অভিযোগের বিষয়ে মো. লালু মন্ডলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর মেয়ে শিলা বলেন, তাঁদের জমির সঙ্গে নাছির উদ্দিনদের জমি রয়েছে। তাঁদের দাবি, নাছির উদ্দিনরা তাঁদের জমিও দখল করার চেষ্টা করছেন। এ কারণে তাঁর বাবা পুলিশ ডেকে এনে নির্মাণকাজে বাধা দেন।
শিলার ভাষ্য, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর নাছির উদ্দিনরা আবার কাজ শুরু করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাঁর বাবা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা মো. খালিদ হোসেন বলেন, মারামারির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বিষয়ে পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদকের নাম 



















