Dhaka ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মৌলভীবাজারে রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা নারীসহ আহত ৩ ​সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, নন্দীগ্রামে খাস জমি ও রাস্তা উদ্ধার ​ছোলমাইড উচ্চ বিদ্যালয়ে ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট ডিভিশনের বিশেষ সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম:’নীরবতা ভেঙে পুলিশের সহায়তা নিন সাহায্য চেয়ে কেমিক্যাল প্রয়োগ; শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার কিশোরগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার, মামলা দায়ের সার্বভৌমত্ব ও দেশমাতৃকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের শপথ নিলেন নবীন নৌ কর্মকর্তারা রিফাত হত্যার রায়: ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড তরুণদের হাত ধরেই আসবে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ হারাগাছ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সভা সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

লামায় কোয়ান্টামের বৃদ্ধাশ্রমের জায়গা নিয়ে সালিশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, অবরুদ্ধদের উদ্ধারে সেনা-পুলিশ

বিষেশ প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বৃদ্ধাশ্রমের জায়গার সীমানা নির্ধারণ ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জায়গা সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য ডাকা সালিশি বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার পর ক্ষুব্ধ জনতার হাতে কোয়ান্টাম কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার উপজেলার সরই ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরই ইউনিয়নে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বৃদ্ধাশ্রমের জায়গার সীমানা ও মালিকানা নিয়ে স্থানীয় আবদুল গফুর ম্যানেজার ও তার লোকজনের সাথে কোয়ান্টাম কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষের বৈধ দলিলপত্র যাচাইয়ের জন্য একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  বান্দরবান মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে ছাতা মার্কার নুরুল ইসলাম বাচ্চুর বিজয়

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয় পক্ষের বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপনের কথা ছিল। তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দলিলাদি উপস্থাপন করা হলেও প্রতিপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ উল্টো অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, সালিশি বৈঠকের কথা বলে তাদেরকে বসিয়ে রেখে অন্যায়ভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই অতর্কিত হামলায় তাদের আবদুল গফুর ম্যানেজার গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রতিপক্ষের লোকজন ও স্থানীয়রা আরও জানান, এই হামলার সাথে যারা সরাসরি জড়িত ছিল, তাদেরকে অবশ্যই হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যেতে হবে। হাতকড়া না পরিয়ে তাদেরকে সেখান থেকে বের করতে দেওয়া হবে না বলে তারা সাফ জানিয়ে দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত করতে অবরুদ্ধকারীদের বিভিন্নভাবে আশ্বাস দেওয়া হলেও উত্তেজিত জনতা তা মানতে অস্বীকৃতি জানায় এবং কোয়ান্টাম কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

আরও পড়ুনঃ  সিইপিজেডস্থ চৌধুরী মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির শটপিছ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডিসি রাইডার্স ও রানার্স আপ আজমীর বয়লার হাউজ.

পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত ও জটিল রূপ নিলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেখানে উত্তেজিত জনতার মারমুখী অবস্থানের মুখেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত ধৈর্য ও দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দেন। তারা যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে অবরুদ্ধদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার তৎপরতা শুরু করেন।
পরবর্তীতে লামা থানার ওসি, লামা সার্কেলের (সহকারী পুলিশ সুপার) এবং গজালিয়া ক্যাম্প কমান্ডারের যৌথ নির্দেশনায় ও উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তারা উত্তেজিত জনতাকে আশ্বস্ত করেন এবং আইনগতভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য সবাইকে পুলিশ ফাঁড়িতে আসার অনুরোধ জানান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অবরুদ্ধদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  ভরা মৌসুমে আমে জমজমাট পত্নীতলা বিভিন্ন হাট, দাম নিয়ে চাষীদের আক্ষেপ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ শান্ত হওয়ার পর এই বিরোধপূর্ণ জায়গার মালিকানা ও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য নতুন একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে পুনরায় উভয় পক্ষের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে পরবর্তী সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন থমথমে হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মৌলভীবাজারে রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা নারীসহ আহত ৩

লামায় কোয়ান্টামের বৃদ্ধাশ্রমের জায়গা নিয়ে সালিশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, অবরুদ্ধদের উদ্ধারে সেনা-পুলিশ

আপডেটের সময়: ০৯:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিষেশ প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বৃদ্ধাশ্রমের জায়গার সীমানা নির্ধারণ ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জায়গা সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য ডাকা সালিশি বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার পর ক্ষুব্ধ জনতার হাতে কোয়ান্টাম কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার উপজেলার সরই ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরই ইউনিয়নে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বৃদ্ধাশ্রমের জায়গার সীমানা ও মালিকানা নিয়ে স্থানীয় আবদুল গফুর ম্যানেজার ও তার লোকজনের সাথে কোয়ান্টাম কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষের বৈধ দলিলপত্র যাচাইয়ের জন্য একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ​কেরানীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন এমপি আমান উল্লাহ আমান

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয় পক্ষের বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপনের কথা ছিল। তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দলিলাদি উপস্থাপন করা হলেও প্রতিপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ উল্টো অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, সালিশি বৈঠকের কথা বলে তাদেরকে বসিয়ে রেখে অন্যায়ভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই অতর্কিত হামলায় তাদের আবদুল গফুর ম্যানেজার গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রতিপক্ষের লোকজন ও স্থানীয়রা আরও জানান, এই হামলার সাথে যারা সরাসরি জড়িত ছিল, তাদেরকে অবশ্যই হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যেতে হবে। হাতকড়া না পরিয়ে তাদেরকে সেখান থেকে বের করতে দেওয়া হবে না বলে তারা সাফ জানিয়ে দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত করতে অবরুদ্ধকারীদের বিভিন্নভাবে আশ্বাস দেওয়া হলেও উত্তেজিত জনতা তা মানতে অস্বীকৃতি জানায় এবং কোয়ান্টাম কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

আরও পড়ুনঃ  বান্দরবান মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে ছাতা মার্কার নুরুল ইসলাম বাচ্চুর বিজয়

পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত ও জটিল রূপ নিলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেখানে উত্তেজিত জনতার মারমুখী অবস্থানের মুখেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত ধৈর্য ও দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দেন। তারা যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে অবরুদ্ধদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার তৎপরতা শুরু করেন।
পরবর্তীতে লামা থানার ওসি, লামা সার্কেলের (সহকারী পুলিশ সুপার) এবং গজালিয়া ক্যাম্প কমান্ডারের যৌথ নির্দেশনায় ও উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তারা উত্তেজিত জনতাকে আশ্বস্ত করেন এবং আইনগতভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য সবাইকে পুলিশ ফাঁড়িতে আসার অনুরোধ জানান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অবরুদ্ধদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  চুনারুঘাট চন্ডিছড়া চা বাগানে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম ভার্চুয়ালী উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ শান্ত হওয়ার পর এই বিরোধপূর্ণ জায়গার মালিকানা ও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য নতুন একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে পুনরায় উভয় পক্ষের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে পরবর্তী সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন থমথমে হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।