Dhaka ১০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ধুনটে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনে প্রাণ গেল গৃহবধূর, অভিযুক্ত স্বামী আটক মান্দায় ৩৬ জুলাই উপলক্ষে যুব জামায়াতের আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত কাউনিয়ার বিশিষ্ট হোমিও চিকিৎসক পরিমল চন্দ্র বর্মন আর নেই সিরাজগঞ্জে ২৫৫ গ্রাম হেরোইন সহ মাদক  সরবরাহকারী গ্রেফতার গোয়াইনঘাটের শীতের আমেজ হাজারো অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হাওর ও গাছপালা ৫ বছরের মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার উপযুক্ত হবে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আমাদের মিছিল বড় হবে: নাহিদ রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু ইনানীতে নলকূপ খননের স্থানে গ্যাসের আগুন, ১৪৪ ধারা জারি মরহুমা সুমাইয়া বেগমের স্মরণসভা ও ঢাকা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

জামালপুরে নারী অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

শফিকুল ইসলাম (জামালপুর)স্টাফ রিপোর্টারঃ  জামালপুর সদরের রশিদপুর এলাকায় এক নারীকে নিজ ঘর থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে অপহরণের দায়ে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ (৩১ শে আগস্ট ২০২৬) সোমবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের রশিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মো. ছাত্তার আলী, কয়ড়া পাড়া এলাকার মৃত শামছুল হকের ছেলে আব্দুল মালেক এবং মৃত নায়েব আলীর ছেলে মো. আনোয়ার। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়- ওই ভুক্তভোগী নারী রশিদপুর ভাটিপাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করে বসবাস করছিলেন। পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে ওই নারী ছোট এক সন্তান নিয়ে নিজ বাড়িতে থাকতেন। একা থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী ছাত্তার আলী দীর্ঘ দিন ধরে তাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ছাত্তার এলাকায় প্রভাবশালী এবং মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় তেজপাতা চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের অর্থনৈতিক চিত্র

মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়- ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত অনুমানিক ১১টার দিকে ছাত্তার আলী ও তার সহযোগীরা ওই নারীর ঘরের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করে। ঘুম থেকে উঠে লোকজনের শব্দ পেয়ে তিনি দরজা খুললে চার্জার লাইট ও চাঁদের আলোতে আসামিদের দেখতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্দুল মালেক নিজের কোমরে থাকা গামছা দিয়ে ভুক্তভোগীর মুখ বেঁধে ফেলেন। এরপর আসামিরা তাকে পাঁজাকোলা করে বসতঘরের উত্তর পাশে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে নিয়ে যায়। সেখানে আনোয়ার ও মালেকসহ অন্যরা চারদিকে ঘিরে পাহারায় থাকে এবং ছাত্তার আলী তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে জানালে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে রাত ১১টা ৫৫ মিনেটের দিকে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরদিন ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। তাদের পরামর্শে তিনি ২২ অক্টোবর ২০২৪ জামালপুর থানায় ছাত্তার আলী, আব্দুল মালেক ও আনোয়ারসহ অজ্ঞাত আরও একজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান- দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালীন আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামিদের এই দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান করেছেন। এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ধুনটে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনে প্রাণ গেল গৃহবধূর, অভিযুক্ত স্বামী আটক

জামালপুরে নারী অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেটের সময়: ০৩:০৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

শফিকুল ইসলাম (জামালপুর)স্টাফ রিপোর্টারঃ  জামালপুর সদরের রশিদপুর এলাকায় এক নারীকে নিজ ঘর থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে অপহরণের দায়ে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ (৩১ শে আগস্ট ২০২৬) সোমবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের রশিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মো. ছাত্তার আলী, কয়ড়া পাড়া এলাকার মৃত শামছুল হকের ছেলে আব্দুল মালেক এবং মৃত নায়েব আলীর ছেলে মো. আনোয়ার। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়- ওই ভুক্তভোগী নারী রশিদপুর ভাটিপাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করে বসবাস করছিলেন। পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে ওই নারী ছোট এক সন্তান নিয়ে নিজ বাড়িতে থাকতেন। একা থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী ছাত্তার আলী দীর্ঘ দিন ধরে তাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ছাত্তার এলাকায় প্রভাবশালী এবং মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে বিলমাড়ীয়া মডেল একাডেমীর ১ যুগ পূর্তি ও কৃতি সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়- ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত অনুমানিক ১১টার দিকে ছাত্তার আলী ও তার সহযোগীরা ওই নারীর ঘরের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করে। ঘুম থেকে উঠে লোকজনের শব্দ পেয়ে তিনি দরজা খুললে চার্জার লাইট ও চাঁদের আলোতে আসামিদের দেখতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্দুল মালেক নিজের কোমরে থাকা গামছা দিয়ে ভুক্তভোগীর মুখ বেঁধে ফেলেন। এরপর আসামিরা তাকে পাঁজাকোলা করে বসতঘরের উত্তর পাশে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে নিয়ে যায়। সেখানে আনোয়ার ও মালেকসহ অন্যরা চারদিকে ঘিরে পাহারায় থাকে এবং ছাত্তার আলী তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে জানালে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে রাত ১১টা ৫৫ মিনেটের দিকে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরদিন ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। তাদের পরামর্শে তিনি ২২ অক্টোবর ২০২৪ জামালপুর থানায় ছাত্তার আলী, আব্দুল মালেক ও আনোয়ারসহ অজ্ঞাত আরও একজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান- দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালীন আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামিদের এই দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান করেছেন। এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় তেজপাতা চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের অর্থনৈতিক চিত্র