
আবু ওবায়দুল হক, চিলমারী, (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ লন্ডন ভিত্তিক ট্রাভেল ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ারের একটি শাখায় রানারআপ হয়েছেন চিলমারী উপজেলার সন্তান কুড়িগ্রামের সরকারী কলেজের এইচএসসি শ্রেণীতে অধ্যয়নরত কাবিউর রহমান। পেশাদার ও অপেশাদার আলোকচিত্রীদের ছবির প্রতিযোগিতা ট্রাভেল ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার ২০২৫-এ বিশ্বের ১৬০ দেশের আলোকচিত্রীদের পাঠানো ২০ হাজারের বেশি ছবি জমা পড়েছিল। প্রতিযোগিতায় নিজের বয়স শাখায় রানারআপ হয়েছেন কাবিউর রহমান রিয়াদ। তার বাড়ি চিলমারী উপজেলা সদরের থানাহাট মন্ডলপাড়া। নিজ এলাকার নদী, উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রাকৃতিক ইত্যাদি নিজ খেয়ালে ছবি তুলে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
গত ২৫ জানুয়ারি লন্ডনভিত্তিক এ প্রতিযোগিতার ২৩ তম আসরে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে পেশাদার শাখায় সম্মিলিতভাবে সেরা হয়েছেন গ্রিসের আথানাসিওস মালুকোস এবং নবীন আলোকচিত্রী শাখায় সেরা হয়েছে যুক্তরাজ্যের ১০ বছর বয়সী জেমি স্মার্ট। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার নিয়মিত খোঁজ রাখে কাবিউর রহমান। গত বছরের মার্চের কথা। ইনস্টাগ্রামে ‘ট্রাভেল ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার ২০২৫’ প্রতিযোগিতার জন্য ছবি আহ্বানের বিজ্ঞাপনটা তার নজরে পড়ে। প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তুসহ বিস্তারিত জেনে আনন্দিতই হয় কাবিউর। কারণ, এতে অংশ নিতে এন্ট্রি ফি দিতে হবে, নিজের বয়সশ্রেণির একটি শাখাও আছে। দেরি না করে নিজের তোলা কয়েকটি ছবি পাঠায় সে। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা। গত নভেম্বরে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করলে জায়গা করে নেয় কাবিউরের তোলা ছবি। তারপর চলে ভোট গ্রহণ। সব প্রক্রিয়া শেষে গত ২৫ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয় বিজয়ী ও রানারআপ আলোকচিত্রীদের নাম। এতে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শাখায় রানারআপ হয়েছে সে। তার শাখায় বিজয়ী রোমানিয়ার ১৫ বছর বয়সী মাতেই মারাচিনেয়ানু।কাবিউর রহমান কাছের মানুষদের কাছে রিয়াদ নামে পরিচিত। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ছবি তোলার নেশায় পড়ে যায় সে।
কাবিউর বলছিল, ‘আমার আম্মু একটি এনজিওতে চাকরি করেন। তাঁর কাজের জন্য অফিসের ক্যামেরা ব্যবহার করতেন। ক্যামেরাটা বাড়িতে আনলে সেটা নিয়ে আমি বেরিয়ে পড়তাম, ছবি তুলতাম। এরপর ছেলের আগ্রহ দেখে ক্যামেরা কিনে দেন মা। নিজেদের বাড়ি চিলমারীসহ কুড়িগ্রামের নানা জায়গা ঘুরে ছবি তুলতে থাকে কাবিউর। অংশ নিতে থাকে বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায়। কাবিউর রহমান রিয়াদ, গত বছর চিলমারী উপজেলার থানাহাট এ,ইউ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে । কাবিউর জানায়, ‘আমি ভালো আলোকচিত্রী হতে চাই। ট্রাভেল ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রানারআপ হতে পেরেও আমি দারুণ অনুপ্রাণিত হয়েছি। কাবিউর রহমান রিয়াদ থানাহাট বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অংক শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার ছেলে।
জিয়া জানান, আমি আমার ছেলের বিজয় লাভে অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত। ছোট থেকেি আমার ছেলের ছবি তোলার উপর ভিষন আগ্রহ। নদীর পাড়, খেলার মাঠ, প্রাকৃতিক দৃশ্য ইত্যাদি বিষয়ে আগ্রহ দেখে আমিও তাকে উৎসাহিত করি।তার এই অসামান্য কৃতিত্বের জন্য এলাকাবাসী,শিক্ষানুরাগী, রাজনীতিক, সমাজসেবী ব্যক্তিগন অভিনন্দন জানিয়ে তার আগামী জীবনের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেছেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















