Dhaka ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পলাশবাড়ীতে শ্রমিক দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত ধুনট পৌর বিএনপি সভাপতির সাথে নবগঠিত প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ধুনটে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনে প্রাণ গেল গৃহবধূর, অভিযুক্ত স্বামী আটক মান্দায় ৩৬ জুলাই উপলক্ষে যুব জামায়াতের আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত কাউনিয়ার বিশিষ্ট হোমিও চিকিৎসক পরিমল চন্দ্র বর্মন আর নেই সিরাজগঞ্জে ২৫৫ গ্রাম হেরোইন সহ মাদক  সরবরাহকারী গ্রেফতার গোয়াইনঘাটের শীতের আমেজ হাজারো অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হাওর ও গাছপালা ৫ বছরের মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার উপযুক্ত হবে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আমাদের মিছিল বড় হবে: নাহিদ রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমছে, শুরু হয়েছে ভাঙন

মোঃ আবদুর রাজ্জাক,জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা: উজানের ঢল কমার সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি হ্রাস পেলেও জেলাজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। গত এক মাসে পানি ওঠানামার ফলে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দুই শতাধিক বসতভিটা ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ঢল ও বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। আর ভাঙন প্রতিরোধে লোক দেখানো কাজ বন্ধ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।n স্থানীয়রা জানান, গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়া-কমার মধ্যে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়তই নতুন করে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে প্রায় ২০০ বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার। জানা যায়, পানি কমায় চরাঞ্চলের ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি। চোখের সামনে নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে ও বাড়িঘর হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে ছাত্রলীগের মিছিল প্রস্তুতিকালে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আটক

গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ১১৬ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৬৪ সেন্টিমিটার এবং গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত এক মাস ধরে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। আর এই পানি ওঠানামার সঙ্গে শুরু হয়েছে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র ভাঙন। এতে করে জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীর তীরবর্তীসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ফলসি ও বসতবাড়ি ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে ও বাড়িঘর হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা। গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি, শহর রক্ষাবাঁধ, ফুলছড়ির বালাসী ফেরিঘাট, সাঘাটা উপজেলার শহরসহ বেশ কিছু সরকারি বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মধ্য রয়েছে। ভাঙন রোধে আসন্ন বন্যার আগেই ব্যবস্থা না নিলে জেলার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  দীঘিনালায় ধাম্মাচারিয়া বৌদ্ধ বিহারে ২৪তম দানোত্তম কঠিন চীবরদান সমাপ্তি

ভাঙন কবলিত এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের গাফিলতি ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায়, প্রতিবছর তাদের নদী ভাঙনের শিকার হতে হয়। কোনো সাহায্য নয়, নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের দাবি তাদের। গাইবান্ধা সদর উপজেলার দিগারি ইউনিয়নের রহমান নগরের বাসিন্দা হাকিম বলেন বন্যার পানি বাড়ার সময় একবার ভাঙনে ফসলি জমিসহ বসত বাড়ি ভিটা নদীতে গেছে। আবার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। চরের মানুষ সারা বছরই নদী ভাঙনে শিকার হই। সুন্দরগঞ্জের কাশিম বাজারের বাসিন্দা রুমিনা বেগম বলেন, ‘গত এক মাসে তিস্তার পানি কমা- বাড়ায় সব শেষ হয়ে গেছে। ফসলের জমিগুলো নদীতে পড়ে গেছে। বান আসলেই দুইবার বাড়ি- ঘর সরানো লাগে। কই কেউ তো খবর নেয় না। ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়ার আশরাফ মিয়া বলেন, ‘নদীতে পানি কমা শুরু হয়েছে। নদীর পাড় গুলো ধপাস ধপাস করে ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। হামারে কষ্ট কি কেউ বুঁচবে? নদী ভাঙন কেনা বন্ধ হলো, হামরা অনেক মুক্তি পামো। প্রত্যক বছর নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পানু হয়।‘ গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব কয়টি নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করছে। কয়েকদিনের মধ্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলো আরও প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি হ্রাস- বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে অনলাইন জুয়া ও আইডি হ্যাকিং চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, মোটরসাইকেল ও মোবাইল জব্দ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

পলাশবাড়ীতে শ্রমিক দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমছে, শুরু হয়েছে ভাঙন

আপডেটের সময়: ০৬:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

মোঃ আবদুর রাজ্জাক,জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা: উজানের ঢল কমার সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি হ্রাস পেলেও জেলাজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। গত এক মাসে পানি ওঠানামার ফলে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দুই শতাধিক বসতভিটা ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ঢল ও বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। আর ভাঙন প্রতিরোধে লোক দেখানো কাজ বন্ধ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।n স্থানীয়রা জানান, গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়া-কমার মধ্যে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়তই নতুন করে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে প্রায় ২০০ বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার। জানা যায়, পানি কমায় চরাঞ্চলের ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি। চোখের সামনে নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে ও বাড়িঘর হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা।

আরও পড়ুনঃ  দীঘিনালায় ধাম্মাচারিয়া বৌদ্ধ বিহারে ২৪তম দানোত্তম কঠিন চীবরদান সমাপ্তি

গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ১১৬ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৬৪ সেন্টিমিটার এবং গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত এক মাস ধরে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। আর এই পানি ওঠানামার সঙ্গে শুরু হয়েছে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র ভাঙন। এতে করে জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীর তীরবর্তীসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ফলসি ও বসতবাড়ি ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে ও বাড়িঘর হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা। গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি, শহর রক্ষাবাঁধ, ফুলছড়ির বালাসী ফেরিঘাট, সাঘাটা উপজেলার শহরসহ বেশ কিছু সরকারি বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মধ্য রয়েছে। ভাঙন রোধে আসন্ন বন্যার আগেই ব্যবস্থা না নিলে জেলার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে বড় শিল্প গড়ার আহ্বান ডিসি জাহিদুল

ভাঙন কবলিত এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের গাফিলতি ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায়, প্রতিবছর তাদের নদী ভাঙনের শিকার হতে হয়। কোনো সাহায্য নয়, নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের দাবি তাদের। গাইবান্ধা সদর উপজেলার দিগারি ইউনিয়নের রহমান নগরের বাসিন্দা হাকিম বলেন বন্যার পানি বাড়ার সময় একবার ভাঙনে ফসলি জমিসহ বসত বাড়ি ভিটা নদীতে গেছে। আবার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। চরের মানুষ সারা বছরই নদী ভাঙনে শিকার হই। সুন্দরগঞ্জের কাশিম বাজারের বাসিন্দা রুমিনা বেগম বলেন, ‘গত এক মাসে তিস্তার পানি কমা- বাড়ায় সব শেষ হয়ে গেছে। ফসলের জমিগুলো নদীতে পড়ে গেছে। বান আসলেই দুইবার বাড়ি- ঘর সরানো লাগে। কই কেউ তো খবর নেয় না। ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়ার আশরাফ মিয়া বলেন, ‘নদীতে পানি কমা শুরু হয়েছে। নদীর পাড় গুলো ধপাস ধপাস করে ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। হামারে কষ্ট কি কেউ বুঁচবে? নদী ভাঙন কেনা বন্ধ হলো, হামরা অনেক মুক্তি পামো। প্রত্যক বছর নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পানু হয়।‘ গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব কয়টি নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করছে। কয়েকদিনের মধ্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলো আরও প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি হ্রাস- বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।

আরও পড়ুনঃ  লক্ষ্মীপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইন মানার তাগিদ