
পত্নীতলা উপজেলা প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আযহার উৎসব শেষ না হতেই নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র ও ভ্যাপসা আবহাওয়া। সকাল থেকে সূর্যের প্রখরতা আর বাতাসে অতিরিক্ত আদ্রতা কারণে জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। উপজেলার এলাকার মানুষ গরমের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে দেখা যাচ্ছে।বিশেষ করে কৃষক, দিনমজুর রিক্সা-ভ্যান চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে চাচ্ছেন না।
নজিপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রচন্ড গরমের কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক আরে কমে গেছে। ফলে ব্যবসা – বাণিজ্যও কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে মাঠে কাজ করা কৃষকরাও গরমের কারণে সাবেকভাবে কাজকর্ম করতে পারছেন না।বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগে বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকায় এবং বাতাসের আদ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি আরোও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অনুভূত হচ্ছে।পত্নীতলার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই গরমের কারণে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারছেন না। ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় অতিরিক্ত অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে গরম জনিত নানা শারীরিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
মোঃ আব্দুল হামিদ মন্ডল নামে এক কৃষক জানান, “ধানের জমি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। বৃষ্টি না হলে কৃষি কাজও প্রভাব পড়তে পারে। “চিকিৎসকরা বেশি করে বিশুদ্ধ পানি পান, ডাবের পানি ও তরল খাবার গ্রহণ, ছাতা ব্যবহার এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে চলাফেরা না করার পরামর্শ দিয়েছেন।হাট বাজারে রাস্তা ঘাটে বিভিন্ন প্রকারের হোটেল রেস্তোরায় চায়ের দোকানে বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানির চাহিদা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বস্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।এদিকে পত্নীতলা বাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত বৃষ্টিপাত শুরু হলে গরমের তীব্রতা কমবে এবং জনজীবন স্বস্তি ফিরে আসবে। তবে বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত ভ্যাপসা গরমে এই দুর্ভোগ আরোও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















