
মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে বান্দরবানের লামা উপজেলা প্রশাসন। গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “লামার ফাঁসিয়াখালীর ফেতাইন্যাছড়া এলাকা যেন আরেক ‘সলিমপুর’ যেখানে পুলিশ যেতে ভয় পায়!” শিরোনামে খবর প্রকাশের পর আজ সেখানে এক দুঃসাহসী ও আকস্মিক টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ০৫টি শক্তিশালী শ্যালো মেশিন জব্দ করা হয়।আজ সোমবার (২৫ মে) দুপুর ৩:৩০ ঘটিকায় উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পেতেইন্যা ছড়া (ফেতাইন্যাছড়া) এলাকায় এই বিশেষ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মঈন উদ্দিন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের সলিমপুরের মতোই এই ফেতাইন্যাছড়া এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী ও সশস্ত্র বালু দস্যু সিন্ডিকেটের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান আর সিন্ডিকেটের দাপটের কারণে সেখানে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সচরাচর প্রবেশ করতে হিমশিম খেত।
এই নিয়ে গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ ও সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের।আজ দুপুরে ইউএনও মোঃ মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী নিয়ে ছড়া এলাকায় আকস্মিক হানা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসনের বিশাল বহর ও কঠোর অবস্থান টের পেয়ে বালু দস্যুরা তাদের ডেরা ছেড়ে পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে হাতে-নাতে আটক করা সম্ভব না হলেও ঘটনাস্থল থেকে বালু উত্তোলনের প্রধান হাতিয়ার ০৫টি শ্যালো মেশিন জব্দ করা হয়।অভিযানকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মুখভাগে নেতৃত্ব দেন কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জামিল ও তাঁর চৌকস পুলিশ দল। এছাড়াও অভিযানে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওমর ফারুক উপস্থিত থেকে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।অভিযান শেষে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মঈন উদ্দিন জানান, গণমাধ্যমের সংবাদটি প্রশাসনের নজরে আসার সাথে সাথেই এই দুর্গম এলাকায় অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লামা উপজেলার কোথাও কোনো ‘অপরাধের স্বর্গরাজ্য’ বা দ্বিতীয় কোনো ‘সলিমপুর’ গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না। পরিবেশ ধ্বংসকারী ও অবৈধ বালু দস্যুদের সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত প্রশাসনের এই কঠোর ও আপসহীন অভিযান অব্যাহত থাকবে।এদিকে পুলিশ যেতে ভয় পাওয়া সেই ‘ফেতাইন্যাছড়ায়’ ইউএনও’র এমন আকস্মিক ও দুঃসাহসী প্রবেশ এবং বালু মেশিন জব্দের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
প্রতিবেদকের নাম 



















