Dhaka ০৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
৪৭ তম বিজ্ঞান মেলায় চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব নাচোলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের অধিকার আদায়ে মতবিনিময় সভা জৈন্তাপুরে সংবাদকর্মীকে পথরোধ করে দুর্ধর্ষ ছিনতাই সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বনদস্যুদের বন্দুকযুদ্ধ, আটক ৩ বান্দরবানে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ শুরু রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল সংরক্ষণে রাসিক প্রশাসকের উদ্যোগ সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের দ্বায়িত্বহীনতায় ধ্বংসের পথে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বড়লেখায় উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ও চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য গ্রেফতার লামা-আলীকদম সড়কে তামাকবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্য, প্রাণহানির শঙ্কা মোরেলগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী

লামা-আলীকদম সড়কে তামাকবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্য, প্রাণহানির শঙ্কা

মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা-আলীকদম সংযোগ সড়কে ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করে প্রতিদিন শতাধিক অতিরিক্ত তামাকবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও প্রাণহানির শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রাফিক বিভাগের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্যের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ এবং নীরবতার সুযোগে এই অনিয়ম চলছে। সড়কে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই এক শ্রেণির অসাধু পরিবহন মালিক ও চালক দীর্ঘদিন ধরে আইন অমান্য করে এই ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাসম্প্রতি বদুর ঝিরি এলাকায় একটি তামাকবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি বিশাল গাছে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই এবং পাহাড়ি সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।অধিক মুনাফার লোভে ওভারলোডিং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা ও আলীকদম অঞ্চলের বিভিন্ন তামাক কোম্পানির পণ্য দেশের নানা স্থানে পরিবহনের জন্য প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অসংখ্য ট্রাক চলাচল করে। অধিক মুনাফার আশায় অধিকাংশ ট্রাকেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত তামাক পাতা ও পণ্য বোঝাই করা হয়। ট্রাফিক বিভাগের শিথিলতা ও মাসোহারা বাণিজ্যের কারণে চালকরা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।

আরও পড়ুনঃ  লামায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন অগ্রগতির ওপর প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

 

 

ফলে উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তায় যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।লামা ট্রাফিক ইনচার্জের বক্তব্য যোগসাজশ ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে লামা ট্রাফিক ইনচার্জ আশিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চালকদের সাথে কোনো প্রকার সমঝোতার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত লোড নেওয়া গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে নিয়মনীতি অমান্যকারী ও অতিরিক্ত লোডবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী চারটি মামলা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত তামাক পরিবহনকারী অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।আইন ও বিশেষজ্ঞ মতামতবিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি সড়কে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক। সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি, ব্রেক বিকল কিংবা চালকের অসতর্কতায় মুহূর্তেই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA)-এর প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যানবাহনে নির্ধারিত ওজনের অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অতিরিক্ত পণ্য বহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা ট্রাফিক বিভাগের এই অভিযানকে লোকদেখানো না করে আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে এই রুটে নিয়মিত বিআরটিএ-এর মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  সিরাজগঞ্জে শাশুড়ীর পরকীয়ার বলি হলেন পুত্রবধু
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

৪৭ তম বিজ্ঞান মেলায় চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব

লামা-আলীকদম সড়কে তামাকবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্য, প্রাণহানির শঙ্কা

আপডেটের সময়: ০৩:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা-আলীকদম সংযোগ সড়কে ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করে প্রতিদিন শতাধিক অতিরিক্ত তামাকবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও প্রাণহানির শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রাফিক বিভাগের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্যের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ এবং নীরবতার সুযোগে এই অনিয়ম চলছে। সড়কে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই এক শ্রেণির অসাধু পরিবহন মালিক ও চালক দীর্ঘদিন ধরে আইন অমান্য করে এই ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাসম্প্রতি বদুর ঝিরি এলাকায় একটি তামাকবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি বিশাল গাছে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই এবং পাহাড়ি সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।অধিক মুনাফার লোভে ওভারলোডিং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা ও আলীকদম অঞ্চলের বিভিন্ন তামাক কোম্পানির পণ্য দেশের নানা স্থানে পরিবহনের জন্য প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অসংখ্য ট্রাক চলাচল করে। অধিক মুনাফার আশায় অধিকাংশ ট্রাকেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত তামাক পাতা ও পণ্য বোঝাই করা হয়। ট্রাফিক বিভাগের শিথিলতা ও মাসোহারা বাণিজ্যের কারণে চালকরা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।

আরও পড়ুনঃ  ​মা দিবসে এক সাংবাদিকের হাহাকার: ‘মা নেই তো মাথার ওপর যেন ছাদ নেই

 

 

ফলে উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তায় যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।লামা ট্রাফিক ইনচার্জের বক্তব্য যোগসাজশ ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে লামা ট্রাফিক ইনচার্জ আশিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চালকদের সাথে কোনো প্রকার সমঝোতার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত লোড নেওয়া গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে নিয়মনীতি অমান্যকারী ও অতিরিক্ত লোডবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী চারটি মামলা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত তামাক পরিবহনকারী অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।আইন ও বিশেষজ্ঞ মতামতবিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি সড়কে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক। সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি, ব্রেক বিকল কিংবা চালকের অসতর্কতায় মুহূর্তেই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA)-এর প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যানবাহনে নির্ধারিত ওজনের অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অতিরিক্ত পণ্য বহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা ট্রাফিক বিভাগের এই অভিযানকে লোকদেখানো না করে আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে এই রুটে নিয়মিত বিআরটিএ-এর মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  তাঁত শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনব"- বিএনপির মহাসচিব কন্যা ড. শামারুহ মির্জা