
আবুওবায়দুল হক খাজা চিলমারী,(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় রানীগঞ্জ ইউনিয়নে কাঁচকোল বাজারের উত্তর দিকে গত পরশু বৃহস্পতিবার ১৬ জুন বেলা আড়াইটার সময় আকস্মিক ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবল স্রোতে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল ও সড়কটারী ব্লক পিচিং ধসে পড়ায় এই অঞ্চলের বসতভিটা ও রাস্তাঘাট মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। বাঁধ ধসের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নতুন করে বন্যা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সিসি ব্লক, জিওব্যাগ বা বালুভর্তি বস্তা,বোল্ডার বা বড় আকৃতির পাথর ,বাঁশ বা কংক্রিটের পাইলিং (বাঁধের১৬০ মিটার অংশের কংক্রিট ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে) নদের ভাঙ্গন ও তীব্র স্রোতে ভেসে নিয়ে যাচ্ছে। নদের ভাঙ্গন অব্যাহত ,মুহুর্তেই বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢুকে ভাসিয়ে নিতে পারে সর্বস্ব।
তাই নদের ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ অথবা বিকল্প হিসেবে টি বাঁধ দেয়া জরুরি প্রয়োজন।
ব্রহ্মপুত্র ডানতীর রক্ষা বাঁধ কুড়িগ্রামের চিলমারী অঞ্চলে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙন থেকে জনপদ রক্ষায় ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। তবে বর্ষায় এটি প্রায়ই ব্লক ধসের মারাত্মক হুমকির মুখে।
নদের পাড় রক্ষায় তৈরি বাঁধই হলো ডানতীর বাঁধ। নদী ভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে , বর্ষা মৌসুমে বা পাহাড়ি ঢলের সময় নদের ডান তীরের লোকালয় ও কৃষি জমি রক্ষায় এটি ব্যবহার করা হয়। তবে প্রবল স্রোত ও অব্যবস্থাপনার কারণে এই বাঁধগুলো প্রায়শই ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েছে।
ভাঙ্গনের তীরবর্তী এলাকার বারী জানান, বাঁধের ওপারে ভাংবের নাকছে এপারে হামরা থাকি ,আতঙ্কে রাতে নিন্দো পারবের পাইনে বাহে, চমকি চমকি উঠি । বাঁধ ভাঙগি গেলে হামার জমিও হারামো, বাড়ি ঘরও বানোত ভাসি নিয়ে যাইবে। অর্ধেক ভাঙ্গি গেইছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের জরুরি কাজ শুরু করেছে। তবে নদের মাঝ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদের তীরবর্তী বসবাসরত রেজাউল , বারী, জোসনা জানান, কাইও হামার কথা শোনে না বাহে, হামরা গুলে বাঁচপের চাই। বাঁধটা ঠিক করি বানদি দেও।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানান, নদের ভাঙ্গন প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের জরুরি কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষা শেষে শুষ্ক মৌসুমে বাঁধটি পুনর্নির্মাণ বা বড় ধরনের স্থায়ী মেরামতের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান বাঁধের ভাঙ্গনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। জরুরী ভিত্তিতে ৬০০০ জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিং করা হচ্ছে ।বর্ষা মৌসুম শেষে শুষ্ক সময়ে বাঁধটি পুনর্নির্মাণ বা স্থায়ী মেরামতের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
চিলমারীর রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকোল সড়কটারী ব্রহ্মপুত্রের ডান তীররক্ষা প্রকল্পের সাথে ওয়াপদা বাধ রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রতিবেদকের নাম 



















