Dhaka ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কাদের মির্জা ও পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা রাজশাহী মহানগরীর শান্তি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে: মাহফুজুর রহমান রিটন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ওয়াশিং ফ্যাক্টরির মেশিনে কাটা পড়ে শিশু শ্রমিকের মৃত্যু অভিযান আর জরিমানায় থামছে না মিঠাপুকুরের ভেজাল গুড়ের দৌরাত্ম্য লালপুরে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত এক বছরে ১২ লক্ষাধিক টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, ঈদগাঁও মডেল হাসপাতাল হাত পায়ের রগ অবশ,চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না ক্ষেতলালের কাউছারের পরিবার পত্নীতলায় আদিবাসীদের বর্ণাঢ্য কারাম উৎসব পালিত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় মোবাইল কোর্ট, ৭ জনের কারাদণ্ড দ্রুত বিচার দ্রুত রায়-শাস্তি কার্যকরে দীর্ঘ অপেক্ষা

ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব মিয়ারচরের বাসিন্দারা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০ সময় দেখুন

বরিশালপ্রতিনিধিঃ আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছেন মিয়ারচরের বাসিন্দারা। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরবর্তী এলাকার শত শত বাসিন্দারা তাদের বসতভিটে ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। গত দুই বছরে নদীর তীব্র ভাঙনে ৪০টি পরিবার বসতভিটে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। নতুন করে গত এক মাসের ব্যবধানে পাঁচটি পরিবারের বসতভিটে রাক্ষুসি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লার খাল, পালরদী নদের শাখা গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুরা খালের দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কারণে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজ ও রাস্তা ধ্বসে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে গাছের শত্রু বন বিভাগ

 

 

মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, মিয়ারচর লঞ্চ ঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে দুইবার বসতভিটে হারিয়ে অন্যের জমিতে ঘর উত্তোলন করে বসবাস করতাম। অন্যের দেওয়া সেই বসতভিটেও কয়েকদিন আগে নদী গ্রাস করে নিয়েছে। ফলে এখন স্ত্রী সন্তান নিয়ে আমি নিঃস্ব। মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করে আসছি। মিয়ারচর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা অলিল ব্যাপারী (৭৫) জানিয়েছেন, আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে শত পরিবার তাদের বসতভিটে ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট পয়েন্টে গত কয়েক বছর ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, যতো সরকার আইছে সবাই ভাঙন রোধ করার কথা বললেও বাস্তবে নদী ভাঙন রোধে কেউ এগিয়ে আসেনি। নদী ভাঙনরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  রাজধানীর চারপাশের নদ-নদী দূষণের ৪২৪ উৎস শনাক্ত: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

 

শিক্ষক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, গৌরনদী-ধামুরা খালে তীব্র স্রোতের কারণে তীরবর্তী দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধ্বসে পড়েছে। স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজ ধ্বসে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে অতিদ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাবে। বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লারখাল এলাকার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পালরদী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র গিয়ে বসবাস শুরু করছেন। নতুন করে নদী তীরবর্তী রাস্তা ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, মিয়ারচর নদী ভাঙনরোধে একশ’ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা পেয়েছি।আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু করা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। অপর অংশ পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল স্থানের ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  কাদের মির্জা ও পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কাদের মির্জা ও পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা

ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব মিয়ারচরের বাসিন্দারা

আপডেটের সময়: ০৩:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালপ্রতিনিধিঃ আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছেন মিয়ারচরের বাসিন্দারা। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরবর্তী এলাকার শত শত বাসিন্দারা তাদের বসতভিটে ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। গত দুই বছরে নদীর তীব্র ভাঙনে ৪০টি পরিবার বসতভিটে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। নতুন করে গত এক মাসের ব্যবধানে পাঁচটি পরিবারের বসতভিটে রাক্ষুসি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লার খাল, পালরদী নদের শাখা গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুরা খালের দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কারণে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজ ও রাস্তা ধ্বসে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে পাঁচ গুণ রোগী তীব্র সংকটে ওষুধ-সরঞ্জাম

 

 

মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, মিয়ারচর লঞ্চ ঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে দুইবার বসতভিটে হারিয়ে অন্যের জমিতে ঘর উত্তোলন করে বসবাস করতাম। অন্যের দেওয়া সেই বসতভিটেও কয়েকদিন আগে নদী গ্রাস করে নিয়েছে। ফলে এখন স্ত্রী সন্তান নিয়ে আমি নিঃস্ব। মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করে আসছি। মিয়ারচর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা অলিল ব্যাপারী (৭৫) জানিয়েছেন, আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে শত পরিবার তাদের বসতভিটে ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট পয়েন্টে গত কয়েক বছর ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, যতো সরকার আইছে সবাই ভাঙন রোধ করার কথা বললেও বাস্তবে নদী ভাঙন রোধে কেউ এগিয়ে আসেনি। নদী ভাঙনরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  পত্নীতলায় ডেঙ্গুবিরোধী কর্মসূচিতে যুবদলের ব্যাপক অংশগ্রহণ

 

শিক্ষক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, গৌরনদী-ধামুরা খালে তীব্র স্রোতের কারণে তীরবর্তী দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধ্বসে পড়েছে। স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজ ধ্বসে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে অতিদ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাবে। বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লারখাল এলাকার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পালরদী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র গিয়ে বসবাস শুরু করছেন। নতুন করে নদী তীরবর্তী রাস্তা ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, মিয়ারচর নদী ভাঙনরোধে একশ’ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা পেয়েছি।আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু করা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। অপর অংশ পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল স্থানের ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  দেবিদ্বারে আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় মা ও ভাতিজিকে খুন