Dhaka ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চিলমারীতে চরাঞ্চলে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত ১ আটোয়ারীতে ৪র্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তাসাওউফ: তারুণ্যের আত্মঅন্বেষণ ও আত্মজাগরণ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সিরাজগঞ্জে ফিরলেন সাইদুর রহমান বাচ্চু বগুড়ায় আদালত বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার, রবিবার থেকে আইনজীবীরা ফিরছেন নিয়মিত কার্যক্রমে খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫ শতাধিক বৃক্ষ রোপণ দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় মাস ব্যাপি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের পর সনদপত্র বিতরণ ফটিকছড়িতে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জে নদী থেকে অর্ধগলিত অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৫:৪২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৭ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে চীনের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান। সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সংকট সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ সহায়ক হবে। এ সময় বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে চীনের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মির্জা ফখরুল। তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে সোনালি আঁশের বাম্পার ফলন

 

 

আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগ উদ্যোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন তিনি। প্রকল্পটিতে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  মানুষ ইলিশ খায় নাকি ইলিশ মানুষ খায়

 

 

সাক্ষাতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফরের কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর নিজের এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফরের কথাও তুলে ধরেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এসব সফর ও বৈঠক বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে। তিনি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে। এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। এ ছাড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা চান তিনি। জবাবে চীনের রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করেন মির্জা ফখরুল। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।

আরও পড়ুনঃ  সংসদ ভবন লেকে ২৫০ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত করলেন স্পিকার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চিলমারীতে চরাঞ্চলে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত ১

বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

আপডেটের সময়: ০৫:৪২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে চীনের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান। সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সংকট সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ সহায়ক হবে। এ সময় বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে চীনের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মির্জা ফখরুল। তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে চাষ হবে না

 

 

আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগ উদ্যোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন তিনি। প্রকল্পটিতে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে সোনালি আঁশের বাম্পার ফলন

 

 

সাক্ষাতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফরের কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর নিজের এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফরের কথাও তুলে ধরেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এসব সফর ও বৈঠক বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে। তিনি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে। এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। এ ছাড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা চান তিনি। জবাবে চীনের রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করেন মির্জা ফখরুল। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।

আরও পড়ুনঃ  আটক সার সিন্ডিকেট ঘিরে খগারহাটে এনসিপির বিক্ষোভ ও পথ সভা