Dhaka ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নির্যাতন ও নিপীড়ন করে কি সাংবাদিকদের দমানো যায়? এম. মুক্তাদির হোসেন – প্রধান উপদেষ্টা, টিম জার্নালিস্ট’স সীতাকুণ্ডে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইসমাইল কেন্দ্রের নির্দেশে বহিষ্কার ধামইরহাটে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা উচ্ছেদেও ফিরছে না সড়ক ফুটপাত চাপে বিপর্যস্ত ঢাকা নাটোরের লালপুরে ইমো হ্যাকারদের হাতে নিঃস্ব হচ্ছেন প্রবাসীরা সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল কুলাউড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩ বোতল কোডিন সিরাপ উদ্ধার, মামলা বাগেরহাটে নিজ ঘরে মিললো সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ শিমের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’, স্বস্তি নেই মাছ-মাংসে কেরানীগঞ্জের মানুষের ভালোবাসায় চিরকাল বেঁচে থাকতে চাই: সাংবাদিক আব্দুর রহমান মোল্লা

নির্যাতন ও নিপীড়ন করে কি সাংবাদিকদের দমানো যায়? এম. মুক্তাদির হোসেন – প্রধান উপদেষ্টা, টিম জার্নালিস্ট’স

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ সময় দেখুন

আহমেদ আক্তার রানা কুলাউড়া প্রতিনিধি: সাংবাদিকতার মূল শক্তি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা ক্ষমতাবান মহলের অনুগ্রহ নয়—সত্য তুলে ধরার সাহস, তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ববোধ এবং মানুষের কাছে জবাবদিহির অঙ্গীকার। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে—নির্যাতন, হুমকি, মামলা, হয়রানি কিংবা নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করে কি সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যায়? অভিজ্ঞতা বলে, সাময়িকভাবে একজন সাংবাদিককে ভয় দেখানো বা কোনো প্রতিবেদন প্রকাশে বাধা দেওয়া সম্ভব হলেও সাংবাদিকতার কণ্ঠকে দীর্ঘমেয়াদে স্তব্ধ করা সহজ নয়। কারণ একজন সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দেওয়া গেলেও মানুষের জানার অধিকার, সমাজের অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন এবং সত্য অনুসন্ধানের প্রয়োজন থেমে থাকে না।

 

সাংবাদিক যখন কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব হওয়া উচিত তথ্য ও যুক্তি দিয়ে সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়া। কিন্তু প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে যদি সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া হয়, শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয়, মামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয় কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর চাপ নয়—এটি মতপ্রকাশ ও তথ্য জানার অধিকারকেও সংকুচিত করার চেষ্টা। তবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সঙ্গে সাংবাদিকের দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া মানে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অভিযোগ প্রকাশ করা নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বক্তব্য নেওয়া, তথ্যের একাধিক উৎস যাচাই করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে ভুল হলে তা সংশোধনের মানসিকতাও থাকতে হবে। কারণ স্বাধীন সাংবাদিকতা কখনো দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার নাম নয়।

আরও পড়ুনঃ  কুলাউড়ায় বেদখলে থাকা ২৯ শতক সরকারি জমি উদ্ধার

 

 

অন্যদিকে, কোনো প্রতিবেদনে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকারও আইনসম্মত ও গণতান্ত্রিক পথেই হওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদ জানাতে পারেন, তথ্য-প্রমাণ দিয়ে ভুল সংশোধনের দাবি করতে পারেন কিংবা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিককে ভয় দেখানো, কর্মস্থলে চাপ সৃষ্টি, হামলা বা নিপীড়নের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার চেষ্টা কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের লক্ষণ হতে পারে না।একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা বা নিপীড়নের প্রভাব শুধু সেই ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে পুরো সংবাদমাধ্যমে। একজন সাংবাদিক যখন হুমকির মুখে পড়েন, তখন অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও ভয় তৈরি হতে পারে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর সেখানেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষের জানার অধিকার।

আরও পড়ুনঃ  দেবিদ্বারে পৌরসভার অর্থায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সরবরাহ

 

 

ইতিহাসও দেখিয়েছে, চাপের মুখে সত্য অনুসন্ধানের প্রয়োজন আরও প্রবল হয়ে ওঠে। একজন সাংবাদিককে চুপ করিয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে, কিন্তু একই প্রশ্ন যখন সমাজের বহু মানুষের প্রশ্নে পরিণত হয়, তখন সেটিকে সহজে থামানো যায় না। সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি এখানেই—এটি কেবল একজনের কণ্ঠ নয়; এটি মানুষের তথ্য জানার এবং প্রশ্ন করার অধিকারকে প্রতিনিধিত্ব করে। তাই সাংবাদিকদের দমনের পরিবর্তে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ থাকলে তথ্য দিয়ে খণ্ডন করা প্রয়োজন। প্রতিবেদন ভুল হলে প্রমাণসহ সংশোধনের দাবি জানানো প্রয়োজন। আর সাংবাদিক যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই। একইভাবে সাংবাদিকদেরও মনে রাখতে হবে—প্রেসের স্বাধীনতা কোনো ব্যক্তিগত দায়মুক্তির লাইসেন্স নয়। সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে সত্যতা, নিরপেক্ষতা, তথ্যের যথার্থতা এবং পেশাগত নৈতিকতার প্রতি অটল থাকতে হবে। নির্যাতন দিয়ে হয়তো একটি কণ্ঠকে কিছু সময়ের জন্য থামানো যায়, কিন্তু সত্য জানার মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে থামানো যায় না। সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে নয়, যুক্তি ও তথ্য দিয়ে মোকাবিলা করাই সভ্য সমাজের পথ। কারণ মুক্ত সাংবাদিকতা শুধু সাংবাদিকদের অধিকার নয়—এটি সাধারণ মানুষেরও জানার অধিকার।

আরও পড়ুনঃ  ফটিকছড়িতে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান অনুষ্ঠিত
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নির্যাতন ও নিপীড়ন করে কি সাংবাদিকদের দমানো যায়? এম. মুক্তাদির হোসেন – প্রধান উপদেষ্টা, টিম জার্নালিস্ট’স

নির্যাতন ও নিপীড়ন করে কি সাংবাদিকদের দমানো যায়? এম. মুক্তাদির হোসেন – প্রধান উপদেষ্টা, টিম জার্নালিস্ট’স

আপডেটের সময়: ০৭:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

আহমেদ আক্তার রানা কুলাউড়া প্রতিনিধি: সাংবাদিকতার মূল শক্তি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা ক্ষমতাবান মহলের অনুগ্রহ নয়—সত্য তুলে ধরার সাহস, তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ববোধ এবং মানুষের কাছে জবাবদিহির অঙ্গীকার। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে—নির্যাতন, হুমকি, মামলা, হয়রানি কিংবা নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করে কি সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যায়? অভিজ্ঞতা বলে, সাময়িকভাবে একজন সাংবাদিককে ভয় দেখানো বা কোনো প্রতিবেদন প্রকাশে বাধা দেওয়া সম্ভব হলেও সাংবাদিকতার কণ্ঠকে দীর্ঘমেয়াদে স্তব্ধ করা সহজ নয়। কারণ একজন সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দেওয়া গেলেও মানুষের জানার অধিকার, সমাজের অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন এবং সত্য অনুসন্ধানের প্রয়োজন থেমে থাকে না।

 

সাংবাদিক যখন কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব হওয়া উচিত তথ্য ও যুক্তি দিয়ে সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়া। কিন্তু প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে যদি সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া হয়, শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয়, মামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয় কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর চাপ নয়—এটি মতপ্রকাশ ও তথ্য জানার অধিকারকেও সংকুচিত করার চেষ্টা। তবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সঙ্গে সাংবাদিকের দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া মানে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অভিযোগ প্রকাশ করা নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বক্তব্য নেওয়া, তথ্যের একাধিক উৎস যাচাই করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে ভুল হলে তা সংশোধনের মানসিকতাও থাকতে হবে। কারণ স্বাধীন সাংবাদিকতা কখনো দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার নাম নয়।

আরও পড়ুনঃ  ডাঃ টিপু এমপি'র আশু রোগমুক্তি কামনায় ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদে দোয়া মাহফিল

 

 

অন্যদিকে, কোনো প্রতিবেদনে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকারও আইনসম্মত ও গণতান্ত্রিক পথেই হওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদ জানাতে পারেন, তথ্য-প্রমাণ দিয়ে ভুল সংশোধনের দাবি করতে পারেন কিংবা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিককে ভয় দেখানো, কর্মস্থলে চাপ সৃষ্টি, হামলা বা নিপীড়নের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার চেষ্টা কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের লক্ষণ হতে পারে না।একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা বা নিপীড়নের প্রভাব শুধু সেই ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে পুরো সংবাদমাধ্যমে। একজন সাংবাদিক যখন হুমকির মুখে পড়েন, তখন অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও ভয় তৈরি হতে পারে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর সেখানেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষের জানার অধিকার।

আরও পড়ুনঃ  ফটিকছড়িতে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান অনুষ্ঠিত

 

 

ইতিহাসও দেখিয়েছে, চাপের মুখে সত্য অনুসন্ধানের প্রয়োজন আরও প্রবল হয়ে ওঠে। একজন সাংবাদিককে চুপ করিয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে, কিন্তু একই প্রশ্ন যখন সমাজের বহু মানুষের প্রশ্নে পরিণত হয়, তখন সেটিকে সহজে থামানো যায় না। সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি এখানেই—এটি কেবল একজনের কণ্ঠ নয়; এটি মানুষের তথ্য জানার এবং প্রশ্ন করার অধিকারকে প্রতিনিধিত্ব করে। তাই সাংবাদিকদের দমনের পরিবর্তে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ থাকলে তথ্য দিয়ে খণ্ডন করা প্রয়োজন। প্রতিবেদন ভুল হলে প্রমাণসহ সংশোধনের দাবি জানানো প্রয়োজন। আর সাংবাদিক যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই। একইভাবে সাংবাদিকদেরও মনে রাখতে হবে—প্রেসের স্বাধীনতা কোনো ব্যক্তিগত দায়মুক্তির লাইসেন্স নয়। সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে সত্যতা, নিরপেক্ষতা, তথ্যের যথার্থতা এবং পেশাগত নৈতিকতার প্রতি অটল থাকতে হবে। নির্যাতন দিয়ে হয়তো একটি কণ্ঠকে কিছু সময়ের জন্য থামানো যায়, কিন্তু সত্য জানার মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে থামানো যায় না। সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে নয়, যুক্তি ও তথ্য দিয়ে মোকাবিলা করাই সভ্য সমাজের পথ। কারণ মুক্ত সাংবাদিকতা শুধু সাংবাদিকদের অধিকার নয়—এটি সাধারণ মানুষেরও জানার অধিকার।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জের নয়াবাজারে তীব্র যানজট: চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ