
স্টাফ রিপোর্টার, আব্দুর রহমান মোল্লা: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বাস মালিক-শ্রমিক ও ছাত্রনেতাদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধের জেরে ‘উৎসব’ ও ‘বন্ধন’ পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোর থেকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী এই দুই পরিবহনের বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই রুটে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
এর আগে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের বাস কাউন্টারে গিয়ে প্রতিবাদ জানান বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা। এ সময় বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে কাউন্টার বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রনেতাদের দাবি, তাদের প্রতিবাদের মুখে প্রায় আধা ঘণ্টা পর কাউন্টার পুনরায় চালু করা হয়। এরপর সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ৫৫ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা হাফ ভাড়া নিয়ে কয়েকটি বাস ঢাকার গুলিস্তানের উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও পরবর্তীতে রাতে আবার বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
পক্ষগুলোর বক্তব্য: বাস মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাড়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাবেন না। জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সেলিম হোসেন বলেন, “আমাদের গাড়ি স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। হাফ ভাড়া ৪০ টাকা করা হয়েছিল, তবে আজকে আমরা ৩৫ টাকা করে নিচ্ছিলাম। এরপরে আমাদের ভাড়া বেড়ে যে হিসাব আসে, তাতে আমরা ৬০ টাকা করে নিচ্ছিলাম। কিন্তু ছাত্রনেতারা এসে বলতাছে ৫৫ টাকা ভাড়া নিতে হবে আর হাফ ভাড়া ৩০ টাকা।”
ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে কাউন্টারে ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “আমরা তাদেরকে বলেছি মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু তারা সময় না দিয়ে কাউন্টার ভাঙচুর করেছে, টেবিল ফেলে দিয়েছে। আর যে গাড়িগুলো ছাড়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেগুলোকে কাউন্টার থেকে খেদিয়ে দেওয়া হয়েছে। মালিকরা চিন্তা করল, আমাদের গাড়ি যখন চালাতে দেওয়া হচ্ছে না এবং টিকেটেও বাধা দেওয়া হচ্ছে, তখন গাড়ি বন্ধ রাখাই শ্রেয়। কারণ আমাদের ও যাত্রীদের নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে। মাঝখান থেকে কেউ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে তার দায়ভার কে নেবে?” অন্যদিকে, ছাত্রনেতা ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মগুলোর দাবি, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি কোনোভাবেই নেওয়া যাবে না এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা হাফ ভাড়া নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে সরকার নির্ধারিত হারে নন-এসি বাসের ভাড়া ৫৫ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিল ‘যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম’। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার ধরে নতুন হারে বাসভাড়া দাঁড়ায় ৪৯ টাকা ৪০ পয়সা। এর সঙ্গে ফ্লাইওভার টোল বাবদ ৫ টাকা যোগ করলে মোট ভাড়া হয় ৫৪ টাকা ৪০ পয়সা। তবে বিআরটিএর নতুন প্রজ্ঞাপন জারির আগেই উৎসব ও বন্ধন পরিবহন যাত্রীপ্রতি ৬০ টাকা করে ভাড়া আদায় শুরু করায় এই বিরোধের সৃষ্টি হয়।
যাত্রী দুর্ভোগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ: ভাড়া নিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিরোধের জেরে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের নিয়মিত চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন। গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসসহ অন্যান্য ব্যয়বহুল বিকল্প যানবাহন ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাফী বিন কবির বলেন, “ বিষয়টি আমি জেনেছি। ইতোমধ্যে বিআরটিএর লোকজন বাস মালিকদের সঙ্গে কথা বলছে। আমরা আশা করছি, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত এই সমস্যার একটি সন্তোষজনক সমাধান করা সম্ভব হবে।”
প্রতিবেদকের নাম 























