Dhaka ০৯:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার নিশ্চিতে বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হবে – অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার ঘোষিত ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার নিশ্চিত করার জন্য আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হবে। বরাদ্দের টাকার সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সকলকে সম্মিলিত ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর স্থান সংকুলান অপ্রতুল ও নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারনে অনেক সময় ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাথে হিমশিম খেতে হয়। ফলে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়। তাই সরকার চিন্তা করছে এ সমস্যা সমাধানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কাজে লাগানো হবে। এর আওতায় রোগীর চিকিৎসা করবে বেসরকারি হাসপাতাল, বিল পরিশোধ করবে সরকার।

 

১৫ মে (শনিবার) চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৮ তলা নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।মেডিকেল কলেজ মানহীন হলে তার প্রভাব পুরো জাতিকে বহন করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা নিশ্চিতের জন্য কোন কিছুর সাথে আপোষ করা যাবে না, ব্যক্তিগত প্রভাব বা রাজনৈতিক তদবিরে কান দেয়া যাবে না। সর্বাগ্রে রোগীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  যাতায়াতের রাস্তা নয়, যেন বাড়ির উঠান!

 

নতুন ভবনে বিভিন্ন বিভাগ ও সেবার কথা শুনে তিনি বলেন, পার্কিং এর পরিমাণ বাড়াতে হবে, ন্যুনতম ২০০টির বেশি গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখতে হবে, নইলে পুরো এলাকা যানজটের কবলে পড়বে। তাছাড়া পর্যাপ্ত পরিমান ও হাইজেনিক ক্যাফেটেরিয়া, সুপরিসর অডিটরিয়াম, লাইব্রেরি ও ই-লাইব্রেরি, মাল্টি-মিডিয়া শ্রেণিকক্ষ প্রভৃতির ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাহলে এ হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবায় আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। হাসপাতালের জন্য এমআরআই মেশিন, সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি, আসন সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবির কথা শুনে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে জনগণের টাকা দুর্নীতিতে অপচয় হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধ করতে আমাদের অনেক অর্থ খরচ হয়ে গেছে। তবে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি আগামী দু’বছরের মধ্যে সবখাত ঘুরে দাঁড়াবে। এ হাসপাতালের জন্যও বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য সরকারি প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট তৈরির জন্য ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উপর মন্ত্রী জোর দেন এবং বলেন, ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হলে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ঠিক রাখতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা ও অনুপাত নিশ্চিত না করে আসন বৃদ্ধি করলে তা কোন কাজে আসবে না।
পরে তিনি বোতাম টিপে নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
উল্লেখ্য, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন এ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তাঁর প্রচেষ্টায় বিগত ২০০৫ সালে বেগম জিয়ার সরকার থাকার সময় নামমাত্র মূল্যে এ হাসপাতালের জন্য সরকার চার একরের অধিক জমি দান করে। হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ আজ বেগম জিয়া ও তাঁর সরকারের জনকল্যাণমূলক এ দানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ বিক্রয় প্রতিনিধি জোট কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা

পরিচালনা পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ
সম্পাদক জাহিদুল হাসানের সঞ্চালনায় ও
পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি সৈয়দ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসীম বড়ুয়া, পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান রানা বক্তৃতা করেন।

আরও পড়ুনঃ  সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ধানের হাটে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার নিশ্চিতে বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হবে – অর্থমন্ত্রী

আপডেটের সময়: ০৭:২৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার ঘোষিত ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার নিশ্চিত করার জন্য আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হবে। বরাদ্দের টাকার সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সকলকে সম্মিলিত ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর স্থান সংকুলান অপ্রতুল ও নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারনে অনেক সময় ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাথে হিমশিম খেতে হয়। ফলে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়। তাই সরকার চিন্তা করছে এ সমস্যা সমাধানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কাজে লাগানো হবে। এর আওতায় রোগীর চিকিৎসা করবে বেসরকারি হাসপাতাল, বিল পরিশোধ করবে সরকার।

 

১৫ মে (শনিবার) চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৮ তলা নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।মেডিকেল কলেজ মানহীন হলে তার প্রভাব পুরো জাতিকে বহন করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা নিশ্চিতের জন্য কোন কিছুর সাথে আপোষ করা যাবে না, ব্যক্তিগত প্রভাব বা রাজনৈতিক তদবিরে কান দেয়া যাবে না। সর্বাগ্রে রোগীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ধানের হাটে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

 

নতুন ভবনে বিভিন্ন বিভাগ ও সেবার কথা শুনে তিনি বলেন, পার্কিং এর পরিমাণ বাড়াতে হবে, ন্যুনতম ২০০টির বেশি গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখতে হবে, নইলে পুরো এলাকা যানজটের কবলে পড়বে। তাছাড়া পর্যাপ্ত পরিমান ও হাইজেনিক ক্যাফেটেরিয়া, সুপরিসর অডিটরিয়াম, লাইব্রেরি ও ই-লাইব্রেরি, মাল্টি-মিডিয়া শ্রেণিকক্ষ প্রভৃতির ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাহলে এ হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবায় আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। হাসপাতালের জন্য এমআরআই মেশিন, সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি, আসন সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবির কথা শুনে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে জনগণের টাকা দুর্নীতিতে অপচয় হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধ করতে আমাদের অনেক অর্থ খরচ হয়ে গেছে। তবে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি আগামী দু’বছরের মধ্যে সবখাত ঘুরে দাঁড়াবে। এ হাসপাতালের জন্যও বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য সরকারি প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট তৈরির জন্য ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উপর মন্ত্রী জোর দেন এবং বলেন, ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হলে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ঠিক রাখতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা ও অনুপাত নিশ্চিত না করে আসন বৃদ্ধি করলে তা কোন কাজে আসবে না।
পরে তিনি বোতাম টিপে নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
উল্লেখ্য, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন এ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তাঁর প্রচেষ্টায় বিগত ২০০৫ সালে বেগম জিয়ার সরকার থাকার সময় নামমাত্র মূল্যে এ হাসপাতালের জন্য সরকার চার একরের অধিক জমি দান করে। হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ আজ বেগম জিয়া ও তাঁর সরকারের জনকল্যাণমূলক এ দানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

আরও পড়ুনঃ  ভোলায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

পরিচালনা পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ
সম্পাদক জাহিদুল হাসানের সঞ্চালনায় ও
পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি সৈয়দ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসীম বড়ুয়া, পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান রানা বক্তৃতা করেন।

আরও পড়ুনঃ  মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য" আব্বাসের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসুন