Dhaka ০৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শিল্প কারখানায় মিটার চুরি ও চিরকুট লেখে অর্থ আদায় চক্রের ০২ সদস্য গ্রেপ্তার গাজীপুরে পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট মাদারগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম জিনজিরা পীর মোহাম্মদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন ঈদগাঁও উপজেলা জালালাবাদ ইউনিয়নে আতংকের আরেক নাম জামালপুরের রাজিব বাস, দূর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের দাফন সম্পন্ন কিশোরগঞ্জে মেধাবৃত্তির কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও সংবর্ধনা। ধুনটে শহীদ আব্দুল মালেক ট্রাস্ট কমপ্লেক্সের ছাদ ঢালাই উদ্বোধন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজউক ঝিলমিল স্কুল অ্যান্ড কলেজ চালুর প্রস্তুতি: উদ্বোধনের অপেক্ষায় নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আতংকের আরেক নাম জামালপুরের রাজিব বাস, দূর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের দাফন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টারঃ শফিকুল ইসলাম (জামালপুর) ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী বাস চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ নিহত সাতজনের জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের একই পরিবারের চারজন। এছাড়াও রয়েছে এক দম্পত্তি ও সিএনজি চালক। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে দূর্ঘটনার পর থেকে ধাপে ধাপে আজ শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর পর্যন্ত সকল নিহতদের জানাজা সম্পন্নের পর দাফন করা হয়। গত রাতেই লাশের অবস্থা খারাপ হওয়ায় সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের বীর গোবিন্দী গ্রামে সিএনজি চালক সুজন মিয়ার জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। আজ সকাল ৯টায় একই ইউনিয়নের ঘোড়াকান্দা গ্রামে মর্জিনা বেগম ও তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে মিনালের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁদের সেখানকার কবরস্থানে দাফন করা হয়। সকাল ১০টায় দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামে মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও তাঁর ৮৫ বছর বয়সী মা রাশিদা বেগমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এরপর শরিফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামে আকরাম আলী ও তার স্ত্রী মমতা বেগমের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুনঃ  ইউএনওর সহায়তায় স্কুলে ফিরলো বাবাকে চা-রুটি খাওয়ানো সেই শিশু

 

গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) তারিখে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ সাতজন নিহত হন। এই দূর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের চারজন হলেন দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তাঁর মা রাশিদা বেগম, ২৫ বছর বয়সী অন্তস্বত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা বেগম এবং মর্জিনার পাঁচ বছরের ছেলে মিনাল। স্বজনরা জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি ৫৫ বছর বয়সী মোফাজ্জল হোসেন লেবু স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হুতাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। মা, মেয়ে ও নাতিকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা বাড়ি থেকে বের হন। নান্দিনা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে প্রথমে ময়মনসিংহ যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তাঁরা। একই পরিবারের চারজনকে হারিয়ে স্বজনরা এখন শোকে বাকরুদ্ধ। চারটি খাটিয়া, চারটি কবর আর স্বজনদের আহাজারিতে দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া ও ঘোড়াকান্দা গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। একই পরিবারের চার সদস্যকে দুই বাড়িতে দাফনের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যেও নেমে এসেছে গভীর শোক। আর সাত জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পুরো জামালপুর।

আরও পড়ুনঃ  দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সিরাজগঞ্জে ফিরলেন সাইদুর রহমান বাচ্চু

 

নিহত মোফাজ্জল হোসেন লেবুর স্বজন ইসমতারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, লেবু গাজীপুরে দিনমজুরের কাজ করতেন। শাশুড়ি, ভাতিজি ও নাতিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। একসঙ্গে সবাইকে হারিয়ে তাঁরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ ফারাজি বলেন, আগে টেলিভিশনে একই পরিবারের কয়েকজনের মৃত্যুর খবর দেখেছেন। এবার নিজের এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। একই পরিবারের চারজনসহ এত মানুষের মৃত্যুতে পুরো এলাকাবাসী শোকে স্তব্ধ। দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাজীব পরিবহনের বাস ও চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন। জানাযার নামাজে অংশগ্রহনের পর মামুন বলেন- নিহতের পরিবারের পাশে দাড়ানো হবে। এছাড়াও সকলের সাথে বসে দূর্ঘটনা এড়াতে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহন করা হবে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত ২০ মাসে রাজীব পরিবহনের বাসের কারণে ৯টি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন ঈদগাঁও উপজেলা জালালাবাদ ইউনিয়নে
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শিল্প কারখানায় মিটার চুরি ও চিরকুট লেখে অর্থ আদায় চক্রের ০২ সদস্য গ্রেপ্তার

আতংকের আরেক নাম জামালপুরের রাজিব বাস, দূর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের দাফন সম্পন্ন

আপডেটের সময়: ০৩:৩২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ শফিকুল ইসলাম (জামালপুর) ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী বাস চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ নিহত সাতজনের জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের একই পরিবারের চারজন। এছাড়াও রয়েছে এক দম্পত্তি ও সিএনজি চালক। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে দূর্ঘটনার পর থেকে ধাপে ধাপে আজ শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর পর্যন্ত সকল নিহতদের জানাজা সম্পন্নের পর দাফন করা হয়। গত রাতেই লাশের অবস্থা খারাপ হওয়ায় সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের বীর গোবিন্দী গ্রামে সিএনজি চালক সুজন মিয়ার জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। আজ সকাল ৯টায় একই ইউনিয়নের ঘোড়াকান্দা গ্রামে মর্জিনা বেগম ও তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে মিনালের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁদের সেখানকার কবরস্থানে দাফন করা হয়। সকাল ১০টায় দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামে মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও তাঁর ৮৫ বছর বয়সী মা রাশিদা বেগমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এরপর শরিফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামে আকরাম আলী ও তার স্ত্রী মমতা বেগমের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রাম নগরীর গোলপাহাড় মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখল মুক্ত চসিকের অভিযান

 

গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) তারিখে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ সাতজন নিহত হন। এই দূর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের চারজন হলেন দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তাঁর মা রাশিদা বেগম, ২৫ বছর বয়সী অন্তস্বত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা বেগম এবং মর্জিনার পাঁচ বছরের ছেলে মিনাল। স্বজনরা জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি ৫৫ বছর বয়সী মোফাজ্জল হোসেন লেবু স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হুতাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। মা, মেয়ে ও নাতিকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা বাড়ি থেকে বের হন। নান্দিনা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে প্রথমে ময়মনসিংহ যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তাঁরা। একই পরিবারের চারজনকে হারিয়ে স্বজনরা এখন শোকে বাকরুদ্ধ। চারটি খাটিয়া, চারটি কবর আর স্বজনদের আহাজারিতে দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া ও ঘোড়াকান্দা গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। একই পরিবারের চার সদস্যকে দুই বাড়িতে দাফনের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যেও নেমে এসেছে গভীর শোক। আর সাত জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পুরো জামালপুর।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে সভা, পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি টিপুর মতবিনিময়

 

নিহত মোফাজ্জল হোসেন লেবুর স্বজন ইসমতারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, লেবু গাজীপুরে দিনমজুরের কাজ করতেন। শাশুড়ি, ভাতিজি ও নাতিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। একসঙ্গে সবাইকে হারিয়ে তাঁরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ ফারাজি বলেন, আগে টেলিভিশনে একই পরিবারের কয়েকজনের মৃত্যুর খবর দেখেছেন। এবার নিজের এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। একই পরিবারের চারজনসহ এত মানুষের মৃত্যুতে পুরো এলাকাবাসী শোকে স্তব্ধ। দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাজীব পরিবহনের বাস ও চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন। জানাযার নামাজে অংশগ্রহনের পর মামুন বলেন- নিহতের পরিবারের পাশে দাড়ানো হবে। এছাড়াও সকলের সাথে বসে দূর্ঘটনা এড়াতে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহন করা হবে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত ২০ মাসে রাজীব পরিবহনের বাসের কারণে ৯টি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে সোনালি আঁশের বাম্পার ফলন