
জিহাদুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার:রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় হাইকোর্ট এবং শিক্ষা চত্বর এলাকা। প্রতিনিয়ত এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন হাজারো চাকুরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে আসা বিচারপ্রার্থীরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই ভিআইপি সড়কেও অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের অবাধ যাতায়াতের কারণে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ নগরবাসী।আজ বৃহস্পতিবার সরজমিনে হাইকোর্ট ও শিক্ষা চত্বর সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় যানবাহনের এক মহাসমাবেশ। ছবিতে যেমনটা দেখা যাচ্ছে, ট্রাফিক সিগন্যালে আটকা পড়ে আছে সারিবদ্ধ রঙিন ঐতিহ্যবাহী রিকশা, মোটরবাইক এবং অন্যান্য যানবাহন। পাশেই দৃশ্যমান নবনির্মিত মেট্রোরেলের পিলার। কিন্তু মাটির নিচের এই বিশৃঙ্খল যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আকাশচুম্বী।
ভোগান্তির মূল কারণসমূহ:
অটোরিকশার অবাধ চলাচল: প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশা বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, শিক্ষা চত্বর ও এর আশেপাশের গলিপথ থেকে মূল সড়কে এসব ধীরগতির ও অননুমোদিত যানবাহন চলে আসছে। ফলে দ্রুতগতির যানবাহনের গতি থমকে যাচ্ছে।মোটরসাইকেলের বিশৃঙ্খলা: সিগন্যালে গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে মোটরসাইকেলের এলোমেলো অবস্থানের কারণে জটলা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।ফুটপাথ ও মোড়ে হকারদের আনাগোনা: রাস্তার মোড়গুলোতে ছোটখাটো বিক্রেতাদের উপস্থিতির কারণে পথচারী এবং যানবাহন—উভয়েরই চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ:
শিক্ষা চত্বরে জটলায় আটকে থাকা এক বেসরকারি চাকুরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাইকোর্ট এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে প্রতিদিন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী এবং সচিবালয়ের কর্মকর্তারা যাতায়াত করেন। কিন্তু এখন এখানেও রিকশা এবং অটোরিকশার এমন জটলা তৈরি হয় যে, ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে আধা ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থার কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি নেই।”
ছবিতে জটলার মাঝে ক্লান্ত মুখে বসে থাকা সাধারণ যাত্রী এবং চালকদের চোখে-মুখেও সেই চরম বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট। বিশেষ করে তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ:নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোকে যানজটমুক্ত রাখতে হলে রুট পারমিটবিহীন অটোরিকশা ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সাথে ট্রাফিক পুলিশকে শিক্ষা চত্বর ও হাইকোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সিগন্যাল ব্যবস্থার আরও আধুনিকায়ন এবং কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই যানজট পরিস্থিতি অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী ঢাকাবাসী।
প্রতিবেদকের নাম 

























