Dhaka ০৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরের কৃষকের ঘাম ঝরা উৎপাদন: অর্থনৈতিক বৈষম্যের বেড়াজালে থমকে জীবন

মো: মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ,রংপুর বিভাগ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ শুধু একটি অঞ্চল নয়, এটি বাংলাদেশের খাদ্যভাণ্ডার, কৃষির প্রাণকেন্দ্র এবং কোটি মানুষের জীবিকার আশ্রয়স্থল। দেশের খাদ্য উৎপাদনে রংপুর বিভাগের অবদান আজ অনস্বীকার্য। ভুট্টা, আলু, গম, চাল কিংবা সবজি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গ দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে রেখেছে। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, যে অঞ্চল দেশের মানুষের খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করে, সেই অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ আজও দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও উন্নয়ন বৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করছে ।
সরকারের প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, উত্তরবঙ্গকে শুধু কৃষির অবদান দিয়ে মূল্যায়ন না করে, উন্নয়নের মূল ধারায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক। এই অঞ্চলের কৃষকরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। কিন্তু এখনো শিল্পায়নের সীমাবদ্ধতা, কর্মসংস্থানের অভাব, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় উত্তরবঙ্গ পিছিয়ে রয়েছে।
আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তরিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গকে দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব। কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার প্রসার ঘটানো গেলে এই অঞ্চলের মানুষ আর অবহেলিত থাকবে না। উত্তরবঙ্গের মানুষ কোনো করুণা চায় না,তারা চায় তাদের অবদানের ন্যায্য স্বীকৃতি এবং সমান উন্নয়নের অধিকার। যে মাটি দেশের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, সেই মাটির মানুষের মুখে হাসি ফোটানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের উন্নয়ন; উত্তরবঙ্গের অগ্রগতি মানেই দেশের অর্থনীতির আরও শক্তিশালী ভিত্তি।
সময়ের দাবি এখন একটাই উত্তরবঙ্গকে আর অবহেলার নয়, অগ্রাধিকার দেওয়ার।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজারের রাজনগরে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে  নিহত ১
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

উত্তরের কৃষকের ঘাম ঝরা উৎপাদন: অর্থনৈতিক বৈষম্যের বেড়াজালে থমকে জীবন

আপডেটের সময়: ১২:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

মো: মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ,রংপুর বিভাগ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ শুধু একটি অঞ্চল নয়, এটি বাংলাদেশের খাদ্যভাণ্ডার, কৃষির প্রাণকেন্দ্র এবং কোটি মানুষের জীবিকার আশ্রয়স্থল। দেশের খাদ্য উৎপাদনে রংপুর বিভাগের অবদান আজ অনস্বীকার্য। ভুট্টা, আলু, গম, চাল কিংবা সবজি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গ দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে রেখেছে। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, যে অঞ্চল দেশের মানুষের খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করে, সেই অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ আজও দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও উন্নয়ন বৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করছে ।
সরকারের প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, উত্তরবঙ্গকে শুধু কৃষির অবদান দিয়ে মূল্যায়ন না করে, উন্নয়নের মূল ধারায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক। এই অঞ্চলের কৃষকরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। কিন্তু এখনো শিল্পায়নের সীমাবদ্ধতা, কর্মসংস্থানের অভাব, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় উত্তরবঙ্গ পিছিয়ে রয়েছে।
আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তরিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গকে দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব। কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার প্রসার ঘটানো গেলে এই অঞ্চলের মানুষ আর অবহেলিত থাকবে না। উত্তরবঙ্গের মানুষ কোনো করুণা চায় না,তারা চায় তাদের অবদানের ন্যায্য স্বীকৃতি এবং সমান উন্নয়নের অধিকার। যে মাটি দেশের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, সেই মাটির মানুষের মুখে হাসি ফোটানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের উন্নয়ন; উত্তরবঙ্গের অগ্রগতি মানেই দেশের অর্থনীতির আরও শক্তিশালী ভিত্তি।
সময়ের দাবি এখন একটাই উত্তরবঙ্গকে আর অবহেলার নয়, অগ্রাধিকার দেওয়ার।

আরও পড়ুনঃ  পারাপারের সেতুই যেন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে