
মাসুদ রানা মাসুম, পার্বত্য ব্যুরো
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারে ভোররাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্তত ৫০টি দোকানপাট এবং বসতঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তরা।
শনিবার দিবাগত রাত তথা রবিবার (১৭ মে) ভোররাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাজার এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন হঠাৎ বাজারের একটি অংশে আগুন দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে জাগানো হয়। মাইকের ঘোষণা শুনে শত শত মানুষ ছুটে এসে নিজস্ব উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু বাজারের অধিকাংশ স্থাপনা বাঁশ ও কাঠের তৈরি হওয়ায় শুকনো মৌসুমে আগুন তীব্র গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। চোখের পলকে ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন ও বসতবাড়ির মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সবকিছু হারিয়ে বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট। ফায়ার ফাইটাররা স্থানীয় জনতাকে সাথে নিয়ে দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে বাজারের অর্ধেকেরও বেশি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।
বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী জানান: ”খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় আমাদের পৌঁছাতে ও কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।” এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সকালে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আকস্মিক এই দুর্যোগে সবকিছু হারানো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন সরকারের কাছে জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছেন।
প্রতিবেদকের নাম 
























