Dhaka ০১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ জনের মরদেহ পৌঁছেছে নওগাঁয় মিল্টন সমাদ্দরের অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে শরণখোলায় মানববন্ধন তারাগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের প্রশিক্ষণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ডুয়েটে চান্স পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীকে তারাগঞ্জ ইউএনওর অর্থসহায়তা বাগাতিপাড়ায় কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু চিলমারীতে হেলথ কেয়ার এন্ড রিসার্চ সেন্টার উদ্ধোধন পবায় বাবা-ছেলের ঝগড়া থামাতে গিয়ে হাশুয়ার কোপে চাচা নিহত ফুলবাড়ীর জাহিদুল নাগেশ্বরীতে ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১৭ হাজার টাকার ভ্যানের জন্য ফরিদ হত্যা,২৪ ঘণ্টায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

আদমদীঘির নসরতপুর এলএসডিতে চাল সংগ্রহ-মজুত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৫:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৮ সময় দেখুন

এস কে সাগর মির্জা, জেলা প্রতিনিধি বগুড়া:

বগুড়ার আদমদীঘির নসরতপুর এলএসডি (লোকাল স্টোরেজ ডিপো) খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহ, মজুত ও সরকারি প্রকল্পে সরবরাহ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি ও খাদ্য বিভাগের প্রচলিত নিয়ম ভেঙে উপজেলার বাইরে দিনাজপুরের পুলহাট, বগুড়ার শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার চালকলের চাল নসরতপুর এলএসডিতে সংগ্রহ ও মজুত করা হয়েছে। এমনকি আদমদীঘি উপজেলা পুষ্টি চাউল কর্মসূচির আওতাভুক্ত না হলেও সরকারি খাদ্য সহায়তার চালের সঙ্গে ‘পুষ্টি চাউল’ লেখা বস্তাও সরবরাহ করা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র নারীদের প্রতি মাসে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট আদমদীঘি উপজেলার কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী নারীদের মধ্যে প্রকল্পের চাল বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ক্ষেতলালে জমির সীমানা নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ,গরম পানি ছোড়ার অভিযোগ আহত ১

সরেজমিনে কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নে চাল বিতরণের সময় দেখা যায়, বিতরণ করা চালের কয়েকটি বস্তায় থাকা টেনসিলে দিনাজপুরের পুলহাট এলাকার ইনশাআল্লাহ অটো রাইস মিল, বগুড়ার শেরপুরের উদয়ন অটো রাইস মিল এবং ঠিকানাবিহীন মদিনা অটো রাইস মিল (প্রোপ্রাইটর আব্দুল হাকিম) এর নাম রয়েছে। আবার কোনো কোনো বস্তায় ‘পুষ্টি চাউল’ লেখা টেনসিলও দেখা যায়। ‘পুষ্টি চাউল’ লেখা কয়েকটি বস্তার নিচে একাধিক অস্পষ্ট টেনসিল থাকায় চালগুলো কোথাকার এবং কোন মিল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বিতরণ করা চাল কোন খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করা হয়েছে জানতে চাইলে কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানান, বরাবরের মতো নসরতপুর এলএসডি থেকেই চাল উত্তোলন করা হয়েছে। অন্যদিকে, সুবিধাভোগীদের গত আমন মৌসুমে সংগ্রহ করা চাল বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও বিতরণ করা চালের বস্তায় ‘বোরো/২০২৫’ লেখা টেনসিল পাওয়া গেছে। ফলে বরাদ্দকৃত চালের সঙ্গে সরবরাহ করা চালের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মনপুরায় নতুন নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে উপজেলা যুবদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা

বিতরণ করা চালের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে দেখা যায়, উপজেলার সান্তাহারের বুশরা গ্রুপের চালের বস্তাগুলোর চাল তুলনামূলক ভালো মানের হলেও অন্যান্য কয়েকটি মিলের চাল নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেন সুবিধাভোগীরা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আদমদীঘি উপজেলা পুষ্টি চাউল কর্মসূচির আওতাভুক্ত নয়। অথচ নসরতপুর এলএসডি থেকে সরবরাহ করা চালের মধ্যে ‘পুষ্টি চাউল’ লেখা বস্তা পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলার সদর ও নসরতপুর এলএসডিতে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী উপজেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত অটো, সেমি-অটো ও হাসকিং চালকল থেকে চাল সংগ্রহ ও মজুত করার কথা। সে ক্ষেত্রে দিনাজপুরের পুলহাট, বগুড়ার শেরপুর কিংবা অন্যান্য এলাকার চালকলের চাল কীভাবে নসরতপুর এলএসডিতে সংগ্রহ ও মজুত করা হলো এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  নোয়াপাড়ায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে জশনে জুলুশ ও মিলাদ মাহফিল

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নসরতপুর এলএসডিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমা আফরিনকে পাওয়া যায়নি। পরদিন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এমনটা তো হওয়ার কথা না। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ জনের মরদেহ পৌঁছেছে নওগাঁয়

আদমদীঘির নসরতপুর এলএসডিতে চাল সংগ্রহ-মজুত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৫:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

এস কে সাগর মির্জা, জেলা প্রতিনিধি বগুড়া:

বগুড়ার আদমদীঘির নসরতপুর এলএসডি (লোকাল স্টোরেজ ডিপো) খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহ, মজুত ও সরকারি প্রকল্পে সরবরাহ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি ও খাদ্য বিভাগের প্রচলিত নিয়ম ভেঙে উপজেলার বাইরে দিনাজপুরের পুলহাট, বগুড়ার শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার চালকলের চাল নসরতপুর এলএসডিতে সংগ্রহ ও মজুত করা হয়েছে। এমনকি আদমদীঘি উপজেলা পুষ্টি চাউল কর্মসূচির আওতাভুক্ত না হলেও সরকারি খাদ্য সহায়তার চালের সঙ্গে ‘পুষ্টি চাউল’ লেখা বস্তাও সরবরাহ করা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র নারীদের প্রতি মাসে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট আদমদীঘি উপজেলার কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী নারীদের মধ্যে প্রকল্পের চাল বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ভুয়া '১৪৪ ধারা' জারি, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

সরেজমিনে কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নে চাল বিতরণের সময় দেখা যায়, বিতরণ করা চালের কয়েকটি বস্তায় থাকা টেনসিলে দিনাজপুরের পুলহাট এলাকার ইনশাআল্লাহ অটো রাইস মিল, বগুড়ার শেরপুরের উদয়ন অটো রাইস মিল এবং ঠিকানাবিহীন মদিনা অটো রাইস মিল (প্রোপ্রাইটর আব্দুল হাকিম) এর নাম রয়েছে। আবার কোনো কোনো বস্তায় ‘পুষ্টি চাউল’ লেখা টেনসিলও দেখা যায়। ‘পুষ্টি চাউল’ লেখা কয়েকটি বস্তার নিচে একাধিক অস্পষ্ট টেনসিল থাকায় চালগুলো কোথাকার এবং কোন মিল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বিতরণ করা চাল কোন খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করা হয়েছে জানতে চাইলে কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানান, বরাবরের মতো নসরতপুর এলএসডি থেকেই চাল উত্তোলন করা হয়েছে। অন্যদিকে, সুবিধাভোগীদের গত আমন মৌসুমে সংগ্রহ করা চাল বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও বিতরণ করা চালের বস্তায় ‘বোরো/২০২৫’ লেখা টেনসিল পাওয়া গেছে। ফলে বরাদ্দকৃত চালের সঙ্গে সরবরাহ করা চালের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চা বাগান প্রতিষ্ঠার প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে চা শ্রমিকদের মজুরি এখনো ২০০ টাকা নির্ধারণ হয় নি।

বিতরণ করা চালের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে দেখা যায়, উপজেলার সান্তাহারের বুশরা গ্রুপের চালের বস্তাগুলোর চাল তুলনামূলক ভালো মানের হলেও অন্যান্য কয়েকটি মিলের চাল নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেন সুবিধাভোগীরা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আদমদীঘি উপজেলা পুষ্টি চাউল কর্মসূচির আওতাভুক্ত নয়। অথচ নসরতপুর এলএসডি থেকে সরবরাহ করা চালের মধ্যে ‘পুষ্টি চাউল’ লেখা বস্তা পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলার সদর ও নসরতপুর এলএসডিতে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী উপজেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত অটো, সেমি-অটো ও হাসকিং চালকল থেকে চাল সংগ্রহ ও মজুত করার কথা। সে ক্ষেত্রে দিনাজপুরের পুলহাট, বগুড়ার শেরপুর কিংবা অন্যান্য এলাকার চালকলের চাল কীভাবে নসরতপুর এলএসডিতে সংগ্রহ ও মজুত করা হলো এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  সমন্বয়হীনতা যেন উন্নয়নের বাধা না হয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নসরতপুর এলএসডিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমা আফরিনকে পাওয়া যায়নি। পরদিন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এমনটা তো হওয়ার কথা না। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে।