মোঃ মামুনুর রশিদ ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ ধুনট পৌরসভার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ধুনট পৌরপার্ক (মাঠ) দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ও কচুরিপানায় ভরে আছে। ধুনট দক্ষিণ অফিসার পাড়ায় অবস্থিত পৌর পার্কটি (মাঠ) এলাকার শিশু কিশোরের এবং মাঠের পাশে অবস্থিত প্যারামাউন্ট কিন্ডারগার্টেন প্রি-প্যারেটরি স্কলের শিক্ষার্থীদের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ও খেলার মাঠ হিসেবে ব্যাবহার হয়ে থাকে। এখন সেখানে জমে থাকা পানিতে ভাসছে কচুরিপানা, বড় বড় ঘাস ও আগাছায় ঢেকে গেছে মাঠ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের প্রায় ছয় মাসই পানিতে ডুবে থাকায় মাঠটি এখন খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দিনের জলাবদ্ধতার কারণে পৌরসভা কতৃক স্থাপিত বাচ্চাদের খেলাধুলার সামগ্রী মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ধুনট পৌর এলাকায় ধুনট বাজারের দক্ষিণে সোনামুখি রোড,পৌরসভার তিন ও ছয় নাম্বার ওয়ার্ডের মাঝখানে প্যারামাউন্ট কিন্ডারগার্টেন প্রি-প্যারেটরি মাঠটির অবস্থান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঘেঁষা গুরুত্বপূর্ণ এই মাঠটি পৌরসভার বিভিন্ন অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক আয়োজনে ব্যাবহার করা হয়।সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠটি পানি ও কচুরিপানায় ভরে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যাবস্থা না থাকার কারণে মাঠের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে যায়। পানি শুকাতে সময় লাগে প্রায় ছয় মাস।
এবছর মাঠের সিমানা প্রাচীর নির্মাণ হলেও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের । তাঁদের দাবি, মাঠটি উঁচু করার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরি।
মাঠ সংলগ্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা বলেন, “এখন বিকেলবেলা মাঠে খেলাধুলার সময়। কিন্তু মাঠে হাঁটুপানি ও কচুরিপানা জমে থাকায় আমরা খেলাধুলা করতে পারিনা। স্কুলের পাঠগ্রহনের পাশাপাশি শরীরচর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
এলাবাসী জানান “পরিকল্পিত সংস্কারের অভাবে দক্ষিণ অফিসার পাড়ার আবেগের এই পৌর পার্ক (মাঠ) আজ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। অথচ এই মাঠেই সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতো।”
“সব ধরনের খেলাধুলার সুযোগ না থাকলে একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা কঠিন বলে মনে করেন এলাকার সুশীল ব্যাক্তিরা। খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার বড় একটি মাধ্যম।”
মাঠটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শুধু খেলাধুলাই নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।