নাজমুল ফয়েজ টুটুল, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও মৎস্য সংরক্ষণ আইনের কঠোর বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্টের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করার পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের জরিমানা ও সতর্ক করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পানান বিলসহ বিভিন্ন জলাশয় ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাবিকুন্নাহার।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একশ্রেণীর অসাধু মৎস্যজীবী নিষিদ্ধ 'চায়না দুয়ারী' ও কারেন্ট জালের মাধ্যমে নির্বিচারে দেশীয় প্রজাতির পোনা ও মা মাছ ধ্বংস করছে। এ সময় হাতেনাতে বেশ কিছু অবৈধ জাল জব্দ করা হয় এবং উপস্থিত সবার সামনে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। একই সাথে মৎস্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্টদের আর্থিক জরিমানা ও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
মা মাছ ও পোনা মাছ রক্ষা করতে না পারলে আমাদের মৎস্য সম্পদ কখনো টেকসই হবে না। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের এই নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
শাবিকুন্নাহার, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিকল্প কর্মসংস্থানের আশ্বাস। হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। তবে শুধু আইনি প্রয়োগই নয়, প্রকৃত জেলেদের জীবিকার কথা বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি এবং প্রয়োজনীয় প্রণোদনা সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রশাসনের এই ঝটিকা অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের নিয়মিত অভিযানের ফলে নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন বহুগুণ বাড়বে। এর সুফল হিসেবে আগামী দিনে সাধারণ ভোক্তারা যেমন দেশীয় প্রজাতির প্রচুর মাছ পাবেন, তেমনই বাজারে বড় আকারের ও নিরাপদ মাছেরপ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
অভিযান চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।