বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকাঃ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলকে ঢেলে সাজাতে নতুন কমিটি গঠনের জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে আরও গতিশীল করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহের যে কোনো সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে পারে। ইতোমধ্য কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কয়েকটি সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণার ও ইঙ্গিত দেন বিএনপি'র হাইকমান্ড। বৈঠকে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চান তিনি। সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সিনিয়র সহ সভাপতি ইয়াসিন আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। তারা কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিষয়টি দ্রুত দেখার আশ্বাস দিয়ে তাদেরকে বিদায় দেন চেয়ারম্যান।
বর্তমান কমিটি ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজিব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছর মেয়াদি কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। ইতিমধ্যে সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান। দলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সাবেক ছাত্র নেতারা। সাধারণ সম্পাদক পদে চমক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাবেক সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল। এ ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন। সভাপতি পদপ্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান প্রতিবেদককে বলেন, ‘বর্তমান সভাপতি সংসদ সদস্য এবং সাধারণ সম্পাদক প্রতিমন্ত্রী— দুজনই সফল। কিন্তুু রাষ্ট্রীয় কাজে তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সে কারণে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে নতুন কমিটি খুবই প্রয়োজন। দলীয় একাধিক সূত্র মনে করছে, এই কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা অনেক সহজ হবে।