মাসুদ রানা মাসুম, পার্বত্য ব্যুরো
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে বান্দরবানে। সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বান্দরবান সদর শহরের আর্মি পাড়া, মেম্বার পাড়া, ইসলামপুরের শেরে বাংলা এলাকা, বালাঘাটার আমবাগান, কাচিংঘাটা, হাফেজঘোনা ও নদী তীরবর্তী বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে, আবার অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
বুধবার দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত ছিল। বান্দরবান শহরের আর্মি পাড়া এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের বাসিন্দারা জানান, নিচতলার অধিকাংশ অংশ ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে এবং আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গা ডুবে রয়েছে। তারা জানান, বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও পানি কমার কোনো লক্ষণ নেই; বরং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পানি বাড়ছেই। নতুন করে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড় ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা, ঝিরি, জলপ্রপাত ও নদীপথে চলাচল থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১৩৫ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
বন্যার কারণে বান্দরবান-রুমা ও বান্দরবান-থানচি সড়কের বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড় ধস ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কয়েকটি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নদীপথেও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে একাধিক মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকার বহু পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সদর শহরের আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।