নাজমুল ফয়েজ টুটুল, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: ইটের পর ইট, পাথরের পর পাথর—চারপাশে কেবলই শহুরে ব্যস্ততা। এর মাঝে হোসেনপুর উপজেলার শিশু-কিশোরদের একটু মুক্ত বাতাস, মানসিক বিকাশ আর সুস্বাস্থ্য গঠনের জন্য কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। এই অভাব দূর করতে হোসেনপুর মডেল মসজিদ সংলগ্ন পুরাতন কোর্ট বিল্ডিং এলাকার প্রায় ৪৫ শতাংশ পরিত্যক্ত জায়গায় একটি আধুনিক 'শিশু পার্ক' নির্মাণের মহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও আজ অব্দি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি হোসেনপুরবাসীর স্বপ্নের এই শিশু পার্ক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার শিশু-কিশোরদের সুস্বাস্থ্য গঠন, মানসিক ও মেধা বিকাশের কথা চিন্তা করে কিশোরগঞ্জের বিদায়ী জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লা এবং হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী নাহিদ ইভা এই মহৎ উদ্যোগটি গ্রহণ করেছিলেন। উপজেলা প্রশাসন ও হোসেনপুর পৌরসভার যৌথ বাস্তবায়নে এই পার্কটি নির্মিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক রদবদল ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বর্তমানে থমকে আছে পুরো প্রকল্পটি। অথচ নির্ধারিত স্থানটি (উপজেলা মডেল মসজিদ সংলগ্ন, ঢেকিয়া, হোসেনপুর প্রধান সড়ক) পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এখানে পার্কটি নির্মিত হলে হোসেনপুরের হাজারো শিশুর মানসিক বিকাশে তা এক অনন্য ভূমিকা রাখত।আমাদের সন্তানদের একটু খেলার বা ঘুরে বেড়ানোর মতো কোনো জায়গা হোসেনপুরে নেই। মডেল মসজিদের পাশে এই পার্কটি হলে শিশুরা নিরাপদে বিনোদন পেত। আমরা চাই দ্রুত এর কাজ শুরু হোক।
আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন স্থানীয় এক অভিভাবক। সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা প্রশাসকের প্রতি বিনীত অনুরোধ। উপজেলার সচেতন নাগরিক ও সর্বস্তরের জনগণের আকুল আকুতি—কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর (১) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম মাজহার এবং বর্তমান জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন যেন এই থমকে যাওয়া প্রকল্পটিকে পুনরায় সচল করতে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। নির্ধারিত স্থান: উপজেলা মডেল মসজিদ সংলগ্ন, ঢেকিয়া, হোসেনপুর প্রধান সড়ক, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ, ভূমির পরিমাণ: প্রায় ৪৫ শতাংশ (পরিত্যক্ত কোর্ট বিল্ডিং এলাকা) বাস্তবায়নকারী সংস্থা: হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসন ও হোসেনপুর পৌরসভা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বর্তমান প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুতই সব বাধা কেটে যাবে। হোসেনপুরের শিশু-কিশোররা ফিরে পাবে তাদের শৈশব আর মেধা বিকাশের উন্মুক্ত আঙিনা। দ্রুত এই পার্কটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছে হোসেনপুরবাসী।