মোঃ রাসেল স্টাফ রিপোর্টার: পার্বত্য জনপদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা এখন চরম সংকটে। প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগীর চাপে হাসপাতালের ইনডোর, আউটডোর এমনকি বারান্দাতেও তিল ধারণের ঠাঁই মিলছে না। শয্যা সংকটের কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদেরও মেঝেতে কিংবা হাসপাতালের নোংরা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখজনক। এর ওপর যোগ হয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমে রোগী এবং তাদের স্বজনদের হাহাকার ও ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে এই হাসপাতালের ওপর বিশাল একটি অঞ্চলের মানুষের জীবন-মরণ নির্ভর করে। লামা উপজেলার প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের বিশাল জনসংখ্যা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী আলীকদম উপজেলা এবং চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন থেকে প্রতিদিন শত শত অসহায়, দরিদ্র ও মেহনতি মানুষ উন্নত চিকিৎসার শেষ ভরসা হিসেবে এখানে ছুটে আসেন। তৃণমূলের সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর পার হলেও অতীতের সেই সীমিত ৫০ শয্যার অবকাঠামো দিয়েই চলছে এই বিশাল অঞ্চলের চিকিৎসা সেবা। ফলে বিপুল এই জনসংখ্যার চাপে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে এবং এই পশ্চাৎপদ অঞ্চলকে সামগ্রিক উন্নয়নে এগিয়ে নিতে হলে হাসপাতালটিকে অবিলম্বে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় ও গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে এই তীব্র মানবিক সংকট নিরসন এবং দুর্গম পাহাড়ের অসহায় মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মাননীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী এবং মাননীয় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।