বিষেশ প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বৃদ্ধাশ্রমের জায়গার সীমানা নির্ধারণ ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জায়গা সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য ডাকা সালিশি বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার পর ক্ষুব্ধ জনতার হাতে কোয়ান্টাম কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার উপজেলার সরই ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরই ইউনিয়নে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বৃদ্ধাশ্রমের জায়গার সীমানা ও মালিকানা নিয়ে স্থানীয় আবদুল গফুর ম্যানেজার ও তার লোকজনের সাথে কোয়ান্টাম কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষের বৈধ দলিলপত্র যাচাইয়ের জন্য একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয় পক্ষের বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপনের কথা ছিল। তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দলিলাদি উপস্থাপন করা হলেও প্রতিপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ উল্টো অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, সালিশি বৈঠকের কথা বলে তাদেরকে বসিয়ে রেখে অন্যায়ভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই অতর্কিত হামলায় তাদের আবদুল গফুর ম্যানেজার গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রতিপক্ষের লোকজন ও স্থানীয়রা আরও জানান, এই হামলার সাথে যারা সরাসরি জড়িত ছিল, তাদেরকে অবশ্যই হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যেতে হবে। হাতকড়া না পরিয়ে তাদেরকে সেখান থেকে বের করতে দেওয়া হবে না বলে তারা সাফ জানিয়ে দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত করতে অবরুদ্ধকারীদের বিভিন্নভাবে আশ্বাস দেওয়া হলেও উত্তেজিত জনতা তা মানতে অস্বীকৃতি জানায় এবং কোয়ান্টাম কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত ও জটিল রূপ নিলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেখানে উত্তেজিত জনতার মারমুখী অবস্থানের মুখেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত ধৈর্য ও দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দেন। তারা যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে অবরুদ্ধদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার তৎপরতা শুরু করেন।
পরবর্তীতে লামা থানার ওসি, লামা সার্কেলের (সহকারী পুলিশ সুপার) এবং গজালিয়া ক্যাম্প কমান্ডারের যৌথ নির্দেশনায় ও উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তারা উত্তেজিত জনতাকে আশ্বস্ত করেন এবং আইনগতভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য সবাইকে পুলিশ ফাঁড়িতে আসার অনুরোধ জানান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অবরুদ্ধদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ শান্ত হওয়ার পর এই বিরোধপূর্ণ জায়গার মালিকানা ও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য নতুন একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে পুনরায় উভয় পক্ষের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে পরবর্তী সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন থমথমে হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।