মোঃ রমজান আলী আটোয়ারী উপজেলা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী রানীগঞ্জ বাজারে এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে এক পিস লাউ। যে লাউ উৎপাদনে কৃষকের খরচ হচ্ছে ৬ থেকে ৭ টাকা, বাজারে তার দাম মিলছে মাত্র ১ থেকে ২ টাকা। অথচ রাজধানী ঢাকার বাজারে একই লাউ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। উৎপাদন খরচের চেয়ে কয়েক গুণ কম দামে ফসল বিক্রি করতে গিয়ে দিশেহারা কৃষকেরা। লোকসানের আশঙ্কায় কেউ কেউ ক্ষেত থেকে লাউ তোলাই বন্ধ করে দিয়েছেন। ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দোহশুহ গ্রামের চাষী মোঃ খোরশেদ, মোঃ সবুজ মিয়া, মোঃ রাজ্জাক(মনু) বলেন খেতে ঝুলছে পাকা লাউ, জমিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে সবজি। ভালো ফলন তবে দাম নেই। এখন কৃষকের কাছে পরিণত হয়েছে আর্থিক বোঝায়। সরেজমিনে দেখা যায় আজ ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লাউয়ের মাচাজুড়ে ঝুলছে অসংখ্য লাউ। কৃষকদের ভাষ্য, এবার ফলন গত বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বাড়লেও দাম কমে যাওয়ায় সেই ফলন থেকে লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচের সামান্য অংশও তুলতে পারছেন না তারা। ক্ষেত থেকে লাউ তুলে বাজারে নেওয়ার খরচটুকুও উঠছে না অনেকের। ফলে লাউ সংগ্রহ না করে মাচায় ফেলে রাখছেন কেউ কেউ। সময়মতো বিক্রি করতে না পারায় কিছু লাউ নষ্টও হচ্ছে।
কৃষকদের হিসাবে, জমি তৈরি, হালচাষ, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, মাচা নির্মাণ ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি পিস লাউ উৎপাদনে খরচ পড়ে ৬ থেকে ৭ টাকা। অথচ মাঠপর্যায়ে বিক্রি করতে হচ্ছে ১ থেকে ২ টাকায়। এতে প্রতিটি লাউয়ে লোকসান হচ্ছে ৪ থেকে ৬ টাকা। উৎপাদন যত বেশি হচ্ছে, লোকসানের অঙ্কও তত বাড়ছে। দুই বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছেন রানীগঞ্জের কৃষক কামাল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি মোট দুই বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছি। দুই বিঘা জমিতে আমার প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার লাউয়ের উৎপাদন ভালো হয়েছে। প্রথম দিকে লাউয়ের দাম কিছুটা ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমানে এক টাকায় এক পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক পিস লাউ উৎপাদন করতে আমাদের ৫ থেকে ৭ টাকা খরচ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা মাঠে মারা যাব।