Dhaka ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ” নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে দেবিদ্বারে জমি দখলকে কেন্দ্র করে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও পিটিয়ে জখম, থানায় মামলা মাদক কারবারীদের আঁতুড়ঘর চকসুত্রাপুরের দুই বিয়াইন গ্রেফতার ১৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক কেন্দুয়ায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সরকারি নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ জুলাই’২৪ গণঅভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধন মাঠে গড়াল কাবাডি ও ভলিবল ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতের পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারী দিনাজপুরে বোরো মৌসুমে ধান কাটা শেষ, খরচ বাড়ায় বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বগতি হোসেনপুরে প্রীতির ম্যাজিক, চাকরি ছেড়ে পাল্টে দিলেন হতদরিদ্র শত নারীদের জীবনচিত্র ফটিকছড়িতে আয়বর্ধণ মূলক সবজি চাষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, পত্নীতলায় এক মাদক ব্যবসায়ী ১৪০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ আটক

রংপুর মেডিকেলে আইসিইউ ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়ায় কুকুর

মো: মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ, রংপুর বিভাগ
হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুর। হাসপাতাল চত্বরজুড়ে ছড়িয়ে আছে আবর্জনা। মেডিকেল বর্জ্য পড়ে থাকায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা। এমন চিত্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রমেক)।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি থেকে আসা এক রোগীর স্বজন আনছার আলী বলেন, ‘আমার রোগী আইসিউতে ভর্তি। আমরা কোনো জায়গা না পেয়ে আইসিউর সামনে শুয়ে থাকি। এখানে আবর্জনার যে দুর্গন্ধ, সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। খুব কষ্টে আছি।’

এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। সঙ্গে রয়েছেন তাদের স্বজনরাও। ২০১০ সালে হাসপাতালটি ৬০০ শয্যা থেকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত হলেও দীর্ঘ ১৫ বছরেও জনবল বাড়েনি। ৬০০ শয্যার জনবল দিয়ে পাঁচ গুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। এই জনবল সংকটকেই অপরিচ্ছন্নতার মূল কারণ হিসেবে দেখছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পীরগাছার কান্দি থেকে আসা রোগীর স্বজন মজনু মিয়া বলেন, ‘অর্থোসার্জারি ওয়ার্ডের সামনে ময়লার দুর্গন্ধে থাকা যায় না। বাইরেও দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল। চারপাশে আবর্জনা। এখান থেকে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে জানালার পাশে বেডে থাকা রোগীরা বাইরে থেকে আসা দুর্গন্ধে অস্বস্তিতে থাকে। এমন পরিবেশ সবার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।’ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি থেকে আসা আরেক রোগীর স্বজন আল আমিন বলেন, ‘রোগী নিয়ে আসছি বাবা। তেলাপোকায় ভরা, দুর্গন্ধে থাকা যায় না।’ যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা নিতে গিয়ে প্রাণ গেলো কিশোরের

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘লোকবলের অভাবে হাসপাতাল যেভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন, সেভাবে সম্ভব হচ্ছে না। ২০১০ সালে ৬০০ শয্যার হাসপাতাল এক হাজার শয্যায় উন্নীত হয়েছে। অথচ এখনও ৬০০ শয্যার জনবল দিয়ে প্রায় তিন হাজার রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ফলে যথাযথভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হয় না। হাসপাতালের বাইরের অংশ সিটি করপোরেশনসহ যৌথভাবে পরিষ্কার করার কথা থাকলেও তাদেরও জনবলের অভাবে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা স্বল্প লোকবল দিয়ে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছি।’
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নকর্মীরা ওয়ার্ডের সামনে আবর্জনা ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, বর্জ্য অপসারণে রংপুর সিটি করপোরেশন ও প্রিয়জন বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করছে। মেডিকেল বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশনের আলাদা একটি ইউনিট রয়েছে। এ ছাড়াও অন্যান্য বর্জ্য নিয়মিত নির্ধারিত জায়গা থেকে পরিচ্ছন্নকর্মীরা অপসারণ করে থাকেন। এর বাইরেও মেডিকেল কর্তৃপক্ষ যে কোনো বর্জ্য অপসারণে সহযোগিতা চাইলে আমরা প্রস্তুত আছি।

আরও পড়ুনঃ  সাতকানিয়ায় পাহাড় কাটার সময় ৩ ‘মাটিখেকো’ আটক: বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ” নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে

রংপুর মেডিকেলে আইসিইউ ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়ায় কুকুর

আপডেটের সময়: ০৭:২৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

মো: মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ, রংপুর বিভাগ
হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুর। হাসপাতাল চত্বরজুড়ে ছড়িয়ে আছে আবর্জনা। মেডিকেল বর্জ্য পড়ে থাকায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা। এমন চিত্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রমেক)।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি থেকে আসা এক রোগীর স্বজন আনছার আলী বলেন, ‘আমার রোগী আইসিউতে ভর্তি। আমরা কোনো জায়গা না পেয়ে আইসিউর সামনে শুয়ে থাকি। এখানে আবর্জনার যে দুর্গন্ধ, সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। খুব কষ্টে আছি।’

এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। সঙ্গে রয়েছেন তাদের স্বজনরাও। ২০১০ সালে হাসপাতালটি ৬০০ শয্যা থেকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত হলেও দীর্ঘ ১৫ বছরেও জনবল বাড়েনি। ৬০০ শয্যার জনবল দিয়ে পাঁচ গুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। এই জনবল সংকটকেই অপরিচ্ছন্নতার মূল কারণ হিসেবে দেখছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পীরগাছার কান্দি থেকে আসা রোগীর স্বজন মজনু মিয়া বলেন, ‘অর্থোসার্জারি ওয়ার্ডের সামনে ময়লার দুর্গন্ধে থাকা যায় না। বাইরেও দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল। চারপাশে আবর্জনা। এখান থেকে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে জানালার পাশে বেডে থাকা রোগীরা বাইরে থেকে আসা দুর্গন্ধে অস্বস্তিতে থাকে। এমন পরিবেশ সবার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।’ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি থেকে আসা আরেক রোগীর স্বজন আল আমিন বলেন, ‘রোগী নিয়ে আসছি বাবা। তেলাপোকায় ভরা, দুর্গন্ধে থাকা যায় না।’ যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

আরও পড়ুনঃ  থানারহাট ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সভা

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘লোকবলের অভাবে হাসপাতাল যেভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন, সেভাবে সম্ভব হচ্ছে না। ২০১০ সালে ৬০০ শয্যার হাসপাতাল এক হাজার শয্যায় উন্নীত হয়েছে। অথচ এখনও ৬০০ শয্যার জনবল দিয়ে প্রায় তিন হাজার রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ফলে যথাযথভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হয় না। হাসপাতালের বাইরের অংশ সিটি করপোরেশনসহ যৌথভাবে পরিষ্কার করার কথা থাকলেও তাদেরও জনবলের অভাবে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা স্বল্প লোকবল দিয়ে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছি।’
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নকর্মীরা ওয়ার্ডের সামনে আবর্জনা ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, বর্জ্য অপসারণে রংপুর সিটি করপোরেশন ও প্রিয়জন বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করছে। মেডিকেল বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশনের আলাদা একটি ইউনিট রয়েছে। এ ছাড়াও অন্যান্য বর্জ্য নিয়মিত নির্ধারিত জায়গা থেকে পরিচ্ছন্নকর্মীরা অপসারণ করে থাকেন। এর বাইরেও মেডিকেল কর্তৃপক্ষ যে কোনো বর্জ্য অপসারণে সহযোগিতা চাইলে আমরা প্রস্তুত আছি।

আরও পড়ুনঃ  মাদারগঞ্জে গতকালের পর, আবারও আজ হিটস্ট্রোকে কৃষকের মৃত্যু.....