শফিকুল গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা এলাকায় সৎ, যোগ্য এবং মাদকমুক্ত জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জোরালো দাবি উঠেছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—যারা মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন এবং গরিবের চাল-গমসহ সরকারি ত্রাণ আত্মসাতের সাথে জড়িত, তারা যেন কোনোভাবেই চেয়ারম্যান বা মেম্বার পদে দলীয় মনোনয়ন না পান। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তর। কিন্তু বিগত সময়ে কিছু কিছু এলাকায় বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হওয়ায় এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং সামাজিক অবক্ষয় বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে মাদকের বিস্তার এবং দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, যারা সমাজে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে এবং অসহায় মানুষের হক নষ্ট করছে, তারা কখনোই জনগণের প্রকৃত সেবক হতে পারে না। তাই নির্বাচন ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরুর আগেই তারা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন, যেন কোনো চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী বা চাল চোরকে প্রতীক বা মনোনয়ন দেওয়া না হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "আমরা এমন নেতৃত্ব চাই যারা এলাকার উন্নয়ন করবে, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবে এবং গরিবের পাশে দাঁড়াবে। চোর ও মাদক কারবারিদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা আর দেখতে চাই না।"
এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, সুশাসন ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হতে হবে। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন ও সৎ ভাবমূর্তির তরুণ ও যোগ্য প্রার্থীদের এগিয়ে নিয়ে আসার জন্য তারা দলগুলোর নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সাথে, কোনো কারণে এমন কোনো ব্যক্তি প্রার্থী হলে সাধারণ ভোটারদেরও ভোটের মাধ্যমে তাদের বয়কট করার আহ্বান জানানো হয়েছে।