তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলীর উত্তর পাশে গন্ডামারা-সরল সীমান্তবর্তী নোয়াখালের মুখে অবস্থিত ওয়াফদার স্লুইস গেইট বন্ধ রেখে মাছের প্রকল্প পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, গন্ডামারা ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং পার্শ্ববর্তী সরল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ এই স্লুইস গেইট। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গেইটের কপাটে তক্তা লাগিয়ে মাছের প্রকল্প পরিচালনা করায় বর্ষার পানি বের হতে পারছে না। এতে পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মজিদ, মো. শফিক, মো. আব্দুল খালেক, মানিক, হান্নান, মামুন, সেলিম, আহমদ কবির, কামাল, নুরুল হক, মোজাফ্ফর ও আবু তাহেরসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সাহাব উদ্দিন, আলমগীর প্রকাশ বাদশা, জাহাঙ্গীর, দেলোয়ার, সুফি আলমসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র স্লুইস গেইট বন্ধ করে মাছের প্রকল্প পরিচালনা করছে। এর ফলে প্রায় ৩০০ কৃষকের ফসলি জমি, মৌসুমি সবজির ক্ষেত ও পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ৫০ থেকে ৬০টি বসতঘরে পানি ঢুকে মাটির দেয়াল ধসে পড়েছে।
কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, “আড়াই কানি জমিতে মরিচ ও বেগুন চাষ করেছিলাম। জলাবদ্ধতায় সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্য কৃষকরাও অভিযোগ করেন, স্লুইস গেইটের কপাটে লাগানো তক্তা সরিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাদের হুমকি-ধমকি দেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় কৃষি, মৎস্য এবং স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। একইভাবে স্থানীয় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ওসমান গণির মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে স্লুইস গেইট খুলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন