নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদাবাজি, হামলা ও হুমকির অভিযোগ; গ্রেপ্তারের পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজে ফিরেছেন রাজধানীর ভাটারা থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিনকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাহিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্টের পর ভাটারা এলাকায় শাহিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শাহিনের বিরুদ্ধে হামলা ও হুমকির অভিযোগও করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সাব-ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম। তার দাবি, গত মাসের ২ তারিখে তার প্রতিষ্ঠানে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এর পাঁচ দিন পর, ৭ তারিখে শাহপরান নামে তার এক কর্মীকে মুখোশ পরা অবস্থায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় শাহিন। পরে খবর পেয়ে সাইফুল ইসলাম শাহপরানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে গুলশান থানায় শাহিনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান তিনি। সাইফুল ইসলামের আরও অভিযোগ, গত ২১ ও ২২ আগস্ট ভোরে বারিধারা বর্জ্য ফেলার স্থানে গিয়ে তার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য হুমকি দেন সংশ্লিষ্ট গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বলা হয়, ‘আগে শাহিন ও লালন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলো, তারপর কাজ কর। এর আগে কোনো কাজ চলবে না।’
বিষয়টি সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সিটি প্রশাসককে জানানো হয়েছে বলে জানান সাব-ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম। তার ভাষ্য, পরবর্তীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পর পুলিশ শাহিনকে গ্রেপ্তার করে। সাইফুল ইসলামের আরও অভিযোগ, শাহিনের সঙ্গে আরও কয়েকজনের একটি গ্রুপ রয়েছে। তাদের মধ্যে ভাটারা থানার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহসভাপতি জসিম ঢালি, নয়ানগরের জনি, ভাটারা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হাসান মাহমুদ লালন, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন ও রফিক রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্যের জন্য চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তিনি আরও দাবি করেন, বৃহস্পতিবার শাহিন তাকে ফোন করে মামলা করার কারণ জানতে চান। মামলা প্রত্যাহার না করলে পরবর্তীতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন সাইফুল।
সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি তো ঠিকাদার। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব আমার। প্রশাসক ফোন করে জানতে চান, ময়লা কেন যাচ্ছে না। আমার স্টাফরা ভয়ে কাজ ছেড়ে দিয়েছিল। আজ শাহিনকে গ্রেপ্তারের পর তারা আবার কাজে ফিরেছে।
এদিকে শাহিনের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ এবং ঘটনার সঙ্গে শাহিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শাহিনের বিরুদ্ধে মামলার ওয়ারেন্ট ছিল। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”