মো: নাহিদ চৌধুরী। (কালিয়াকৈর উপজেলা প্রতিনিধি,গাজীপুর: বৃষ্টির পানিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। অতিবৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।পরিস্থিতি ভয়াবহ খারাপ জানান এলাকাবাসী। কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর উত্তর পাড়া ডেনিমএশিয়া লিমিটেড ফ্যাক্টরি আশেপাশে সকল রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়। বাদ পড়েনি দোকানপাট। ডেনিম এশিয়া লিমিটেড কোম্পানির কারণে এলাকার যেমন উন্নত হয়েছে।তেমনি ডেনিম এশিয়া ফ্যাক্টরি কারণে এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর হুমকির মুখে। এলাকাবাসীর দাবি ডেনিম এশিয়ার বাউন্ডারি সাথে পানি যাওয়ার জন্য ড্রেন আছে। ড্রেন পৌরসভা থেকে করে না দেওয়ার কারণে ডেনিম এশিয়া নিজ খরচে চুন্গী বসায়। যার কারণে পানি নিষ্কাশন দ্রুত গতিতে হতে পারে না। এলাকাবাসীর দাবি ডেনিম এশিয়া সাইড দিয়ে যে চুঙ্গি বসানো হয়েছে চুঙ্গি উঠিয়ে ড্রেন করার দাবি। একটা সময় ডেনিম এশিয়া ফ্যাক্টরি ছিল না তখন বৃষ্টি হত পানি হত, সাথে সাথে পানি নেমে যেত। এলাকায় কোন বাড়িতে রাস্তাঘাটে পানি উঠত না। বাসা বাড়ি ও দোকানপাটের ও ক্ষয়ক্ষতি হতো না।
ডেনিম এশিয়া ফ্যাক্টরি যেমন এলাকার উন্নয়ন ঘটিয়েছে, ঔ রূপে ডেনিম এশিয়া ফ্যাক্টরি তাদের চুঙ্গি উঠিয়ে জায়গাটা বড় করে দিবে যাতে এলাকার সকল বাড়িঘর ও দোকানপাট এবং রাস্তাঘাট জলবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়। এলাকাবাসী তেমনটি আশা করেন। বেশ কিছু মুরুব্বী অভিযোগ জানান যে আমরা ঘরের উপর খাটের উপর পানি উঠে গেছে আমরা ঘরে থাকতে পারতেছি না। মোঃ ফজল মিয়া জানান আমার বাড়ির নিচ তলা পানিতে ডুবে গেছে। ঘরে আমার বৃদ্ধ মা আছে। বৃদ্ধ মাকে আশ্রয় দেওয়ার মত জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না ফজল মিয়া। এবং কি ঘরে সাপ ও দেখা গেছে। আতঙ্কে মানুষ থাকতে পারতেছে না ঘরে। স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদ জানান বৃষ্টির কারণে দোকানে কোমোর সমান পানি। প্রচুর মালামাল নষ্ট হয়। ডেনিম এশিয়া ফ্যাক্টরি কে ঘিরে প্রায় ৫০ টি দোকান রয়েছে। ৩৫ টি দোকানে ধারণা করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। সকল দোকানদার ও বাড়িওয়ালাদের দাবি ডেনিম এশিয়া ফ্যাক্টরি যদি তাদের চুঙ্গি উঠিয়ে দিয়ে ড্রেনের জন্য জায়গা দেয় তাহলে এলাকায় আর জলাবদ্ধতা হবে না। এলাকাবাসী তেমনটি দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল রহিম জানান যে আমার বাড়িতে পানি উঠেছে ও ঘরে কোমর সমান পানি। বাসায় বৃদ্ধ মা ও পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে মহা বিপদে আছি। আব্দুর রহিম আরো জানান যে মার্কেটে ওনার দশটি দোকান আছে প্রত্যেকটা দোকানের পানি ঢুকেছে ও লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান উনার শোরুম সব ফ্রিজ পানির নিচে ও খাট থেকে শুরু করে মালামাল গুলো সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উনি আফসোস করে বলেন যে যদি ড্রেনের ব্যবস্থা ভালো হতো ও ডেনিম এশিয়ার বাউন্ডারির সাথে দিয়ে যে চুঙ্গি বসানো হয়েছে বসানো হয়েছে তা উঠিয়ে নিলে এবং বড় করে ড্রেন করে দিলে এলাকায় আর জলাবদ্ধতা হবে না। আব্দুর রহিম আরো জানান আমরা ছোটকাল থেকে দেখে আসছি এলাকায় বৃষ্টি হলে পানি হয় আবার সাথে সাথে নেমে যায় এখন আর তেমনটি হয় না।জলাবদ্ধতা এরিয়া সফিপুর পূর্ব পাড়া, সফিপুর উত্তর পাড়া, ডেনিমেশিয়া এক,দুই ও তিন নং গেট পানিতে তলিয়ে যায়। ডেনিম এশিয়া দুই নং গেট এরিয়া ছয় তালা ও ডেনিম এশিয়ার আশেপাশে পৌরসভা কর্তৃক কোনো ড্রেনের ব্যবস্থা নেই। কালিয়াকৈর পৌরসভা অফিস একদম নিকটে। তারপরেও সফিপুর উত্তরপাড়া ডেনিম এশিয়া ফ্যাক্টরি আশেপাশে বিশেষ করে ২ নং গেট ৩ নং গেট কোন ড্রেন এর ব্যবস্থা পৌরসভা করেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ এর ভিত্তিতে জানা যায়। এই এরিয়াতে প্রায় তিন হাজার বাড়িঘর আছে। ডেনিম এশিয়া ফ্যাক্টরির ২ নং গেটে একটি কালভার্ট আছে এই কালভার্ট দিয়ে মৌচাক, সফিপুর এরিয়ার প্রত্যেক বাড়ির পানি নিষ্কাশন হয় এই কালভার্টের নিচ দিয়ে ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এবার টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করেছে। অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে, ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি বেশ কিছু বসতবাড়িতেও পানি প্রবেশ করায় পরিবারগুলো ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান আমার সম্পূর্ণ বাড়ি তলিয়ে গেছে এবং কি করে কোমর সমান পানি খাট থেকে শুরু করে সমস্ত জিনিসপত্র ভিজে গেছে পরিবারের সকলের। তিনি আরো জানান একই বাড়িতে তিন ভাই ও বাপ মা সহ তারা বসবাস করে। সকলের রুমে পানি।
ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানে পানি ঢুকে বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেকেই সময়মতো দোকানের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে পারেননি।এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। কাদা ও পানিতে রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও কর্মজীবী মানুষদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ড্রেন পরিষ্কার এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
কালিয়াকৈরের বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিবছর বৃষ্টির সময় একই সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই সাময়িক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।